হলি আর্টিজানে হামলা

নভেম্বরের মধ্যে রায় প্রত্যাশা রাষ্ট্রপক্ষের

সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির লক্ষ্যে এগোচ্ছি -রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি * বিরুদ্ধে বলেননি সাক্ষীরা-আসামিপক্ষের আইনজীবী

  হাসিব বিন শহিদ ৩০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রায় প্রত্যাশা

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম বিচারাধীন অন্যান্য মামলার তুলনায় ত্বরিত গতিতে এগোচ্ছে। যেভাবে মামলার বিচার কার্যক্রম অগ্রসর হচ্ছে এতে করে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এ মামলার রায় প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার লক্ষ্যে তৎপরও রয়েছে তারা।

চাঞ্চল্যকর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মোট ২৯ কার্যদিবস দিন ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে সাক্ষী অনুপস্থিতিসহ নানা কারণে আট কার্যদিবস সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। ২১ কার্যদিবসে মোট ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে মামলার বাদীসহ ৬০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি বিচারাধীন আছে। আগামী মঙ্গলবার (২ জুলাই) সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ডে’ পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। অভিযানে এক জাপানি ও দু’জন শ্রীলংকানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ওই হামলায় অন্তত ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সব সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হবে বলে আশা করছি। সারা বিশ্ব এ মামলার রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। আগামী ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে (অক্টোবর-নভেম্বর) এ মামলার রায় হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হত্যাকারী ও হত্যায় সহায়তাকারীর মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ মামলায় ৬ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর যেসব সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণে সহায়তা করবে। এখনও পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকদের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ হলে পরিপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির লক্ষ্যে আমরা অগ্রসর হচ্ছি।

তিনি বলেন, এ ন্যক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা অগ্রগামী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বিচক্ষণতায় ওই অগ্রযাত্রা সন্ত্রাসীরা থামাতে পারেনি। হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় ২০১৬ সালের ৪ জুলাই এসআই রিপন কুমার দাস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ১ জুলাই পুলিশ পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির ৮ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ২১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটির বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আসে। পলাতক দু’জন আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় গ্যাজেট প্রকাশ হয়। এরপর আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠন করেন। চার্জ গঠনের পর থেকে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য হয়। ২০ থেকে ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার পর পলাতক দু’জন আসামিকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পলাতক দু’জনের পক্ষে সরকার থেকে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীও নিয়োগ করা হয়। গ্রেফতারের পর তারা তাদের নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ দেন। সর্বশেষ ২৫ জুন পাঁচ জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এ পাঁচজনসহ আদালতে মোট ৬০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রতিটি সাক্ষীকে আসামিপক্ষ জেরা করেছেন। হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনাটি বিশ্ব নিন্দিত ঘটনার মধ্যে একটি। এ ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ৩০ থেকে ৩২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ মামলায় এডিসি মো. আবদুল আহাদ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। চিকিৎসার পরও তার শরীরে অগণিত গ্রেনেড রয়ে গেছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ যুগান্তরকে বলেন, এ মামলায় ৬০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এদের মধ্যে কেউই আসামিদের নাম বলেননি। আসামিদের কাছ থেকে কোনো কিছু উদ্ধার হয়েছে মর্মেও আদালতের নথিপত্রে নেই। এ ছাড়া মূল আসামিদের আমরা (চার্জশিটভুক্ত আসামিরা) সহায়তা করেছি, এমন কথাও কোনো সাক্ষী আদালতে বলেননি। এমতাবস্থায় আশা করছি, আসামিরা এ মামলা থেকে খালাস পাবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে। এভাবে চললে দ্রুত বিচার কার্যক্রম দ্রুতই নিষ্পত্তি হবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে রায় হয়ে গেলে বিষয়টি অবশ্যই স্বাগত জানাব। আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×