বিমরাডের সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

ব্লু ইকোনমির সুফল পেতে ‘প্লাস্টিক সন্ত্রাস’ বন্ধ করতে হবে

দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় সমুদ্র অর্থনীতি সংক্রান্ত সেমিনারে তা তুলে ধরবে বিমরাড প্রতিনিধি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্লু ইকোনমির সুফল পেতে ‘প্লাস্টিক সন্ত্রাস’ বন্ধ করতে হবে

দেশে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন ও নদনদীতে জমে সমুদ্র দূষণ করছে। সমুদ্রের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যে প্রভাব ফেলছে।

এটিকে প্লাস্টিক সন্ত্রাস আখ্যায়িত করে বক্তারা তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আমাদের সমুদ্র সীমানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি সম্পদ-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা জেগে উঠেছে।

সেটির সুফল পেতে হলে প্লাস্টিক সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। এ খাতে বাড়াতে হবে গবেষণা। গড়ে তুলতে হবে দক্ষ জনবল।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

এতে জানানো হয়, ভারতের ন্যাশনাল মেরিটাইম ফাউন্ডেশনের (এনএমএফ) আমন্ত্রণে সমুদ্র অর্থনীতি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিচ্ছে বিমরাডের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

আগামী ২০ ও ২১ জুন দিল্লিতে বিমরাড ও এনএমএফ-এর মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এ সেমিনারের বিষয় ‘বঙ্গোপসাগরে আঞ্চলিক সুনীল অর্থনীতির রূপান্তর’।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ও বিমরাডের অনারারি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ও বিমরাডের মহাপরিচালক কমডোর (অব.) কাজী এমদাদুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমান্ডার রাশেদ।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, প্রতিনিয়ত রাস্তাঘাটে ও যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ ফেলা হচ্ছে। এসব প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন, নদনদী হয়ে সমুদ্রে পড়ছে।

প্লাস্টিক বর্জ্যরে পরিমাণ এতই বেড়েছে যে তা প্লাস্টিক সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে। ব্লু ইকোনমির সুফল পেতে হলে এসব বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্র সীমানা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বঙ্গোপসাগরে নতুন একটি সম্পদ-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টির সম্ভাবনা জেগে উঠেছে।

সমুদ্র-সম্পদ আহরণ এবং সেটিকে কাজে লাগানোর জন্য যে মেধা ও গবেষণা প্রয়োজন, সেখানে আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। বিমরাড এই দিকটিতে অবদান রাখার চেষ্টা করছে।

দিল্লিতে সেমিনারে অংশগ্রহণ বিষয়ে তিনি বলেন, বিমরাড সদস্যরা দিল্লিতে ভারতের সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংলাপ করছে। আমি মনে করি, আগামীতে চীন, আমেরিকা ও জাপানের সঙ্গেও সমুদ্র অর্থনীতি সংক্রান্ত সেমিনার ও ওয়ার্কশপ করবে। এ উপমহাদেশে সমুদ্রকেন্দ্রিক যে দুটি বড় অ্যালায়ে›স রয়েছে, বাংলাদেশ উভয়ের মিলনকেন্দ্র হতে পারে। কেননা ওই দুই অ্যালায়েন্সের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো।

কমডোর (অব.) কাজী এমদাদুল হক জানান, ভারতে অনুষ্ঠেয় সেমিনারে বিমরাডের চারজন সদস্য যোগ দেবেন। তারা হলেন অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবিজ্ঞান ও সমুদ্রবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও বিমরাডের ঊর্র্ধ্বতন রিসার্চ ফেলো ড. আফতাব আলম খান, ঊর্র্ধ্বতন রিসার্চ ফেলো কমডোর (অব.) মোহাম্মদ নুরুল আবছার, মহাপরিচালক কমডোর (অব.) কাজী এমদাদুল হক।

দু’দিনব্যাপী এই সেমিনারের মোট তিনটি বিষয়ে আলোচনা হবে। সেগুলো হল- সমুদ্র অর্থনীতিতে সমবায় ও সহযোগিতামূলক পন্থা; জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব এবং বঙ্গোপসাগরের অর্থনৈতিক একত্রীকরণের চালিকাশক্তি স্বরূপ কানেক্টিভিটি : সঙ্কট ও সম্ভাবনা। এ সেমিনারের লক্ষ্য হল দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সমুদ্র অর্থনীতি সংক্রান্ত সহযোগিতার বন্ধনকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, ওই সেমিনারে আঞ্চলিক সহযোগিতা কীভাবে বাড়াতে পারি সেটি মূলত আলোচনা হবে। বিভিন্ন কারণে সমুদ্রের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এতে মাছ কমে যাচ্ছে। সমুদ্রের পরিবেশ ঠিক রেখে কীভাবে সম্পদ আহরণ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×