কলমানি মার্কেটে ব্যাপক চাপ

সাত দিনে ৪১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন

  হামিদ বিশ্বাস ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস সোমবারও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকা লেনদেনের চাপ ছিল। গ্রাহকের টাকা তোলার বাড়তি চাহিদা মেটাতে অনেক ব্যাংককেই আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। কলমানি হল- দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে এক ব্যাংকের আরেক ব্যাংক থেকে নগদ টাকা ধার করা। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কলমানি লেনদেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময় লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া এটিএম বুথেও উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথে সোমবার টাকা তুলতে গ্রাহকদের ভিড় করতে দেখা যায়। কয়েকটি বুথে গ্রাহকদের লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। মাহবুব ইসলাম নামের একজন গ্রাহক যুগান্তরকে বলেন, এটিএম বুথ থেকে দ্রুত টাকা তোলা যাচ্ছে না। যে কোনো নির্দেশ দিলে শুধু ঘুরতে থাকে। অর্ডার কার্যকর হয় কয়েক মিনিট পরে।

বিভিন্ন ব্যাংক সূত্র জানায়, শুধু এটিএম বুথ নয়, নগদ লেনদেন বেড়েছে ব্যাংকের দৈনিক কর্মকাণ্ডেও। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লেনদেন হয়েছে ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ও সদরঘাট কর্পোরেট শাখার ম্যানেজার আবুল বাশার যুগান্তরকে বলেন, ঈদের আগে শেষ কার্যদিবস সোমবার নগদ লেনদেন দ্বিগুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, নগদ লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। স্বাভাবিক দিনে দৈনিক লেনদেন হতো ১ থেকে দেড় কোটি টাকার মতো। একইসঙ্গে লেনদেনের সংখ্যাও বেড়েছে। স্বাভাবিক দিনে ১০০ থেকে ১৫০টি লেনদেন হলেও সোমবার হয়েছে প্রায় ৩০০টি লেনদেন।

রূপালী ব্যাংকের ঢাকা সেন্ট্রাল জোনের ২২টি শাখার দায়িত্বে থাকা উপ-মহাব্যবস্থাপক শাহেদুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে এদিন অন্যান্য দিনের তুলনায় নগদ টাকার লেনদেন দ্বিগুণ বেড়েছে। পাশাপাশি জালিয়াতি রোধে সব মফস্বল শহরের ভল্ট থেকে বিপুল অংকের টাকা প্রধান কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২২ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক কলমানি মার্কেটে লেনদেন হয়েছে ৪০ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৮ মে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এক সপ্তাহ আগে ২০ মে এই বাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল মাত্র তিন হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।

জানা গেছে, বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকই তারল্য সংকটে ভুগছে। এদের মধ্যে কিছু কিছু ব্যাংক তাদের স্বাভাবিক ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড চালাতেও হিমশিম খাচ্ছে এবং তারা নতুন ঋণ বিতরণ বন্ধ রেখেছে। চলমান বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ বিতরণও করতে পারছে না কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে ঋণ ও আমানত রেশিও (এডিআর) সমন্বয়ে চাপ, আশানুুরূপ নতুন আমানত না আসা, ডলার বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও বিশ্বমানের ব্যাংকিংয়ের (ব্যাসেল-৩) আওতায় বাড়তি মূলধন সংরক্ষণের কারণে অনেক দিন ধরেই তারল্য সংকটে ভুগছে ব্যাংকিং খাত। বিশেষ করে ঈদের আগে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। গ্রাহকের নগদ টাকা তোলার চাপ এবং অর্থবছরের শেষদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ বাড়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখনও ১৩-১৪টি ব্যাংকের ঋণ-আমানত রেশিও (এডিআর) সীমার বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী খাতের ব্যাংকই রয়েছে পাঁচটি। বাকিগুলো প্রচলিত ধারার বেসরকারি ব্যাংক। তবে সরকারি খাতের ব্যাংক ছাড়া বেশিরভাগ ব্যাংকেরই এডিআর সীমার কাছাকাছি রয়েছে। ফলে এসব ব্যাংকও আমানত না বাড়িয়ে নতুন ঋণ বিতরণ করতে পারছে না। নগদ টাকা তোলার বাড়তি চাপে তারাও তারল্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×