এবার সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চরম নেতিবাচক প্রভাব

শাহবাজপুর সেতু চালু হলেও দীর্ঘ যানজট

  সিলেট ব্যুরো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যানজট

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শাহবাজপুরের তিতাস সেতু চালু হলেও দুর্ভোগ আর লোকসানের অবসান হচ্ছে না।

ছয় দিন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর রোববার মধ্যরাতে রেল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও সড়ক যোগাযোগ সোমবার চালু হয়েছে। সিলেট থেকে রোববার রাতে ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া উপবন ট্রেন কুলাউড়ার বরমচাল রেলস্টেশনের অদূরে স্মরণকালের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে। ফলে সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লোকসান গুনছেন। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। সময়মতো কাঁচামাল না পৌঁছায় অনেক প্রতিষ্ঠানে সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনও অনেক কমে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণসামগ্রী বালু, রড, সিমেন্ট না পৌঁছানোয় নির্মাণকাজ আটকে রয়েছে। এসবের মধ্যেই বন্ধ হয়েছে রেল যোগাযোগ। সব মিলিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পড়েছে চরম নেতিবাচক প্রভাব।

সরেজমিন জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের পাশে মাধবপুর ও আউশকান্দিতে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এলসি পাওয়ার পরও উৎপাদিত পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এর মধ্যে রড, সিমেন্ট, বালুসহ কাঁচামাল না আসার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) যুগান্তরকে জানান, ন্যাশনাল হাইওয়ে বন্ধ থাকায় কোম্পানির কাঁচামাল নিয়ে গাড়িগুলো কোম্পানিতে প্রবেশ করতে পারছে না। নির্মাণসামগ্রী বালু, রড ও সিমেন্ট না আসায় ফ্যাক্টরির নির্মাণকাজ আটকে আছে। কোম্পানির কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানির কর্মকর্তারা এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একটি স্পিনিং মিলের জেনারেল ম্যানেজার যুগান্তরকে জানান, সরাসরি ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এলসির বিপরীতে পণ্য ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। যে কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনও অনেক কমে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক কোম্পানির এলসির মালামাল আটকা পড়েছে। কোম্পানিগুলো লোকসানের মুখে পড়েছে।

সিলেট কদমতলীর শাহজালাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রাগীব হোসেন যুগান্তরকে জানান, সড়ক যোগাযোগ ভালো না থাকায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তা বন্ধ থাকায় ট্রাক আসতে চায় না। সিলেট ফল ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন জানান, গত এক সপ্তাহে ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেচাবিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে রাস্তার যন্ত্রণা লাঘব হচ্ছে না।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) সোমবার সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ভেঙে পড়া শাহবাজপুর সেতুটি খুলে দেয়ার পর থেকেই এ সড়কে তীব্র যানজট লেগে আছে। ভোর থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর উপজেলায় বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। যানজটে পড়া যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ হয় প্রখর রোদে। ১৫ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে সময় লাগছে ৫-৬ ঘণ্টা। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আটকে পড়া শত শত ট্রাক, বাস, লরি ও কাভার্ডভ্যান সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারছে না। ৮ কিলোমিটার এলাকায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

এই মহাসড়কে চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলীরা। তারা আরও জানান, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান প্রথমে পার করা হচ্ছে। এ সেতুতে ২২ টনের অধিক ওজনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

এদিকে মৌলভীবাজার কুলাউড়ায় রেল দুর্ঘটনার কারণে চাপ বেড়েছে এই মহাসড়কে গণপরিবহনে। ফলে এখনও দীর্ঘ যানজট।

সিলেটগামী একাধিক যাত্রী যুগান্তরকে জানান- রেলপথ বন্ধ, সড়ক পথে ভোগান্তি, কিভাবে সিলেটে পৌঁছাব জানি না। আবার সেতু খুলে দেয়ায় পণ্যবাহী গাড়ির অনেক চালক ও শ্রমিক স্বস্তি প্রকাশ করেন।

আটকে গেছে ফেরি : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিকল্প হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত শাহবাজপুর সেতুর নিচে ফেরির ব্যবস্থা করলেও নির্ধারিত সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি ফেরি। জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাবি ফেরিকে পানি পথে নদী, খাল, বিল পার হতে হচ্ছে। এতে করে পথে ছোট সেতু, পানি না থাকা ইত্যাদি কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তাদের দাবি ফেরি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর সীমানায় পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে। এ ব্যাপারে হাইওয়ে খাটিহাতা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হোসেন সরকার যুগান্তরকে জানান, সেতুর ওপর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে উঠতে দেয়া হচ্ছে। একসঙ্গে যাতে একাধিক যানবাহন গাড়িতে না ওঠে নজরদারি রাখা হয়েছে।

তবে জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন যুগান্তরকে জানান, সেতু খুলে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২২ টনের অধিক যানবাহনকে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এই সেতুর ঝুঁকির বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

১৯ জুন থেকে বন্ধ ছিল সিলেটের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। যানবাহন চলাচলের জন্য বেইলি ব্রিজটি চালু করা হয়েছে বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আপাতত বেইলি ব্রিজ চালু করা হয়েছে। আর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শেষ করতে আরও ১০ দিন সময় লাগবে। এর আগে ১৮ জুন শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর সেতুর ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ে। এরপর দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ১৯ জুন থেকে ওই সেতু দিয়ে ভারি ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্ধ হয়ে পড়ে সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বাস-ট্রাক চলাচল।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×