বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের

হিম্মত থাকলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেখান

পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব রটনাকারীদের শাস্তি পেতে হবে * চিহ্নিত সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজরা আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়াকে আওয়ামী লীগ জেলে পাঠায়নি। দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া সাজা পেয়ে কারাগারে আছেন। এখানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দ্বন্দ্বের কোনো বিষয় নয়। বিএনপির যদি এতোই সাহস আর সক্ষমতা, তাহলে খালেদা জিয়ার জন্য আন্দোলন করেন না কেন? শুধু মুখেই আন্দোলনের হাঁকডাক দেন। বাস্তবে কোনো আন্দোলন আজ পর্যন্ত করতে পারেননি। হিম্মত থাকলে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সক্ষমতা দেখান। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক কর্মিসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এছাড়া অপর এক অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, নুরুল আমিন রুহুল, কামাল আহমেদ চৌধুরী, ডা. দিলীপ রায়, হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কর্মিসভায় ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। দৃশ্যপট যতই দুর্বল হোক না কেন তলে তলে ষড়যন্ত্র বাড়ছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে গুজবের ডালপালা বিস্তার করছে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে এটা তারা সহ্য করতে পারছে না। গায়ে জ্বালা ধরছে। তাই লাখো মানুষের মাথা ও রক্তের প্রয়োজন বলে তারা গুজব ছড়াচ্ছে।

কারও নাম উল্লেখ না করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কী নির্মম, কী নিষ্ঠুর! এমন অপপ্রচারও তারা করেন! আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে, নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে এখন তারা শুরু করেছেন অপপ্রচার। অপপ্রচার ছাড়া তাদের আর কোনো পুঁজি নেই। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের একটিভ হতে হবে। পাল্টা জবাব দিতে হবে। অপশক্তির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

‘বর্তমান সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায় নেই’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, দেশের জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগেরই দায়বদ্ধতা বেশি। আওয়ামী লীগই এদেশের জনগণের স্বার্থে কাজ করে। জনস্বার্থ মাথায় রেখে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সব কর্মকাণ্ড। চলতি মাসে আবারও দলের সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের সতর্ক হতে হবে। পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যাকে-তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য পদ দেয়া যাবে না। নির্বাচনের সময় অনেকে আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে মিছিল করেছে। সবাইকে দলে নিতে পারব কিনা সেটা ভাবতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভালো। জনগণের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য নয়, ভালো মানুষ নয়, এসব মানুষ আওয়ামী লীগের কোনো প্রয়োজন নেই। দলকে খারাপ লোক থেকে মুক্ত রাখতে হবে। দলে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চার করতে চায়। দূষিত রক্তের কোনো প্রয়োজন নেই। এমন কেউ যাতে না আসতে পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে ও ব্যবস্থা নিতে হবে।

দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কর্মী সমাবেশ করার নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের শৃঙ্খলার বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। শৃঙ্খলা ছাড়া দলের গতিশীলতা বাড়বে না। দলের কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই দলের শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে খুবই মনোযোগী, সাবধান ও সতর্ক হতে হবে। আর এর জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে তিনি কর্মিসভা করার নির্দেশ দেন।

চুক্তি স্বাক্ষর : দুপুরে সেতু ভবনে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের নকশা রিভিউ এবং নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর, জিরাবো, বাইপাইল হয়ে ঢাকা ইপিজেড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এরমধ্যে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা এবং জিওবি প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। এক্সপ্রেসওয়ের নিচ দিয়ে বিদ্যমান প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। নবীনগরে দুটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় এক কিলোমিটার। সড়কের দুই পাশে প্রায় ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের শাস্তি পেতে হবে। পদ্মা সেতুর কাজ ৮১ শতাংশ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ সময় সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন খান, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামসহ সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×