নরসিংদীতে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা

আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে, পরিবারকে হত্যার হুমকি

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ পিবিআইয়ের বিরুদ্ধে

  নরসিংদী প্রতিনিধি ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নরসিংদীর হাজীপুরে দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পৌনে দুই মাস হলেও হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। আদালতে মামলা করলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। থানায় মামলা রুজু না হওয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে স্কুলছাত্রীর হত্যাকারীরা। মাদক ব্যবসায়ীর অব্যাহত হুমকির মুখে ভয়ে ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের গাফিলতির কারণে বিনা বিচারে ধুঁকছে আগুনে দগ্ধ হয়ে নিহত স্কুলছাত্রীর পরিবার। অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় এখনও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযুক্তদের বিচার ও গ্রেফতার দাবিতে সোচ্চার নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

মাদক ব্যবসায় জড়িত না হওয়ায় ২১ এপ্রিল রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নরসিংদীর হাজীপুরের দশম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী জান্নাতি আক্তারের (১৬) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় পাষণ্ড স্বামী শিপলু, শাশুড়ি ও ননদ। দীর্ঘ ৪০ দিন দগ্ধ যন্ত্রণায় কাতরানোর পর অবশেষে চলে যায় না ফেরার দেশে। নিহত জান্নাতির বাবা শরীফুল ইসলাম খান বলেন, মেয়ের শরীরে আগুন দেয়ার পরপরই থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আদালতে মামলা করি। আদালত থেকে পিবিআইকে তদন্ত দেয়া হলেও তারা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি। হত্যাকারীরা আমাদেরকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। মামলা করলে আমার ছোট মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে। একই সঙ্গে আমাদের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দিচ্ছে।

মুক্তিযোদ্ধা বাবা শরীফুল ইসলাম খানের ভাতা ও চা বিক্রির টাকায় চলে তাদের সংসার। নিহত জান্নাতির মা হাজেরা বেগম বলেন, মেয়েটাকে ফুসলিয়ে তারা তুলে নিয়ে যায়। সে যখন তার ভুল বুঝতে পেরেছে, তখন তাদের বাড়ি থেকে চলে এসেছে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন জোর করে তাকে নিয়ে যায়। আমরা গরিব, তাই বাধা দিয়ে রাখতে পারিনি। তিনি বলেন, জান্নাতির শ্বশুরবাড়ির লোকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাই তারা পুলিশ ও আইনকেও তোয়াক্কা করে না। তাদের বিরুদ্ধে ১০-১২টি মামলা আছে। রয়েছে পুলিশের সঙ্গে সখ্য। তাই আমাদের মামলাও নেয় না থানা পুলিশ।

মৃত্যুর আগে জান্নাতি আগুন দিয়ে পোড়ানোর বর্ণনা দিয়ে গেছে। হাসপাতালে পাশের বেডে থাকা এক রোগী তার ভিডিও ধারণ করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছিল সে। তীব্র ব্যথা সইতে না পেরে দরিদ্র বাবার কাছে ব্যথানাশক একটি ইনজেকশন দেয়ার আকুতি জানায়। জান্নাতির বাবা বলেন, একটি ইনজেকশনের দাম সাত হাজার টাকা। আরেকটির দাম ৩৮শ’ টাকা। আমি দরিদ্র চা বিক্রেতা। এত টাকা পাব কোথায়? তাই মেয়ের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে পারিনি। শুধু একটাই দাবি, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। নিহত জান্নাতির বীর মুক্তিযোদ্ধা দাদা সিরাজুল ইসলাম খান বলেন, জীবন দিয়ে মাদককে ‘না’ বলে গেছে জান্নাতি। মাদক ব্যবসায়ী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কঠোর বিচার চাই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল সরকার বলেন, নরসিংদীতে ফেনীর নুসরাতের মতো আরও একটি ঘটনার জন্ম দিয়েছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বললেও পিবিআই পুলিশ তা দেয়নি। তাই মামলার কার্যক্রম বিলম্ব হচ্ছে। আসামিও গ্রেফতার হচ্ছে না।

নরসিংদী পুলিশ ব্যুরো-অব-ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপার এআরএম আলিব বলেন, সিআর মামলা তদন্ত করতে একটু সময় লাগে। তার ওপর এটি একটি হত্যা মামলা। ঘটনাটিও বড়। তাই স্বচ্ছ ও সঠিক চিত্র উঠিয়ে আনতেই সময় লাগছে। ইতিমধ্যে আমরা প্রাথমিক তদন্তে জান্নাতির গায়ে আগুন দেয়া ও পরে হত্যার ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আরও কিছু বিষয় আছে সেগুলো শেষ হলেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে। আসামি গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিআর মামলায় পিবিআইয়ের গ্রেফতার করার বিধান নেই। তবে আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করলে আমরা গ্রেফতার করতে পারি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×