পরিবেশমন্ত্রীর শহরে আবর্জনার ভাগাড়

ময়লা নিষ্কাশন ১৫ দিনে একবার : মেয়র * পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ : স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

  আজমল খান, সিলেট ব্যুরো ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আবর্জনা

পর্যটকদের আগমনে মুখরিত থাকে গোটা এলাকা। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মায়াবী ঝরনার টলমলে স্বচ্ছ পানি দেখার জন্য পর্যটকদের ভিড় প্রায় সারা বছরই থাকে এখানে।

বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে উপচে পড়া ভিড় থাকে সিলেট অঞ্চলে। হোটেল মোটেলে কোনো সিট খালি পাওয়া যায় না। পর্যটকরা দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়ান। জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ছাড়াও এক নজর মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত না দেখলে ভ্রমণপিপাসুদের যেন সব কিছুই অপূর্ণ থেকে যায়।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে গেলে পাহাড়ি জনপদ ও চা বাগান পরিবেষ্টিত বুবারথলও অনেকেই ঘুরে আসেন। পাহাড়ের শান্ত-শীতল পরিবেশের বুবারথলেও রয়েছে প্রাকৃতিক নানা বৈচিত্র্য। কিন্তু সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে প্রকৃতিপ্রেমীরা পড়েন নানা ভোগান্তিতে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের এ শহরের প্রবেশ পথের মুখেই পচা দুর্গন্ধ।

বড়লেখা-শাহবাজপুর মহাসড়কের পাশে গ্রামতলা এলাকায় ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। এ সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ফলে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। ময়লা থেকে রোগ জীবানু ছড়ানোর ফলে বয়োঃবৃদ্ধ ও শিশুরা নতুন নতুন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শরীরে দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন সমস্যা। শিশুদের কাশি ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে, এমন অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। খোদ বন পরিবেশ ও জলবায়ুমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের এলাকায় এ চিত্র। দুর্গন্ধের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।

স্থানীয়রা জানান, জনবহুল এ এলাকা দিয়ে উত্তর শাহবাজপুর, দক্ষিণ শাহবাজপুর ও নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার বাসিন্দা, পাঁচটি হাইস্কুল, চারটি কলেজ, দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছাড়াও হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। জনমত উপেক্ষা করে বড়লেখা পৌরসভা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এর আগে গাজিটেকা এলাকায় ময়লা ফেলা হতো।

এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করে পৌরসভা। কিন্তু এরপর থেকে শহরের সব আবর্জনা গ্রামতলায় মহাসড়কের পাশে ফেলা হয়। জনরোষের কারণে দিনে না ফেললেও রাতের অন্ধকারে আর্বজনা ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন স্থানীয় জনগণ।

পরিবেশ কর্মী ও গ্রামতলার বাসিন্দা তোফায়েল আহমদের অভিযোগ, বারবার বলার পরও ময়লা ফেলে এলাকার সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত আমাদের এলাকার সৌন্দর্য ধ্বংস করা হচ্ছে। স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছে না। যারা জলবায়ু ও পরিবেশ নষ্টের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র ছয়েফ মোহাম্মদ আলী আকবর চৌধুরী বলেন, যাওয়া-আসার সময় উৎকট দুর্গন্ধে বমি চলে আসে, নাকে রুমাল চেপে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের দারুণ অসুবিধা হচ্ছে। অনেকের শ্বাসকষ্ট রোগ দেখা দিয়েছে। অচিরেই ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা না হলে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে তিনি জানান।

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আল ইমরান বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলায় জনগণের অসুবিধা হওয়ার কারণে পৌর মেয়রকে অনুরোধ করেছি। তিনি শিগগিরই সরিয়ে ফেলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য কোনো জায়গা বরাদ্দ নেই, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। এ এলাকার ক্লিনার পেশার লোক নেই, অন্য এলাকা থেকে এ পেশার লোক আনতে হয় বিধায় জনবল সংকট রয়েছে। ১৫ দিন পরপর পৌর শহরের ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এ প্রতিবেদক মাসে দু’দিন আবর্জনা পরিষ্কার করলে পৌর নাগরিকদের দুর্ভোগ বাড়বে প্রশ্ন করলে তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×