চট্টগ্রামে বন্যার পানি নামছে বাড়ছে পানিবাহিত রোগ

নগরীতে ডেঙ্গুরোগ ছড়ানোর আগেই মশা মারতে ক্রাশ প্রোগ্রাম নিয়েছেন সিটি মেয়র

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোগ

টানা বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বেশির ভাগ উপজেলা এক সপ্তাহ প্লাবিত ও জলাবদ্ধ থাকার পর পানি নামতে শুরু করেছে। গত দু’দিন বৃষ্টি হয়নি চট্টগ্রামে। মঙ্গলবার রোদের দেখা মেলে।

তবে দীর্ঘস্থায়ী এই জলবাদ্ধতা ও বন্যার প্রভাবে এরই মধ্যে ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে মানুষ। সাপে কাটা আহত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল টিমের মাধ্যমে এসব রোগীর চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে।

এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ উপজেলার মধ্যে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ির বেশির ভাগ ও অন্যান্য উপজেলা আংশিক প্লাবিত হয়ে দুর্গত হয়েছে সাড়ে চার লাখ মানুষ। ৬৭৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও নয় হাজার ৮৫টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবারও চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা মহাসড়কের ওপর দিয়ে ২ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়। মঙ্গলবার মহাসড়কের পানি নেমে গেলেও এ দুটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

এদিকে রাজধানী ঢাকায় মশাবাহিত ডেঙ্গুরোগ ছড়িয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও (চসিক) উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। নগরীতে জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গুরোগ ছড়ানোর আগেই মশা মারতে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সোমবার নগরীর মোমিন রোডের ঝাউতলা সেবক কলোনি এলাকায় ফগার মেশিনে ওষুধ ছিটিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেয়র নাছির। চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ২ কোটি টাকার মশা ও লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ কিনেছে চসিক।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, শনিবার থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলায় ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে একটি কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় ৫টি করে ৭০টি, প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে ২০০টি, ১টি করে আরবান ডিসপেনসারিতে ৯টি ও নগরীর আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ৫টি মিলে মোট ২৮৪টি মেডিকেল টিম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কাজ করছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মেডিকেল টিমগুলো নির্ধারিত স্থানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।

জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট মো. হামিদ আলী জানান, সোমবার রাত থেকে উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকার পানি নামতে শুরু করে। মঙ্গলবার বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। অস্থায়ীভাবে খোলা মেডিকেল টিমগুলো স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন নগরীর আন্দরকিল্লায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও ৯টি আরবান ডিসপেনসারিতে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিকের তুলনায় রোগী ভর্তি বেড়েছে। ডায়রিয়া ছাড়াও বিভিন্ন চর্ম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে শিশু রোগী বেশি।

নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার তিন বছরের সন্তান ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। সোমবার থেকে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এক সপ্তাহের জলাবদ্ধতায় হাঁটাচলা করতে গিয়ে আমার দুই পায়ের আঙুলে ঘা হয়ে গেছে। জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, এটি পানিবাহিত চর্মরোগ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×