সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারি করা হচ্ছে

  সংসদ রিপোর্টার ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত ও আটক জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার জাতীয় সংসদে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের এক প্রশ্নের জবাবে জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ নির্মূল সংক্রান্ত বর্তমান সরকারের গৃহীত জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশালাইজড টিম গঠনের পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল ও লজিস্টিকস সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে জঙ্গি আস্তানা, জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত-শনাক্তকরণের সুবিধার্থে এলাকাভিত্তিক ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং বিডি পুলিশ হেল্পলাইন, হেলো সিটি ও রিপোর্ট টু র‌্যাব প্রভৃতি অনলাইন অ্যাপ চালু এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ পর্যন্ত অনেক সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের জঙ্গি সংক্রান্ত বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সদা তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী জঙ্গিদের গ্রেফতার করে বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত ও আটক জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনের সফলতা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রসঙ্গ ইয়াবা : মো. মুজিবুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ২০১৮ সালে ১ লাখ ৬১ হাজার ৩২৩ মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৮টি মামলা দায়ের করেছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি-মে পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৭১ মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ৬ হাজার ১৫৬টি মামলা করা হয়েছে। প্রতিদিন মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাদক সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ পর্যন্ত মহাপরিচালক পর্যায়ে পাঁচটি ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সভার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইয়াবা পাচার রোধকল্পে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি সভাতেই মিয়ানমারকে ইয়াবার উৎপাদন ও প্রবাহ বন্ধ করার জন্য এবং মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত ইয়াবা তৈরির কারখানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়। মিয়ানমারের সঙ্গে চতুর্থ দ্বিপাক্ষিক সভা অক্টোবরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

দারিদ্র্যবিমোচন : পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় আনা সম্ভব হবে। কারণ ২০০৫ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ৩১.৫ থেকে ২০১৮ সালে হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে এবং অতি-দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ১১.৩ শতাংশে। মাত্র কয়েক দশক আগেও বাংলাদেশে অনাহারী-অর্ধাহারী মানুষের যে ছবি ভেসে উঠত, এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×