ডিজিটাল হচ্ছে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনা

জনকল্যাণে যে কোনো জায়গায় ফাইল সই করব -পরিকল্পনামন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজেট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ জন্য ‘নতুন ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ’ নামের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পরিকল্পনা কমিশন।

এতে ব্যয় হবে ৩৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে শনিবার প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের নিয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। কার্যবিভাগের প্রধান খলিলুর রহমান খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মো. নুরুল আমিন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কাজের গতি বাড়াতে হবে। জনগণের কল্যাণে আমার কাছে যে কোনো সময় যে কোনো ফাইল নিয়ে আসবেন আমি সই করে দেব। বাসা, বিমান বন্দর এমনকি ওয়াশরুমে থাকলেও সমস্যা নেই। যদি সেসব ফাইলে জনগণের উপকার হয়। কিন্তু আমি যেসব ফাইল পাই তার অধিকাংশই কর্মকর্তাদের। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ব্রিজ, কালভার্ট ও স্কুল তৈরির ফাইল আসে দেরিতে। এটা করা ঠিক হবে না। সব ধরনের ফাইলই দ্রুত করতে হবে। শুক্র বা শনিবার বলে আমার কাছে কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিজ্ঞানকে কাজে লাগাতে চাই। কিন্তু আমরা এখনও বিজ্ঞানকে বন্ধু ভাবি না। লেটেস্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী, অথচ এ সম্পর্কে দক্ষতার অভাব রয়েছে। প্রযুক্তিতে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আর আমরা দুর্বল হচ্ছি। প্রযুক্তি খাতে আমরা প্রচুর টাকা ব্যয় করছি, কিন্তু সাপের মতো কাছে গিয়ে আবার দূরে সরে যাচ্ছি। এজন্য তরুণ কর্মকর্তাদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা যারা বয়স্ক হয়েছি আমাদের খোলস শক্ত হয়েছে। কিন্তু আপনারা তো ইয়াং। খোলস বাংলাদেশের জন্য খুবই ভয়ংকর। তিনি বলেন, আমাদের অনেক জঞ্জাল আছে এগুলো সরাতে হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, প্রকল্পটির মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আরএডিপি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আধুনিক এমআইএস সহায়তা দেয়ার জন্য একটি নতুন ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিবিএমএস) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া আইএমইডি, ইআরডি ও অর্থ বিভাগের বিদ্যমান ডাটাবেজের সঙ্গে ডিজিটাল লিংকেজ স্থাপন করা হবে। একটি কার্যকর নলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (কেএমএস) স্থাপনসহ ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ম্যানুয়াল ও প্রটোকল প্রস্তুত করা হবে। উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে বাজেট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

সচিব নুরুল আমিন বলেন, আগামী বছর থেকে প্রকল্পের বরাদ্দ উপযোজন করতে হলে ১৫ জুনের মধ্যে করতে হবে। তা না হলে শেষ সময়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। পরিকল্পনা কমিশনকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পেপারলেস করতে হবে। তিনি জানান, প্রকল্পটির প্রধান প্রধান অংশগুলো হচ্ছে নতুন ডিজিটাল ডাটাবেজ ও এমআইএস স্থাপন, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা।

খলিলুর রহমান বলেন, সরকারি কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। ইনফরমেশন টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে এডিপি বা আরএডিপি প্রণয়নসংক্রান্ত নিয়মিত কর্মকাণ্ড আরও সহজতর ও কার্যকর হবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক সাইদুজ্জামান জানান, ডাটাবেজ প্রণয়নের জন্য আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স নামক প্রতিষ্ঠানকে গত বছরের ১৪ আগস্ট নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার কথা। বর্তমানে ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কাজ শেষ হয়েছে। সফটওয়্যার পরীক্ষামূলকভাবে চলার জন্য একটি কর্মশালা ও পাইলটিং করার জন্য পিএসসির অনুমোদন পাওয়া গেছে। চলতি মাসের শেষে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হবে। আরও জানানো হয়, ইতিমধ্যেই ৪টি স্থানীয় প্রশিক্ষণ, দুটি বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও একটি শিক্ষা সফর সমাপ্ত হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা ও পরিকল্পনা কমিশনের ১ হাজার থেকে ১২০০ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত