রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে তিন বছরে প্রাণহানি ১৩৫

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাহাড় ধস

অতিবর্ষণে রাঙ্গামাটিতে গত তিন বছরে পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে ১৩৫ জনের। এবারও অতিবর্ষণে বিভিন্ন উপজেলায় ভূমি ধস ও আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে মৃত্যু হয়েছে চারজনের।

এছাড়া পাহাড়ি ঢলে প্রাণ গেছে তিনজনের। তবে সরকারি তালিকায় একজনের মৃত্যু উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে রাঙ্গামাটিতে প্রতিবছর পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটছে। শনিবার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়ায় পাহাড় ধসে মারা গেছেন অটল বড়–য়া ও শৈহ্লা উ মারমা। ৮ জুলাই একই উপজেলার কলাবাগান এলাকার মালী কলোনিতে ঘরে পাহাড় ধসের চাপায় তাহমিনা বেগম ও সূর্য মল্লিক নামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৯ জুলাই লংগদুতে পাহাড়ি ঢলে মো. রুবেল নামে এক বোটচালক এবং ১০ জুলাই বরকল উপজেলার ভুষণছড়া ইউনিয়নের অজ্যেংছড়িতে বিজুরাম চাকমা নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।

ভারি বর্ষণে ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড় ধসে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের মধ্যে ছিলেন পাঁচ সেনা সদস্য। ২০১৮ সালের ১২ জুন নানিয়ারচর উপজেলায় ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ বছর কাপ্তাইয়ে চারজনসহ গত তিন বছরে এ পর্যন্ত ১৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটল এ জেলায়।

এ পরিস্থিতিতে বৃষ্টি হলেই রাঙ্গামাটিতে ছড়িয়ে পড়ে পাহাড় ধসের আতঙ্ক। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভোগে বন্যায়। এবারও অতিবর্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্ভোগে উপদ্রুত এলাকার মানুষ।

জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) এসএম শফি কামাল সোমবারের এক প্রতিবেদনে জানান, ৬ জুলাই থেকে অতিবর্ষণের কারণে ভূমি ধস ও আকস্মিক বন্যায় রাঙ্গামাটিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বর্তমানে উন্নতির দিকে। জেলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৪৫২ জন। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার কাপ্তাই, নানিয়ারচর, কাউখালী, বাঘাইছড়ি, রাজস্থলীসহ কয়েক উপজেলায় আমন বীজতলা, মৌসুমি শাকসবজি, ফলফলাদি ও জুম ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলায় দুই শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আশ্রিতরা নিজ বাড়িঘরে ফেরা শুরু করেছেন। আশ্রয় কেন্দ্রসহ দুর্গত লোকজনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরে ১১ কেন্দ্রে ২৭০ পরিবারের প্রায় হাজার জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এক সরকারি প্রতিবেদনে রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলায় ৬৪৫০ হেক্টর আউশ ধান, ৩৮৮ হেক্টর রোপা আমন বীজতলা ও ২৪৭৫ হেক্টর সবজির ফসল ক্ষতি হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×