বিএসএমএমইউ

বিক্ষোভের মুখে নিয়োগ পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত

শিক্ষক লাঞ্ছিত, অবিলম্বে পুলিশ প্রত্যাহারের দাবি * ভিসির কার্যালয় ভাংচুর

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে পুলিশ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবিলম্বে ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, চিকিৎসক নিয়োগে সোমবার যে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছিল, সেটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা হবে নাকি চালিয়ে নেয়া হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মৌখিক পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় বিক্ষোভকারীরা মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, বেলা ১১টার দিকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক আহসান হাবীবকে পুলিশ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এমনকি ভিসির কার্যালয়ের একই ভবনের চতুর্থ তলায় পাবলিক হেলথ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিজয় কুমার পাল নিজ অফিস কক্ষে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে আটক করে মারধর করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক এবং স্বাচিপ নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে দিয়ে ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানান। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করতে ভিসিকে তারা অনুরোধ করেন। এ সময় বিক্ষাভরত শিক্ষার্থীরা ভিসির কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং ভিসির পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেয়। এরই মধ্যে একটি গ্রুপ ভিসির কার্যালয় ভাংচুর চালায় এবং সেখানে ব্যাপক হইচই করে।

এ প্রসঙ্গে পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিজয় কুমার পাল যুগান্তরকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে নিজ কার্যালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকের ৪ তলায় ৩০৯ নম্বর কক্ষে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। তারা ঘুষি দেয় ও পায়ে লাথি মারে এবং এক পর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে। সহকারী প্রক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক আহসান হাবীবকে লাঞ্ছিত করে পুলিশ। এছাড়া হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. নিরুপম চৌধুরী, মেডিকেল অফিসার আতিকুজ্জামান ও জাকির হোসেন পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাচিপ নেতারা জানান, কয়েকদিন ধরে চলা উত্তপ্ত পরিস্থিতির বিষয় নিয়ে তারা ভিসির সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে পরিস্থিতি অন্য রকম হয়ে যায়। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের দু’তিনজন কর্মকর্তার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা ভিসিকে সামনে রেখে নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। অথচ সব দায় এসে পড়ছে ভিসির ওপর।

এদিকে বিক্ষোভরত চাকরিপ্রার্থীরা যুগান্তরকে বলেন, বিএসএমএমইউ’র বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে অনিয়ম করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দিতে চাচ্ছে। যারা ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেষ্ট, পুলিশ দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। পুলিশ তাদের ওপরও নির্যাতন চালিয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বেলা ২টার দিকে চাকরিপ্রার্থীরা ভিসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে বটতলায় অবস্থন নেন। তারা জানান, নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×