দু’মাসে ১৪ রোহিঙ্গা আটক করে ক্যাম্পে ফেরত

কৌশলে পাসপোর্ট নিতে তৎপর

জন্মনিবন্ধন সনদ দিচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান-কাউন্সিলররা * নাম-ঠিকানা ‘সঠিক’ রিপোর্ট দিচ্ছে পুলিশও! * একেকটি পাসপোর্টের বিপরীতে বিনিয়োগ ৩-৫ লাখ টাকা

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

মিয়ানমারের নাগরিক তারা। কিন্তু চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কিংবা ওয়ার্ড কাউন্সিলররা তাদের দিয়েছেন জন্মনিবন্ধন তথা বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সনদ। পুলিশের বিশেষ শাখাও ‘তদন্ত’ করে নাম-ঠিকানা ‘সঠিক’ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে রিপোর্ট দিয়েছে।

কিন্তু বাদ সাধছে পাসপোর্ট অফিস! পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে আটকে যাচ্ছে তাদের পাসপোর্ট। ফেরত যেতে হচ্ছে ক্যাম্পে।

গত দু’মাসে পাঁচলাইশে অবস্থিত চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ধরা পড়েছে ১৪ মিয়ানমার নাগরিক তথা রোহিঙ্গা। যারা বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে পাসপোর্ট পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী।

জানা গেছে, ২ এপ্রিল থেকে ২০ মে ১১ জনকে আটক করে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। জুনের প্রথম সপ্তাহে আটক করা হয় আরও ৩ জনকে। বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও সৌদি আরব গমনই রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্য।

চট্টগ্রাম আঞ্চলকি পাসপোর্ট অফিসের (পাঁচলাইশ) উপপরিচালক মোহাম্মদ আল আমিন মৃধা যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানানোর অপতৎপরতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। দালালদের মাধ্যমেই তারা ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কাছ থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশন সনদের পক্ষে রিপোর্ট আদায় করছে, যা উদ্বেগজনক।

কোনো আবেদনকারীর চালচলনে সন্দেহ হলে বা ডকুমেন্টে গলদ পেলে আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করি। শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের আবেদন বাতিল করে পাসপোর্ট আটকে দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের অনুকূলে কোনো অবস্থাতেই পাসপোর্ট ইস্যু না করার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। ভুয়া তথ্যে পাসপোর্টপ্রত্যাশী রোহিঙ্গাদের আটকের পর মাসে মাসে সেই তথ্য আমরা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালককে অবহিত করি।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পাসপোর্ট অফিসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, একেকটি পাসপোর্টের বিপরীতে ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দালালদের মাধ্যমে বিনিয়োগ করছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে বিক্রি করে দেয়া হয় বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

গত দু’মাসে আটককৃতদের মধ্যে মিয়ানমারের নাগরিক তাসলিমা আক্তার, বাবা মোহাম্মদ ইসমাইল, মা রাবিয়া বেগম। তিনি তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দেখিয়েছেন বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব কাগারঘোনার মনকিরচর ৪ নম্বর ওয়ার্ড। জন্মনিবন্ধন নম্বর: ১৯৯৯১৫৯৩৫২৫০২৫১৪৭। একইভাবে হীরা আক্তার, বাব আবুল কাশেম, মা নুরুন্নাহার বেগমও রোহিঙ্গা। তিনি স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দেখিয়েছেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যম হাশিমপুর। এই ঠিকানায় তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরে নিয়েছেন জন্মনিবন্ধন সনদ। সে অনুযায়ী তাদের নাম-ঠিকানার পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও চলে আসে পাসপোর্ট অফিসে। কিন্তু আচার-আচরণে সন্দেহ হওয়ায় তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বীকার করেন তারা রোহিঙ্গা।

আটক রোহিঙ্গাদের মধ্যে আরও রয়েছেন শাহেনা আক্তার, বাবা নূর বাশার, স্বামী মো. সালাহ উদ্দিন, ঠিকানা দেখিয়েছেন সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের ৮ নম্বর হিলিমিলি ওয়ার্ড, মোস্তাকীমা, বাবা ফরিদ আলম, মা রোজী আক্তার, ঠিকানা দেখিয়েছেন কর্ণফুলী উপজেলার আজিমপাড়ার ৩ নম্বর চরপাথরঘাটা ওয়ার্ড, সুরা বেগম, বাব আবদু ছালাম, মা জোহরা বেগম, ঠিকানা দেখিয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী ৭ নম্বর ওয়ার্ড। মোহাম্মদ হারেস, বাবা দিল মোহাম্মদ, মা নুরজাহান, ঠিকানা দেখিয়েছেন নগরীর হালিশহর বি ব্লকের ২আর/এ ওয়ার্ড। মোহাম্মদ সাকের, বাবা নুর আলম, মা মাহমুদা বেগম, ঠিকানা দেখিয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলার ৩ নম্বর নারিশ্চা ওয়ার্ড। আবদুল্লাহ, বাবা বজল আহমেদ, মা-হাসিনা বেগম, ৬১৬/ইয়াকুব ম্যানশন, মোহাম্মদ আমিন, ঠিকানা দেখিয়েছেন পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড। মোহাম্মদ হেলাল, বাবা হোসাইন আহমদ, মা সাজেদা বেগম, পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর সীলপাড়া ওয়ার্ড। মোহাম্মদ আয়াস, বাবা আবদুস সালাম, মা সাজেদা বেগম, ঠিকানা দেখিয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলার মাস্টার হাট ৪ নম্বর ওয়ার্ড।

এছাড়া চলতি মাসে যে তিনজন আটক হয়েছেন, তাদের মধ্যে নজির আহমদ পটিয়ার, ছেনোয়ারা বেগম সাতকানিয়ার ও এলেমা খাতুন লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তারাও শেষ পর্যন্ত পাসপোর্ট পাননি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×