রাজধানীতে আনন্দের বন্যা
jugantor
এইচএসসির ফল প্রকাশ
রাজধানীতে আনন্দের বন্যা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাচ-গান, হাসি-কান্না আর আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে এইচএসসির ফল উদ্যাপন করেছেন রাজধানীর শিক্ষার্থীরা। বুধবার ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কলেজগুলোতে উচ্ছ্বাস যেন রূপ নেয় বাঁধভাঙা জোয়ারে। অভিভাবক ও শিক্ষকরাও শরিক হন সে আনন্দে। কেউ ‘ভি চিহ্ন’ দেখিয়ে আবার কেউ বা সেলফি তুলেছেন। তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগায় ভিড় ঠেলে নোটিশ বোর্ডে ফল দেখার চিরচেনা সেই চিত্র দেখা যায়নি। ইন্টারনেটে আগেই ফল জানলেও আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসে। প্রত্যাশিত ফলে যেমন ঝরেছে আনন্দাশ্রু তেমনি বাঁধভাঙা উল্লাসের আড়ালেও ছিল বেদনার চিত্র। আশানুরূপ ফল না পেয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সেখানে। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজ, আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ ও সিটি কলেজ ঘুরে দেখা যায়- বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। সহপাঠীরা দল বেঁধে নাচ-গান করছেন, মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন। জানা গেছে, পাসের হার কিছুটা কমলেও কোনো কলেজেই ফল বিপর্যয় হয়নি।

রাজউকে এবারও শতভাগ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০.৬১ শতাংশ : আবারও শতভাগ পাসের সুনাম অর্জন করেছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। এ বছর রাজউক কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সবাই পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২২ জন। রাজউকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৩২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৪৩৮ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৮ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ১১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন।

রাজধানীর উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত এ কলেজে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, ফল পেয়ে শিক্ষার্থীরা গান আর বাদ্যের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন। জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, শুধু ইংরেজির জন্য গোল্ডেন পাইনি। নাবিলা মাহমুদা খানম বলেন, আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। নওশীন তামান্না সিনথি বলেন, আমি ডাক্তার হতে চাই। ফলাফল প্রকাশের পর কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমরা দেশের শীর্ষস্থানীয় কলেজ হিসেবে স্থান দখল করে আছি।

ঈর্ষণীয় ফল নটর ডেম কলেজের : ঈর্ষণীয় ফল অর্জনকারী এ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ৩ হাজার ১৭২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ১৫০ জন। ফেল করেছেন ১১ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৫ শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ হাজার ২৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তার মধ্যে ফেল করেছেন ৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৬ শিক্ষার্থী। বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৭৪৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। যার মধ্যে ফেল করেছেন ২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৪৩ শিক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ফেল করেছেন ৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ শিক্ষার্থী। নটের ডেম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমান্ত পিউস রোজারিও বলেন, কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য শুভেচ্ছা। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

ভিকারুননিসায় আনন্দ-উল্লাস : দুপুরে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ বছর এক হাজার ৯২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৭ জন ফেল করেছেন এবং ৫ জন অনুপস্থিত ছিলেন। পাসের হার ৯৯.৩২ ভাগ, যা গতবারের চেয়ে কমেছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৯.৭৮ ভাগ।

এবার মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞানে এক হাজার ৩৮৩ জন অংশ নেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯৬ জন, মানবিকে ২৫৮ জনের মধ্যে ১৯ জন এবং বাণিজ্যে ২৮৪ জনের মধ্যে ৬০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। জিপিএ-৫ পাওয়া সৈয়দা রিফাহ তাসফিয়া বলেন, আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। পাসের হার কমলেও কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগের মতোই ভালো ফল হয়েছে।

ঢাকা কলেজে বেড়েছে জিপিএ-৫ : ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজার ২৮২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ২৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯১ জন, যা গেল বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৩৮ শিক্ষার্থী। এ বিভাগে ৯১৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯১৫ জন। মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৯ জন। এ বিভাগে মোট ১৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছেন একজন। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, ছাত্রদের ঝরেপড়া রোধ তথা শতভাগ পাসের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আমি ঢাকা কলেজকে শতভাগ পাসের আওতায় আনতে চাই।

