অপহরণকারী গ্যাংয়ের ৪ জনের জবানবন্দি

টাকার লোভে মেয়ের স্বামীকে অপহরণ করায় শ্বশুর

গ্রেফতার ৯ * শান্তকে স্বর্ণ চোর অপবাদ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বাসা থেকে তুলে নেয় গ্যাং

  নুরুল আমিন ২২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টাকার লোভে মেয়ের স্বামীকে অপহরণ করায় শ্বশুর

টাকার লোভে মেয়ের দ্বিতীয় স্বামীকে অপহরণ করায় শ্বশুর। প্রথম স্বামী কামরাঙ্গীরচরের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলামের টাকায় চলত সুমাইয়া আক্তার আফিফার (২২) পরিবার।

২০১১ সালে বিয়ের পর থেকে স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ আফিফা ২০১৮ সালে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ৬ বছরের সন্তান মোহাম্মদকে নিয়ে চলে আসেন।

এরপর শাহাদত হোসেন শান্তকে বিয়ে করেন আফিফা। পরিবার এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। তাই ভাড়াটে গ্যাং দিয়ে শান্তকে অপহরণ করান আফিফার বাবা হাজী মো. মনির।

মিরপুর মডেল থানার একটি অপহরণ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। অপহরণের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। তাদের মধ্যে অপহরণকারী গ্যাংয়ের চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা সবুজ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলে- হাজী মনির তাদের এ কাজ দিয়েছিল।

চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে শান্তর মিরপুরের বাসা থেকে তাকে তুলে আনতে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের ঘিরে ফেললে স্বর্ণ চুরির সঙ্গে শান্ত জড়িত, তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে গাড়িতে তুলে কামরাঙ্গীরচরের একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে আটকে রেখে শান্তকে নির্যাতন করে লাউড স্পিকার দিয়ে আফিফাকে শুনানো হতো। ডিভোর্স দিতে রাজি না হলে শান্তকে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দিত তারা। বাসায় পালাক্রমে পাহারা দিত চক্রের বাকি তিন সদস্য।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের অনেক ব্যবধান ছিল। পরিবারের চাপে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়েই সংসার করে আসছিল আফিফা। তার দ্বিতীয় স্বামী শান্ত একটি মোবাইল কোম্পানিতে চাকরি করেন।

পরিবারের সঙ্গে মিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকেন। মেয়েকে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দিতে দ্বিতীয় স্বামীকে অপহরণ করে তার বাবা। আর এসবের নেপথ্যে ছিল তার প্রথম স্বামী ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মিরপুর জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার রাহুল পাটোয়ারী যুগান্তরকে বলেন, মিরপুরের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে শান্ত নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে যায় কে বা কারা।

এ ঘটনায় ২৯ মে মিরপুর মডেল থানায় একটি অপহরণের মামলা হয়। মামলার তদন্তে নেমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেয়ের মাসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে অপহরণের ঘটনা স্বীকার করে চারজন জবানবন্দি দেয়। এ অপহরণের ঘটনার সঙ্গে মেয়ের পরিবার ও প্রথম স্বামী জড়িত।

গ্রেফতারকৃতরা হল- আফিফার প্রথম স্বামী কামরুল ইসলাম, মা আমবিয়া, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, আউলাদ হোসেন, আল-আমিন এবং অপহরণকারী চক্রের সদস্য মাকসুদুর রহমান সবুজ, শরিফ, হাসান ও আকরাম।

১ জুন অপহরণকারী চক্রের চার সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াছির আহসান চৌধুরী আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

সুমাইয়া আক্তার আফিফা বলেন, অষ্টম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় আমাকে জোর করে বিয়ে দেয় পরিবার। ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রায় ৭ বছর সংসার করেছি। গত বছর প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করি।

কিন্তু আমার পরিবার এটা মেনে নিতে পারেনি। আমাকে প্রথম স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে অনেক চাপ দিয়েছে। রাজি না হওয়ায় শান্তকে অপহরণ করে আমার পরিবার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×