বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় গ্রন্থ ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ প্রকাশ আগামী বছর
jugantor
বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় গ্রন্থ ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ প্রকাশ আগামী বছর

  হক ফারুক আহমেদ  

০৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় গ্রন্থ ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি। আগামী বছর বইমেলায় বইটি পাওয়া যাবে। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে প্রকাশ হবে বইটি। বঙ্গবন্ধু চীন সফর করেছিলেন দুইবার। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে। বইটিতে তার প্রথম চীন সফরের নানা অভিজ্ঞতার কথা থাকবে। সেই সময়ে চীনের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার কথাও জানা যাবে বইটি থেকে।

বাংলা একাডেমির একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে লেখা আরও তিনটি বই প্রকাশ হবে। যার মধ্যে ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ বইটি আগামী বছর প্রকাশ হতে যাচ্ছে। তবে এই বইটি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বা ‘কারাগারের রোজনামচা’-এর মতো অত বড় আকারের হবে না। পাঁচ থেকে ছয় ফর্মার একটি বই হবে ‘নয়া চীন ভ্রমণ’। বঙ্গবন্ধু নিজেই একটি ডায়েরিতে তার এই চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি লেখেন। যার নামও তিনি ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ দিয়েছিলেন। বাংলা একাডেমির আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ডায়েরির কিছু পাতার ছবিও সংযুক্ত হবে।

বইটি সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন বর্তমানে ইসলামী ইউনিভার্সিটির বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জমান খান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ১৯৫২ সালে চীনে একটি শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বের নানা দেশের ডেলিগেটরা অংশ নেন। ভারত ও পাকিস্তান থেকেও কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু তখন তরুণ নেতা। বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই সফরে আরও গিয়েছিলেন আতাউর রহমান, মানিক মিয়া, খন্দকার মো. ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন। ভারতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মনোজ বসু। যিনি পরে তার সেই অভিজ্ঞা থেকে ‘চীন দেখে এলাম’ নামে একটি বই লেখেন।

ওই সফরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাং সে তুং এর দেখা হয়। পুরো সফরের কাহিনী উঠে এসেছে বইটিতে। যেখানে তিনি একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের মধ্যে কিভাবে গণতন্ত্র চর্চা হবে তার বিষয়েও লেখেন। লেখেন সেখানখার আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়েও।

তিনি আরও বলেন, বইয়ে বঙ্গবন্ধুর এক চাইনিজ বিয়েতে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা রয়েছে। যেখানে তিনি উপহার হিসেবে নিজের হাতে পরে থাকা একটি আংটিও উপহার দেন।

বইটির ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের দায়িত্বে রয়েছেন থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ফকরুল আলম। তিনি বঙ্গবন্ধুর লেখা দ্বিতীয় গ্রন্থ এবং বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটিও ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। অধ্যাপক ফকরুল যুগান্তরকে বলেন, সব বিষয়ে এখন বলা সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও চীনের কথা এসেছে। তবে এই বইটিতে এসেছে বিশদভাবে। তিনি তার লেখনীতে তৎকালীন পাকিস্তান ও চীনের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার একটি তুলনামূলক চিত্রও ফুটিয়ে তুলেছেন।

বাংলা একাডেমির আরেকটি সূত্র জানায়, যেকেনো লেখায় সম্পাদনা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ বইটি প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা। যেটি খুব একটা সম্পাদনা করার প্রয়োজন পড়েনি। প্রথম চীন ভ্রমণটি কিভাবে হয়েছিল, তার সফরসঙ্গী কারা কারা ছিলেন সেগুলোও বইটিতে স্থান পেয়েছে। বাংলা একাডেমি অত্যন্ত যত্নসহকারে বইটি প্রকাশের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

বইটির গ্রন্থস্বত্ব ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরোরিয়াল ট্রাস্ট’। ভূমিকা লিখছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইটির প্রকাশনায় কাজ করছে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন ও অভিধান বিভাগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ করেছিল ইউপিএল। তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’ প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি।

বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় গ্রন্থ ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ প্রকাশ আগামী বছর

 হক ফারুক আহমেদ 
০৬ জুলাই ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা তৃতীয় গ্রন্থ ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি। আগামী বছর বইমেলায় বইটি পাওয়া যাবে। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতে প্রকাশ হবে বইটি। বঙ্গবন্ধু চীন সফর করেছিলেন দুইবার। ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে। বইটিতে তার প্রথম চীন সফরের নানা অভিজ্ঞতার কথা থাকবে। সেই সময়ে চীনের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার কথাও জানা যাবে বইটি থেকে।

বাংলা একাডেমির একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে লেখা আরও তিনটি বই প্রকাশ হবে। যার মধ্যে ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ বইটি আগামী বছর প্রকাশ হতে যাচ্ছে। তবে এই বইটি ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বা ‘কারাগারের রোজনামচা’-এর মতো অত বড় আকারের হবে না। পাঁচ থেকে ছয় ফর্মার একটি বই হবে ‘নয়া চীন ভ্রমণ’। বঙ্গবন্ধু নিজেই একটি ডায়েরিতে তার এই চীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতাটি লেখেন। যার নামও তিনি ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ দিয়েছিলেন। বাংলা একাডেমির আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বইটিতে বঙ্গবন্ধুর ডায়েরির কিছু পাতার ছবিও সংযুক্ত হবে।

বইটি সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন বর্তমানে ইসলামী ইউনিভার্সিটির বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জমান খান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ১৯৫২ সালে চীনে একটি শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বের নানা দেশের ডেলিগেটরা অংশ নেন। ভারত ও পাকিস্তান থেকেও কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু তখন তরুণ নেতা। বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই সফরে আরও গিয়েছিলেন আতাউর রহমান, মানিক মিয়া, খন্দকার মো. ইলিয়াসসহ বেশ কয়েকজন। ভারতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মনোজ বসু। যিনি পরে তার সেই অভিজ্ঞা থেকে ‘চীন দেখে এলাম’ নামে একটি বই লেখেন।

ওই সফরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চীনের অবিসংবাদিত নেতা মাং সে তুং এর দেখা হয়। পুরো সফরের কাহিনী উঠে এসেছে বইটিতে। যেখানে তিনি একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্রের মধ্যে কিভাবে গণতন্ত্র চর্চা হবে তার বিষয়েও লেখেন। লেখেন সেখানখার আর্থসামাজিক অবস্থা নিয়েও।

তিনি আরও বলেন, বইয়ে বঙ্গবন্ধুর এক চাইনিজ বিয়েতে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা রয়েছে। যেখানে তিনি উপহার হিসেবে নিজের হাতে পরে থাকা একটি আংটিও উপহার দেন।

বইটির ইংরেজি ভাষায় অনুবাদের দায়িত্বে রয়েছেন থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ফকরুল আলম। তিনি বঙ্গবন্ধুর লেখা দ্বিতীয় গ্রন্থ এবং বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইটিও ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। অধ্যাপক ফকরুল যুগান্তরকে বলেন, সব বিষয়ে এখন বলা সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও চীনের কথা এসেছে। তবে এই বইটিতে এসেছে বিশদভাবে। তিনি তার লেখনীতে তৎকালীন পাকিস্তান ও চীনের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থার একটি তুলনামূলক চিত্রও ফুটিয়ে তুলেছেন।

বাংলা একাডেমির আরেকটি সূত্র জানায়, যেকেনো লেখায় সম্পাদনা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘নয়া চীন ভ্রমণ’ বইটি প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা। যেটি খুব একটা সম্পাদনা করার প্রয়োজন পড়েনি। প্রথম চীন ভ্রমণটি কিভাবে হয়েছিল, তার সফরসঙ্গী কারা কারা ছিলেন সেগুলোও বইটিতে স্থান পেয়েছে। বাংলা একাডেমি অত্যন্ত যত্নসহকারে বইটি প্রকাশের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

বইটির গ্রন্থস্বত্ব ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরোরিয়াল ট্রাস্ট’। ভূমিকা লিখছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইটির প্রকাশনায় কাজ করছে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন ও অভিধান বিভাগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বই ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশ করেছিল ইউপিএল। তার দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’ প্রকাশ করে বাংলা একাডেমি।