মতিঝিল আইডিয়ালে পাসের হার ৯৯.৮৫ শতাংশ : মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ১ হাজার ৩৬২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬০ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৪২ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৮১৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮১৪ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪৭ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ১৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন। অন্যদিকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৩৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৮৩ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭১ জন। কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ভালো ফল হয়েছে। তাদের সাফল্যে আমরা সন্তুষ্ট।

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ : এবারও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে কলেজটি। এ বছর সম্মিলিত পাসের হার ৯৯.৭৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৯২৭ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। ৯২৫ জন কৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৭৬৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪২৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৭০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছেন। এতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৯২ জন অংশ নিয়ে ৯১ জন পাস করেছেন। ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দুপুর দেড়টায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এ প্রশংসনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে কলেজের অভিজ্ঞ ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বোর্ড অব গভর্নরস এবং কলেজ প্রশাসনের সুযোগ্য নেতৃত্বের সঠিক দিকনির্দেশনা।

মাইলস্টোন কলেজের অসাধারণ সাফল্য : অসাধারণ সাফল্য ধারা বজায় রেখেছে রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনে অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ। এ বছর কলেজটি থেকে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ২ হাজার ২১১ ছাত্রছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৪৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৭৫১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮০৭ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩১৯ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ১৪১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। অধ্যক্ষ প্রফেসর সহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রছাত্রীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ছাত্রছাত্রীদের প্রতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবিড় মনোযোগ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা ছিল বলেই আমরা ধারাবাহিকতা রাখতে পেরেছি।

ঢাকা সিটি কলেজ : পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ হাজার ৩৭০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭২৫ জন, যা গেল বছরের তুলনায় কমেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন ১৭০১ জন, পাস করেছেন ১৬৯৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭১ শিক্ষার্থী। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৫৬৭ শিক্ষার্থী। পাস করেছেন ১৫৫৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪৪ জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০২ শিক্ষার্থী। পাস করেছেন ১০০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০ জন।

এইচএসসির ফল প্রকাশ

রাজধানীতে আনন্দের বন্যা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৮ জুলাই ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নাচ-গান, হাসি-কান্না আর আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে এইচএসসির ফল উদ্যাপন করেছেন রাজধানীর শিক্ষার্থীরা। বুধবার ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কলেজগুলোতে উচ্ছ্বাস যেন রূপ নেয় বাঁধভাঙা জোয়ারে। অভিভাবক ও শিক্ষকরাও শরিক হন সে আনন্দে। কেউ ‘ভি চিহ্ন’ দেখিয়ে আবার কেউ বা সেলফি তুলেছেন। তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগায় ভিড় ঠেলে নোটিশ বোর্ডে ফল দেখার চিরচেনা সেই চিত্র দেখা যায়নি। ইন্টারনেটে আগেই ফল জানলেও আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসে। প্রত্যাশিত ফলে যেমন ঝরেছে আনন্দাশ্রু তেমনি বাঁধভাঙা উল্লাসের আড়ালেও ছিল বেদনার চিত্র। আশানুরূপ ফল না পেয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সেখানে। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, নটর ডেম কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা কলেজ, আইডিয়াল স্কুল ও কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ ও সিটি কলেজ ঘুরে দেখা যায়- বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। সহপাঠীরা দল বেঁধে নাচ-গান করছেন, মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন। জানা গেছে, পাসের হার কিছুটা কমলেও কোনো কলেজেই ফল বিপর্যয় হয়নি।

রাজউকে এবারও শতভাগ পাস, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০.৬১ শতাংশ : আবারও শতভাগ পাসের সুনাম অর্জন করেছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। এ বছর রাজউক কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে সবাই পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২২ জন। রাজউকে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৩২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৪৩৮ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৮ জন এবং মানবিক বিভাগ থেকে ১১৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন।

রাজধানীর উত্তরা-৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত এ কলেজে বুধবার দুপুরে দেখা যায়, ফল পেয়ে শিক্ষার্থীরা গান আর বাদ্যের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন। জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, শুধু ইংরেজির জন্য গোল্ডেন পাইনি। নাবিলা মাহমুদা খানম বলেন, আমি দেশের জন্য কাজ করতে চাই। নওশীন তামান্না সিনথি বলেন, আমি ডাক্তার হতে চাই। ফলাফল প্রকাশের পর কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলম বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমরা দেশের শীর্ষস্থানীয় কলেজ হিসেবে স্থান দখল করে আছি।

