পরিবারের চাপে বর্ষা আত্মহত্যা করেছে
jugantor
আসামি পক্ষের সংবাদ সম্মেলন
পরিবারের চাপে বর্ষা আত্মহত্যা করেছে

  রাজশাহী ব্যুরো  

২০ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর মোহনপুরে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষা আত্মহত্যা করেছে বলে মামলার প্রধান আসামি মুকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি, বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক ছিল নাঈম নামে এক সহপাঠীর সঙ্গে। কিন্তু পরিবার চাইছিল মুকুলের সঙ্গে বিয়ে দিতে। এতে রাজি ছিল না বর্ষা। এ মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বর্ষা আত্মহত্যা করে।

বুধবার রাজশাহী মহানগরীতে সংবাদ সম্মেলন করেন মুকুলের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, কারাবন্দি মুকুল নির্দোষ। বর্ষার পরিবার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তাকে (মুকুলকে) আসামি করেছে। বর্ষাকে অপহরণের মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

২৩ এপ্রিল মোহনপুরের খানপুর বাগবাজার এলাকায় রাস্তার পাশে বর্ষাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্ষা উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে। স্থানীয় একটি স্কুলে সে নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করত। পরিবারের অভিযোগ, বর্ষার বান্ধবী সোনিয়ার সহযোগিতায় প্রতিবেশী মুকুল বর্ষাকে অপহরণ করে। ঘটনার ৪ দিন পর ২৭ এপ্রিল মুকুল ও সোনিয়াকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা হয়। মুকুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ১৬ মে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ষা। এ নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন বর্ষার বাবা। এদিকে বর্ষার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

এ অবস্থায় আসামি মুকুলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে তার ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, বর্ষা যখন অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল তখন রনি নামে এলাকার এক যুবক তাকে চিনতে পারেন। আর এ গ্রামেই মুকুলের বাড়ি। তাই রনি মুকুলকে ফোন করে বিষয়টি জানান। মুকুল তখন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ট্রাকের মাল খালাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মুকুল দেলোয়ার নামের এক ভ্যানচালকের ভ্যানে ঘটনাস্থলে যান। মানবিক কারণেই মুকুল সেখানে যান। রাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুকুলকে থানায় নিয়ে যায়। মুকুল পুলিশকে জানান, প্রতিবেশী হিসেবে তিনি এটি জানেন যে বর্ষার সঙ্গে নাঈমের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তখন পুলিশ নাঈমকে ধরে আনে। আর মুকুলকে ছেড়ে দেয়।

মোহাম্মদ আলী আরও জানান, থানায় আটক থাকা অবস্থায় নাঈমকে ছাড়ানোর জন্য তার পরিবার একজন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তদবির শুরু করেন। ওই জনপ্রতিনিধি পুলিশ আর বর্ষার পরিবারকে ‘ম্যানেজ’ করে নাঈমকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপর ২৭ এপ্রিল বর্ষার বাবা মুকুলকে আসামি করে মামলা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ষার বড় বোন চাঁদনি খাতুন বলেন, নাঈমের সঙ্গে বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক নয়, সহপাঠী হিসেবে বন্ধুত্ব ছিল। আর প্রতিবেশী মুকুলই বর্ষাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত। কিন্তু এতে বর্ষা রাজি ছিল না। মুকুল বর্ষাকে উত্ত্যক্ত করত। সে বর্ষাকে অপহরণ করে। একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক খালিদুর রহমান বলেন, মামলা দুটি। কোনোটিতেই নাঈম নামে কোনো আসামি নেই। বর্ষার ঘর থেকে তাকে (বর্ষা) লেখা কয়েকটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো কার হাতের লেখা তা তদন্ত করে দেখা হবে। তাহলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

আসামি পক্ষের সংবাদ সম্মেলন

পরিবারের চাপে বর্ষা আত্মহত্যা করেছে

 রাজশাহী ব্যুরো 
২০ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর মোহনপুরে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষা আত্মহত্যা করেছে বলে মামলার প্রধান আসামি মুকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি, বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক ছিল নাঈম নামে এক সহপাঠীর সঙ্গে। কিন্তু পরিবার চাইছিল মুকুলের সঙ্গে বিয়ে দিতে। এতে রাজি ছিল না বর্ষা। এ মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বর্ষা আত্মহত্যা করে।

বুধবার রাজশাহী মহানগরীতে সংবাদ সম্মেলন করেন মুকুলের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, কারাবন্দি মুকুল নির্দোষ। বর্ষার পরিবার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে তাকে (মুকুলকে) আসামি করেছে। বর্ষাকে অপহরণের মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তেরও দাবি জানান তিনি।

২৩ এপ্রিল মোহনপুরের খানপুর বাগবাজার এলাকায় রাস্তার পাশে বর্ষাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্ষা উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে। স্থানীয় একটি স্কুলে সে নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করত। পরিবারের অভিযোগ, বর্ষার বান্ধবী সোনিয়ার সহযোগিতায় প্রতিবেশী মুকুল বর্ষাকে অপহরণ করে। ঘটনার ৪ দিন পর ২৭ এপ্রিল মুকুল ও সোনিয়াকে আসামি করে থানায় অপহরণ মামলা হয়। মুকুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। ১৬ মে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বর্ষা। এ নিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন বর্ষার বাবা। এদিকে বর্ষার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

এ অবস্থায় আসামি মুকুলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে তার ভাই মোহাম্মদ আলী জানান, বর্ষা যখন অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল তখন রনি নামে এলাকার এক যুবক তাকে চিনতে পারেন। আর এ গ্রামেই মুকুলের বাড়ি। তাই রনি মুকুলকে ফোন করে বিষয়টি জানান। মুকুল তখন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ট্রাকের মাল খালাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মুকুল দেলোয়ার নামের এক ভ্যানচালকের ভ্যানে ঘটনাস্থলে যান। মানবিক কারণেই মুকুল সেখানে যান। রাতে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুকুলকে থানায় নিয়ে যায়। মুকুল পুলিশকে জানান, প্রতিবেশী হিসেবে তিনি এটি জানেন যে বর্ষার সঙ্গে নাঈমের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। তখন পুলিশ নাঈমকে ধরে আনে। আর মুকুলকে ছেড়ে দেয়।

মোহাম্মদ আলী আরও জানান, থানায় আটক থাকা অবস্থায় নাঈমকে ছাড়ানোর জন্য তার পরিবার একজন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তদবির শুরু করেন। ওই জনপ্রতিনিধি পুলিশ আর বর্ষার পরিবারকে ‘ম্যানেজ’ করে নাঈমকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এরপর ২৭ এপ্রিল বর্ষার বাবা মুকুলকে আসামি করে মামলা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ষার বড় বোন চাঁদনি খাতুন বলেন, নাঈমের সঙ্গে বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক নয়, সহপাঠী হিসেবে বন্ধুত্ব ছিল। আর প্রতিবেশী মুকুলই বর্ষাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত। কিন্তু এতে বর্ষা রাজি ছিল না। মুকুল বর্ষাকে উত্ত্যক্ত করত। সে বর্ষাকে অপহরণ করে। একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক খালিদুর রহমান বলেন, মামলা দুটি। কোনোটিতেই নাঈম নামে কোনো আসামি নেই। বর্ষার ঘর থেকে তাকে (বর্ষা) লেখা কয়েকটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো কার হাতের লেখা তা তদন্ত করে দেখা হবে। তাহলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।