চট্টগ্রামে পাহাড়ে গতি নেই উচ্ছেদ অভিযানে

ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বেগ

ঝুঁকিপূর্ণ ১৭টি পাহাড় অবৈধ দখলমুক্ত করার নির্দেশের দু’মাস পার হলেও কার্যকর হয়নি

  এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্ণ

চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদে গতি নেই। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলেও এরই মধ্যে পাহাড় দখল করে গড়ে উঠেছে নতুন বসতি।

রমজান মাসে মানবিক দিক বিবেচনায় উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা হয়। এরপর নতুন করে আর কোনো অভিযান চালানো হয়নি। প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ অবস্থায় নগরীতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নগরীর অর্ধশতাধিক পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ।

চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টিপাত হলে বালির পাহাড়গুলোতে ধসের সৃষ্টি হয়। এতে পাহাড়ে বসবাসকারীদের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। প্রতি বছরই বর্ষা শুরুর আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ব্যাপক হাঁকডাক দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে তা থেমে যায়। উচ্ছেদ হওয়া লোকজন আবারও পাহাড়ে এসে বসবাস শুরু করেন। গত এক যুগে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটেছে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমেই (আষাঢ়-শ্রাবণ) পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বেগে থাকেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর নগরীর আকবর শাহ থানার ফিরোজ শাহ কলোনিতে মা-মেয়েসহ ৪ জন নিহত হন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিমালিকানাধীন মিলিয়ে ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। তবে এই তথ্য নির্ভরযোগ্য নয় বলে মনে করেন অনেকে। কারণ শুধু লালখানবাজার মতিঝর্ণা পাহাড় ও এর পাদদেশেই বসবাস করছেন ৮-১০ হাজার মানুষ। এ ধরনের অর্ধশতাধিক পাহাড়ে লক্ষাধিক মানুষ বসবাস করছে।

এদিকে আষাঢ়ের শুরুতে চট্টগ্রামে ভারি বর্ষণ হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘শনিবার ৬৭ কিলোমিটার বেগে ঝড় হয়। সেই সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয় কিছু সময়ের জন্য। এ সময় ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।’

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৬ এপ্রিল পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে। ওই সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ পাহাড় অবৈধ দখলমুক্ত করতে নির্দেশ দেন। এরপর দুই মাস পার হলেও পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস রয়ে গেছে। এর মধ্যে দু’বার কিছু পরিবার উচ্ছেদ করলেও পুনরায় ফিরে এসেছে তারা।

ওই সভায় পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন জানান, চট্টগ্রামে ১৭টি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। এসব পাহাড়ের মধ্যে ১০টি পাহাড় ব্যক্তি মালিকানাধীন। বাকি সাতটির মালিক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, রেলওয়ে, চট্টগ্রাম ওয়াসা, গণপূর্ত ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ।

পাহাড় দখলমুক্ত করার নির্দেশের পর ২ ও ৪ মে দুটি অভিযানে নগরীর লালখান বাজার মতিঝর্ণা, পোড়া কলোনি, উত্তর পাহাড়তলীর লেকভিউ আবাসিক এলাকা এবং আমবাগান এলাকার একে খানের পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে সাড়ে তিনশ’র মতো পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে ওইসব এলাকার ৪১টি বিদ্যুতের অবৈধ মিটার ও একটি ট্রান্সফরমার বিচ্ছিন্ন করা হয়। একটি অবৈধ ট্রান্সফরমার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপে বিচ্ছিন্ন না করে ফিরে আসতে হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতকে। ওই সময় রোজার কারণে মানবিক দিক বিবেচনায় উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে প্রশাসনের দাবি।

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরাতে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত। দুর্যোগকালীন সময় ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো যায় না। তবে পাহাড়ের মালিক চাইলে যেকোনো সময় অবৈধ বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করতে পারেন।’

উচ্ছেদ কার্যক্রমের আহ্বায়ক ও পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরীর পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক জানান, আগামী ২৪ জুন সভা ডাকা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে কিনা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×