বন্দুকযুদ্ধে ভ্যানচালক নিহত

ছাতক পৌর মেয়রের পাঁচ ভাইয়ের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

  ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিল্পনগরী ছাতকে বন্দুকযুদ্ধে নিরীহ ভ্যানচালক নিহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীসহ তার পাঁচ ভাইয়ের পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এ খবর জেলা প্রশাসন রোববার যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে।

শনিবার পাঁচ ভাইয়ের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের আদেশ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এ আদেশের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকটি দফতরে পাঠানো হয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী লাইসেন্সগুলো বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৩০০ থেকে ৪০০ জন লোক বেআইনিভাবে সমাবেশ করে দাঙ্গায় লিপ্ত হয়। উভয় পক্ষের লোকজন গুলিবর্ষণ করে। এ কারণে এক ভ্যানচালক নিহত হয়। পুলিশের সদস্য ও সাধারণ লোকজন গুরুতর আহত হয়। পুলিশের ওপর হামলা, হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলো হল- ছাতক বাগবাড়ির আরজ মিয়া চৌধুরীর ছেলে শাহীন আহমদ চৌধুরীর একটি ডিবিবিএল বন্দুক, তার ভাই জামাল আহমদ চৌধুরীর পর্তুগালের তৈরি একটি এসবিবিএল বন্দুক, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরীর একটি শটগান, কামাল চৌধুরীর তুরস্কের তৈরি একটি শটগান, আহমদ সাখাওয়াত চৌধুরী সেলিমের তুরস্কের তৈরি একটি শটগান। ১৪ মে রাতে ছাতকের সুরমা নদীতে টোল আদায় ঘিরে ছাতক পৌর মেয়র কালাম চৌধুরী এবং তার ভাই জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক শামীম আহমদ চৌধুরীর গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিরীহ ভ্যানচালক সাহাবউদ্দিন (৪৫) নিহত হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। এ ঘটনায় ছাতকের ওসি, দুই এসআই এবং চার কনস্টেবল আহত হন। সাহাবউদ্দিন পৌর শহরের আবদুস ছোবানের পুত্র।

এ ঘটনায় পরদিন পুলিশ পৌরসভার ৯ কাউন্সিলরসহ ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আড়াই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। এরপর সাহাবউদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করেন। ১৭ মে ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সুরমা নদীতে বালু, পাথর ও সিমেন্ট পরিবাহী কার্গো, জাহাজ ও বাল্ক হেড নৌকা থেকে চাঁদা সংগ্রহে সম্প্রতি ছাতক পৌর মেয়র কালাম চৌধুরী ও ৯ কাউন্সিলর জোট বেঁধে ‘শাহজালাল সমিতি’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেন। এ সংগঠনের ব্যানারে নৌযান থেকে টোল আদায়ের নামে চাঁদা উত্তোলন করা হতো। এ নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখির জের ধরে কালাম চৌধুরী ও তার ভাই শামীম চৌধুরীর গ্রুপের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে ১৪ মে রাতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জামাল চৌধুরী, তার চাচা এলাইস চৌধুরীসহ ২৮ জনকে আটক করে এবং পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×