সিলেটে আ’লীগ নেতা খুনের রহস্য উদঘাটন, ৩ ঘাতকই বিদেশে

  সিলেট ব্যুরো ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে রাতের আঁধারে খুন করা হয়েছিল কুয়েত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আবদুল আহাদকে। এর আগের দিন ৩০ আগস্ট ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওরায়দুল কাদেরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশের আশপাশে আহাদকে হত্যার চেষ্টা চালায় ঘাতকচক্র। পরদিন পাওনা টাকা নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আহাদকে খুন করে ঘাতকরা। হত্যায় অভিযুক্ত ছয়জনের মধ্যে তিনজনই ইতিমধ্যে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, গ্রেফতার রয়েছে দু’জন। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে নানা রহস্য দেখা দিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। অবশেষে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত। তাকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল ছয়জন। এর মধ্যে পরিকল্পনাকারী একজন এবং অপর পাঁচজনই ছিল সরাসরি কিলিংয়ে। অনেকটা চুপিসারে আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর অনুপ কুমার চৌধুরী।

চার্জশিটে অভিযুক্ত ছয় আসামি হচ্ছে- ফখরুল ইসলাম শান্ত (৩৬), মাহমুদুর রহমান লায়েক (২৮), মুরাদ হোসাইন রানা (২৫), সোহেল আহমদ জালাল (২৭), হোসেন মুরাদ চৌধুরী (৪১) ও অভিষেক চক্রবর্তী প্রকাশ মিথুন (২৫)। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ছয় আসামির মধ্যে হত্যা পরিকল্পনাকারী আসামি কুয়েত প্রবাসী হোসেন মুরাদ চৌধুরী ২০১৮ সালের ৬ এপ্রিল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন। আহাদকে হত্যার সব আয়োজন করে দিয়ে তিনি ২০১৮ সালের ২৩ আগস্ট আবার বিদেশে পাড়ি জমান। এরপর আসামি মাহমুদুর রহমান লায়েক হত্যাকাণ্ডের পর ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন। আরেক আসামি সোহেল আহমদ জালাল ২৪ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে দেশ ছাড়লেও আর ফেরেননি। গ্রেফতার রয়েছেন আসামি ফখরুল ইসলাম শান্ত ও মুরাদ হোসাইন রানা। চার্জশিটে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, সিরাজুল ইসলাম সুরুকী ও শহিদুল ইসলাম মামুনকে। ১৬ এপ্রিল অনেকটা চুপিসারে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। চার্জশিট নং-১৩৫/১৯।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার এসআই অনুপ কুমার চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, কুয়েত প্রবাসী মুরাদের পরিকল্পনায় পাঁচজন মিলে আবদুল আহাদকে খুন করা হয়। মোবাইলের কললিস্ট ও আসামি মুরাদ হোসাইন রানার দেয়া জবানবন্দির সূত্র ধরে হত্যা রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পাওনা টাকার জন্যই আহাদকে খুন করা হয়। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হোসেন মুরাদ চৌধুরীও একজন কুয়েত প্রবাসী। দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে আহাদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা ধার নেন মুরাদ। পরে টাকা পরিশোধ করেননি মুরাদ। পাওনা টাকার জন্য তাগিদ দিতে থাকলে আহাদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মুরাদ।

২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট রাতে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আহাদ হত্যার ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাসনা বেগম বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল আহাদের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মেদেনীমহল গ্রামে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×