ঈর্ষণীয় ফল নটর ডেম কলেজের : ঈর্ষণীয় ফল অর্জনকারী এ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ৩ হাজার ১৭২ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার মধ্যে পাস করেছেন ৩ হাজার ১৫০ জন। ফেল করেছেন ১১ শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৫ শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ হাজার ২৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তার মধ্যে ফেল করেছেন ৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৫৬ শিক্ষার্থী। বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৭৪৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। যার মধ্যে ফেল করেছেন ২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৪৩ শিক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ফেল করেছেন ৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ শিক্ষার্থী। নটের ডেম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমান্ত পিউস রোজারিও বলেন, কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য শুভেচ্ছা। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

ভিকারুননিসায় আনন্দ-উল্লাস : দুপুরে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ বছর এক হাজার ৯২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৭ জন ফেল করেছেন এবং ৫ জন অনুপস্থিত ছিলেন। পাসের হার ৯৯.৩২ ভাগ, যা গতবারের চেয়ে কমেছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৯.৭৮ ভাগ।

এবার মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞানে এক হাজার ৩৮৩ জন অংশ নেন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯৬ জন, মানবিকে ২৫৮ জনের মধ্যে ১৯ জন এবং বাণিজ্যে ২৮৪ জনের মধ্যে ৬০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। জিপিএ-৫ পাওয়া সৈয়দা রিফাহ তাসফিয়া বলেন, আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। পাসের হার কমলেও কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসী বেগম ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আগের মতোই ভালো ফল হয়েছে।

ঢাকা কলেজে বেড়েছে জিপিএ-৫ : ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজার ২৮২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ২৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯১ জন, যা গেল বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৩৮ শিক্ষার্থী। এ বিভাগে ৯১৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯১৫ জন। মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৯ জন। এ বিভাগে মোট ১৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছেন একজন। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, ছাত্রদের ঝরেপড়া রোধ তথা শতভাগ পাসের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আমি ঢাকা কলেজকে শতভাগ পাসের আওতায় আনতে চাই।

মতিঝিল আইডিয়ালে পাসের হার ৯৯.৮৫ শতাংশ : মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার ১ হাজার ৩৬২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬০ পরীক্ষার্থী পাস করেছেন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৪২ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৮১৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৮১৪ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪৭ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ১৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন। অন্যদিকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৩৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৩৮৩ জন পাস করেছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭১ জন। কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ভালো ফল হয়েছে। তাদের সাফল্যে আমরা সন্তুষ্ট।

ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ : এবারও সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে কলেজটি। এ বছর সম্মিলিত পাসের হার ৯৯.৭৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৯২৭ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নেন। ৯২৫ জন কৃতকার্য হয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৭৬৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪২৮ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৭০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাস করেছেন। এতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৯২ জন অংশ নিয়ে ৯১ জন পাস করেছেন। ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। দুপুর দেড়টায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এ প্রশংসনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে কলেজের অভিজ্ঞ ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বোর্ড অব গভর্নরস এবং কলেজ প্রশাসনের সুযোগ্য নেতৃত্বের সঠিক দিকনির্দেশনা।

মাইলস্টোন কলেজের অসাধারণ সাফল্য : অসাধারণ সাফল্য ধারা বজায় রেখেছে রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনে অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ। এ বছর কলেজটি থেকে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে ২ হাজার ২১১ ছাত্রছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৪৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৭৫১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮০৭ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩১৯ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ১৪১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। অধ্যক্ষ প্রফেসর সহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রছাত্রীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ছাত্রছাত্রীদের প্রতি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবিড় মনোযোগ এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা ছিল বলেই আমরা ধারাবাহিকতা রাখতে পেরেছি।

ঢাকা সিটি কলেজ : পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিল ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ হাজার ৩৭০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭২৫ জন, যা গেল বছরের তুলনায় কমেছে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছেন ১৭০১ জন, পাস করেছেন ১৬৯৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭১ শিক্ষার্থী। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৫৬৭ শিক্ষার্থী। পাস করেছেন ১৫৫৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪৪ জন। মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০২ শিক্ষার্থী। পাস করেছেন ১০০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০ জন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন