কোরবানির ঈদ সামনে

ঊর্ধ্বমুখী মসলার বাজার নিয়ন্ত্রণে ৫ সংস্থা

বেড়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, এলাচসহ মসলার দাম * দাম বাড়ালে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা-বাণিজ্য সচিব * চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নজর বাড়াতে হবে সরকারকে -ক্যাব সভাপতি

  ইয়াসিন রহমান ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মসলা

কোরবানির ঈদ এলেই মসলার কদর বাড়ে। এই ফাঁকে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে আগে থেকেই বাড়িয়ে দিয়েছে পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও এলাচসহ বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম।

বিষয়টি টের পেয়ে ঈদের প্রায় এক মাস আগেই মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠছে সরকারের পাঁচটি সংস্থা। মূল্য যাতে নাগালের বাইরে যেতে না পেরে সে জন্য সংস্থার সদস্যরা বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করতে যাচ্ছে। টিমের সদস্যরা দেশের মোকাম, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে তদারকি করবে। অনিয়ম পেলেই দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং চলছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার মনিটরিং সেল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত বাজার মনিটরিং করছেন। কোথাও অসঙ্গতি দেখলে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এর পরও ঈদকে ঘিরে বিশেষভাবে মনিটরিং করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। ভোক্তার স্বার্থে মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর দৈনিক বাজারমূল্য পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এক মাস আগে দেশি পেঁয়াজের দাম ২৮-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজ এক মাস আগে ৩০-৩৫ টাকা বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকা কেজি। আদার দাম এক মাস আগে ১৪০-১৮০ টাকা বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ১৪০-২০০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকা কেজি, এক মাস আগে ছিল ৭০-১০০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৬০ টাকা, এক মাস অগে ছিল ১২০-১৩০ টাকা। এলাচের দাম উঠেছে ২৮০০ টাকা কেজি, এক মাস আগে ছিল ২৬০০ টাকা।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, অন্য বছরের মতো এবার যাতে কোনোভাবেই পণ্যের দাম না বাড়ে, সেদিকে লক্ষ রাখতে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে। তাই অধিদফতরের পক্ষ থেকে ঈদ ঘিরে বিশেষভাবে মনিটরিং সেল নামানো হবে। যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে। এ ছাড়া দেশের কোরবানির হাটে বিশেষ নজরদারি করা হবে। ভোক্তা যাতে প্রতারিত না হন, এ জন্য সার্বিক বিষয়টি দেখা হবে। যারা অনৈতিক কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আর্থিক জরিমানাসহ প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হবে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম যুগান্তরকে বলেন, আমরা অভিযান শুরু করেছি। আগামীতে জোরদার করা হবে। কোরবানির ঈদ ঘিরেও বিশেষ অভিযান চলবে। এ ছাড়া ঈদকে ঘিরে চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল খাবার বিক্রি করে। ভেজাল খাবার পেলেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, কোরবানির ঈদ আসার আগেই মসলাসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হয়। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। তবে এবার দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া খাদ্যপণ্য ও কোরবানির পশু বাজারে আনতে ব্যবসায়ীরা যেন চাঁদাবাজির শিকার না হন, সেদিকে নজর বাড়াতে হবে। রাখতে হবে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও। এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে অধিদফতরের পক্ষ থেকে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে অভিযান চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের বাজার মনিটরিং টিমের সদস্যরা কাজও শুরু করেছে। দু-এক দিনের মধ্যে রাজধানীর পাইকারি বাজারে অভিযান শুরু হবে।

এ বিষয়ে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, অধিদফতরের পক্ষ থেকে বাজারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঈদের আগ পর্যন্ত চলবে। সঙ্গে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ ছাড়া নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করলে বা ভেজাল দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বাজারে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছেন। যারা শুধু ফাঁকফোকর খুঁজে বেড়ায়। বিভিন্ন অজুহাতে তারা অতি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

এসব অসাধু ব্যবসায়ীর দায়িত্ব আমরা কখনোই নেব না। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, কোরবানির ঈদ আসার এক মাস আগেই যে যেভাবে পারছে মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

পণ্য বিক্রেতা চুন্নু মিয়া যুগান্তরকে বলেন, মসলার বাজার এখন একটু বাড়তি। আদা ও রসুনের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে। কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের দামও বাড়ছে। তিনি বলেন, বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। সরবরাহ ঠিক হলে দাম কমতে থাকবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×