বৈরী আবহাওয়ায় বরিশালে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। কিন্তু সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করে বরিশালসহ সারা দেশে। যার কারণে বরিশাল লঞ্চঘাট ও ঢাকা সদরঘাট থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ৫ ঘণ্টা কোনো লঞ্চকে ঘাট ছাড়ার অনুমতি দেয়নি বিআইডব্লিউটিএ। এ কারণে যাত্রীরা ভিড় জমাতে থাকে লঞ্চঘাট এলাকায়। তবে ৫ ঘণ্টা পর লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ। আকাশ মেঘলা থাকায় যাত্রীদের মধ্যে বিরাজ করে আতঙ্ক। যার কারণে অনেকে আবার সদরঘাট এসে ফিরে গেছেন।

বরিশালগামী তেমনি এক যাত্রী জহিরুল ইসলাম জুয়েল তার লঞ্চযাত্রা বাতিল করে ইলিশা মাওয়া রুটে বরিশালে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, রোববার সকালে বরিশালের উদ্দেশে লঞ্চে রওনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু ঘাটে এসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে লঞ্চে বরিশালে যাওয়ার সাহস হয়নি। তাই ইলিশা মাওয়া হয়ে বরিশাল যাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা ও নৌ-নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, সকালে হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বাতাস শুরু হওয়ায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কোনো লঞ্চকে ঘাট ছাড়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অধিদফতর নৌবন্দরকে ২ নম্বর নৌ-হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে। তবে ঝড়ো হাওয়ার কারণে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়। আবহাওয়ার উন্নতি হলে বেলা ৩টায় লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ঈদের আর কয়েকটা দিন বাকি থাকায় মানুষের স্রোত নেমেছে লঞ্চ ও বাসে। রোববার বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৭টি লঞ্চ বরিশাল লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছেছে। বৈরী আবহাওয়া না থাকলে এর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেড়ে যেত। তবে ৫ ঘণ্টা লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার চাপ বিকাল ও সন্ধ্যায় পড়বে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিকরা।

হারুন-অর-রশিদ নামে এক যাত্রী বলেন, অনেক ঘোরাঘুরি করেও লঞ্চে কেবিন পাইনি। তবে আড়াই হাজার টাকায় একটি স্টাফ কেবিন নিয়েছি। কিন্তু ৪ জনের ২ জন সেখানে থাকতে পারছি। বাকি দু’জনকে ডেকে স্থান পেতে হয়েছে। ডেকে স্থান পেতেও লঞ্চের স্টাফকে ১০০ টাকা দিতে হয়েছে। যাত্রী ভাড়া তো রয়েছেই।

এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তায় বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বরিশাল সদর নৌ-থানা পুলিশ, মেট্রোপলিটনের কোতায়ালি মডেল থানা পুলিশ, বরিশাল সদর ও নৌ-ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। যার মধ্যে কোতোয়ালি থানা পুলিশের নারী সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি পন্টুন ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×