মাছচাষীর ঘর ভাংচুর

থানার সামনেই চাঁদাবাজদের আড্ডা ধরছে না পুলিশ

  রাজশাহী ব্যুরো ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর দুর্গাপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলার আসামিদের পুলিশ ধরছে না। বরং থানার সামনের চায়ের দোকানে আসামিরা আড্ডা দিচ্ছে। মামলার বাদী উপজেলার দেবীপুর মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আওয়াল মোল্লা (৩২) জানিয়েছেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোতালেব তাকে বলেছেন, আসামি না ধরার জন্য ‘উপর মহলের’ চাপ রয়েছে। তাই আসামিদের ধরা হচ্ছে না। বাদী আবদুল আওয়াল জানান, দেবীপুর বাগিচাপাড়া গ্রামের ডাহার বিলে তার একটি পুকুর রয়েছে। এতে তিনি মাছচাষ করেন। ২৫ মে সকালে তিনি এবং তার পাহারাদার কাওসার আলী (৩২) পুকুরপাড়ে তৈরি টিনের ছাপড়া ঘরে বসে পুকুর পাহারা দিচ্ছিলেন। এ সময় বাছের প্রামাণিকের ছেলে আজিজুর রহমান (৪৫), ইনছের আলীর ছেলে জালাল উদ্দিন (৪২), আলতাব আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), আজিজুর রহমানের ছেলে শাওন রহমান (২২) ও মজিবর রহমানের ছেলে সফির বাবু ওরফে দিনু (৩৫) এসে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা বলেন, পুকুরে মাছ চাষ করতে হলে তাদের পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা কুড়াল, হাঁসুয়া এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে ছাপড়া ঘর ভেঙে ফেলে। আর ঘরে থাকা ৮০ হাজার টাকার মাছের খাবার পানিতে ফেলে দেয়া হয়। এছাড়া পুকুরপাড়ে থাকা ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলে।

তিনি বলেন, চাঁদা না দেয়ার কারণে তারা আমার দুই লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। কিন্তু পুলিশ আসামিদের ধরছে না। ওসি বলেছেন, ‘উপর মহলের’ চাপ আছে। আসামি ধরা যাবে না। তাই বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করেছি। পুলিশ সুপার আমাকে দুর্গাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবুল কালাম আজাদের কাছে পাঠান। সেখানেও যাই। কিন্তু রোববার বিকাল পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেফতার হয়নি।

মামলার বাদী জানান, থানা থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে আসামিদের বাড়ি। থানার মোড়েই তারা চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়। রোববার সকালেও মামলার প্রধান আসামি আজিজুর রহমান ওই চায়ের দোকানে বসেছিল। আসামিরা এখন মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। মামলা না তুললে আরও বড় ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে। মামলা করে এখন নিজেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আসামি গ্রেফতার না করার বিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোতালেব বলেন, আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে রাজশাহীর এসপি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, আসামি ধরা যাবে না- এ রকম কোনো চাপ উপর মহল থেকে নেই। আসামিরা যেন দ্রুত ধরা পড়ে, সে নির্দেশ ওসি আবদুল মোতালেবকে দেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×