ইসলামিক ফাউন্ডেশনে অচলাবস্থা

ডিজির পাশে নেই আস্থাভাজনরাও

আত্মীয়রাও পদত্যাগ চান * পদত্যাগ নয় ৩ দিনের ছুটি চেয়েছেন সামীম * ডিজি নিজেই পদত্যাগ করবেন -ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

  উবায়দুল্লাহ বাদল ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজির পাশে নেই আস্থাভাজনরাও

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) ‘চেইন অব কমান্ড’ ভেঙে পড়েছে। শনিবার থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজাল সিদ্ধান্ত নিয়েও পদত্যাগ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু সোমবার ইফার ২০ পরিচালক তার সঙ্গে বৈঠক করে ডিজির পদত্যাগ চাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে উঠেছে।

এদের মধ্যে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ জন পরিচালক আছেন যারা ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের আস্থাভাজন। মঙ্গলবার ডিজির আত্মীয়স্বজনরাও তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি ডিজি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পদত্যাগ না করে ইফার সচিবের কাছে তিন দিনের ছুটি চেয়েছেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল। তবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অচলাবস্থা কাটাতে ডিজি নিজেই পদত্যাগ করবেন।’ খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, ডিজি সামীম মোহাম্মদ আফজালের পদত্যাগের দাবিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মঙ্গলবার সারা দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। এতে উপস্থিত ছিলেন ডিজির আস্থাভাজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তার আত্মীয়রাও। সুযোগ বুঝে এদের সবাই ডিজির পদত্যাগ চাইছেন। এমনকি যিনি ডিজির পক্ষ হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল সরানোর চেষ্টা করেছিলেন, সেই পরিচালকও এখন ডিজিকে ছেড়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার অবস্থান কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে ডিজির ভাতিজা প্রডাকশন ম্যানেজার শাহ আলম, ভাগিনা রেযোয়ানুল আলম প্রমুখ। ডিজি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের নেতা পরিচালক মহীউদ্দিন মজুমদার। তিনি আরও বলেন, ‘দ্বীনি এই প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবাজ ডিজিকে আর প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।’

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির সচিব কাজী নূরুল ইসলামের কাছে তিন দিনের ছুটি চেয়ে আবেদন করেন সামীম মোহাম্মদ আফজাল। যা নিয়মবর্হিভূত। কারণ মহাপরিচালক ছুটি চাইলে তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। অতীতে তিনি তাই করেছেন বলে জানিয়েছেন ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ডিজি সাহেব ধর্ম মন্ত্রণালয়কে মানতে রাজি নন। এ কারণে তিনি এবার আমার কাছে ছুটি চেয়েছেন; যা হাস্যকর।’

এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অচলাবস্থা কাটাতে এর মহাপরিচালক নিজেই পদত্যাগ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজিকে পদত্যাগ করতে বলা হবে না। শুভবুদ্ধির উদয় হলে, আশা করি তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন।’ এ সময় ইফার অচলাবস্থা মোটেও কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘সংগঠনটিতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা হলে তা তদন্ত করবে মন্ত্রণালয়।’ ইফার পলিটিক্যাল মোটিভেশনের চেয়ে রিলিজিয়াস মোটিভেশনটা কাজে লাগানো জরুরি। শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘রিলিজিয়াস মোটিভেশনটা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মূল এবং প্রধান কাজ।’

জানা গেছে, সামীম মোহাম্মদ আফজাল জুডিশিয়াল সার্ভিসে ১৯৮৩ সালে যোগদান করেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। অভিযোগ রয়েছে নিয়োগ, পদোন্নতিসহ নানা বিষয়ে অনিয়ম করেছেন তিনি। গত ১০ জুন ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ইফা ডিজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন অবহিত করা হবে না তা ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ মার্কেট বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মজুমদারকে ইফা ডিজি সম্প্রতি সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। এ সংক্রান্ত আদেশ কেন্দ্র করে এই শোকজের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনে সৃষ্টি হয়েছে অচলাবস্থা। সাপ্তাহিক বন্ধের দিন গত শনিবারই পদত্যাগপত্র দিতে সামীম মোহাম্মদ আফজাল সংস্থাটির সচিব কাজী নূরুল ইসলামকে অফিসে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। পদত্যাগপত্র টাইপও হয়েছিল। শুধু স্বাক্ষর করে জমা দেয়াই ছিল বাকি। তার আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় অর্ধশত ফাইল গাড়িতে করে দফতর থেকে সরানোর চেষ্টা করেন ডিজির আস্থাভাজন একজন পরিচালক। ঘটনা টের পেয়ে এতে বাধা দেন ইফার সচিব কাজী নূরুল ইসলাম। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ফাইলগুলো জব্দ করে নিজ জিম্মায় নেন। এ ঘটনায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেঁকে বসেন ডিজি সামীম আফজাল। পুলিশ পাহারায় অফিস ত্যাগ করেন তিনি। রোববার অফিসে না গেলেও সোমবার কিছুক্ষণের জন্য অফিসে যান তিনি। খবর পেয়ে তার দফতরে পাহারা বসান বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবেন বলে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন তিনি। মঙ্গলবার অফিসে না গিয়ে ৩ দিনের ছুটি চেয়ে আবেদন করেন সামীম আফজাল।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×