অপমানে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহীতে উল্টো ধর্ষকদের হুমকিতে ভিকটিমের পরিবার

  রাজশাহী ব্যুরো ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত ২৩ এপ্রিল অপহৃত হন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষা। অভিযোগ ওঠে, সহপাঠীর সহায়তায় অপহরণের পর বর্ষাকে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী বখাটে মুকুল হোসেন। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে গিয়ে অপমানিত হন বর্ষার বাবা। থানায় আইনি সহায়তা না পাওয়ার পর থেকে বর্ষাকে নিয়ে বিভিন্ন লাঞ্ছনা-গঞ্জনা শুরু হয়। সমাজের মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য আর একপাক্ষিকভাবে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে দায়ী করায় বিষিয়ে ওঠে বর্ষার মনও। যা সইতে না পেরে গত ১৬ মে চিরকুট লিখে নিজের ঘরে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বর্ষা।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ২৩ এপ্রিল অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় থানায় করা অভিযোগ বর্ষার আত্মহননের পর মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। পরে ১৭ মে আত্মহত্যার ঘটনায় আরেকটি মামলা করা হয়। দুই মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর যথাযথ আইনি সহায়তা না দেয়ায় মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেনকে প্রত্যাহার করার পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনার পর প্রশাসনের সাড়া পাওয়ায় বিচার পাবেন বলে আশায় বুক বেঁধেছিলেন মোহনপুরের বিলাপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নান। তবে ঘটনার তাৎক্ষণিকতা শেষ হতে না হতেই বর্ষার পরিবার পড়েছেন নতুন বিপাকে। গ্রেফতার হওয়া আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গ্রামে ফিরে হুমকি-ধমকি আর কটু কথায় অতিষ্ঠ করে তুলছে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে। মেয়ে হারানোর বেদনা কাটিয়ে না উঠতেই আসামিপক্ষের হয়রানি ও হুমকি-ধমকিতে ফিকে হয়ে পড়েছে বর্ষার পরিবারের ঈদ আয়োজনও। বিষয়টি পুলিশকে জানালেও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না বর্ষার পরিবার।

বর্ষার বাবা আবদুল মান্নান বলেন, আসামি ইদ্রিস, রহমান, ইসাদুল, মকবুল ও সাইফুরের পরিবারের লোকজন আমাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, আমার আরও দুই মেয়ে রয়েছে। তারা বাড়ির বাইরে গেলেই বিভিন্ন কটু কথা বলছে এবং অশোভন আচরণ করছে। আমরা যাতে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাই, সেই জন্য কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। আমি নিরুপায়, কী করব কিছুই বুঝতেছি না।

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, স্কুলছাত্রী বর্ষার আত্মহননের ঘটনার পর পুলিশ গুরুত্বসহকারে বিষয়টি তদন্ত করছে। গোয়েন্দা পুলিশ মামলা দুটির তদন্ত করছে। মামলার তদন্ত কাজও বেশ এগিয়েছে। তিনি বলেন, আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়েছে। তবে আমরা বর্ষার পরিবারের কোনো সদস্য যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছি। প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে।

আত্মহত্যার আগে বর্ষা লিখে যাওয়া চিরকুটে উল্লেখ করেন, একটা মেয়ের কাছে তার মান-সম্মানটাই সবচাইতে বড়। আমি আমার লজ্জার কথা সবাইকে বলতে বলতে নিজের কাছে অনেক ছোট হয়ে গেছি। প্রতিদিন এসব পরপুরুষের কাছে আর বলতে পারছি না। অপরাধীকে শাস্তি দিলেই তো আমার মান-সম্মান ফেরত পাব না। তাই আমাকে ক্ষমা করো।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×