উখিয়ায় দেয়ালে দেয়ালে বার্মিজ সাংকেতিক চিহ্ন

জনমনে আতঙ্ক, তদন্তে বিভিন্ন সংস্থা * চিহ্নের অর্থ আমাদের গ্রাম

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাংকেতিক চিহ্ন

উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি-ঘরের দেয়ালে বার্মিজ ভাষার সাংকেতিক চিহ্ন আঁকা হয়েছে।

কে বা কারা এ চিহ্ন এঁকেছে তা জানা যায়নি। ইউনিয়নের ২০-২৫টি স্থানে এ চিহ্ন দেখে স্থানীয়দের মনে আতঙ্ক দেয়া দিয়েছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের রত্নাপালং ইউনিয়নের রত্নাপালং গ্রাম ও কোটবাজারের ঝাউতলাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানা প্রাচীরে রহস্যাবৃত এক বর্ণের চিহ্নটি দেখা যায়।

একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেয়ালে লেখা চিহ্নটি বার্মিজ ভাষার (রুয়্যা) একটি বর্ণ। বাংলায় এর অর্থ- আমাদের এলাকা বা গ্রাম। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক রোহিঙ্গা স্কুল শিক্ষকের কাছ থেকে চিহ্নের অর্থ জানা গেছে। এ চিহ্নের অনুসন্ধানে পুলিশসহ কয়েকটি সংস্থা মাঠে নেমেছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়ালে সাংকেতিক চিহ্ন আঁকার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উখিয়া থানার উপ-পরিদর্শক প্রভাত কুমার বড়ুয়া জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

সোমবার সকালে উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোটবাজার আলহাজ হাকিম আলী চৌধুরী কেজি স্কুল, কোটবাজার বালিকা বিদ্যালয়, রত্নাপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পালং মডেল হাই স্কুলের দেয়ালে এক বর্ণের সাংকেতিক চিহ্ন দেখতে পান স্থানীয়রা। একই চিহ্নটি দেয়ালের কিছু দূরত্বে একাধিকবার লেখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ছাড়াও রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসহাব উদ্দীনের বাসভবন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীরের বাড়ির সামনেও একই ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন আঁকা হয়েছে। হাকিম আলী কেজি স্কুলের উপাধ্যক্ষ একরামুল হক টিটু জানান, সাংকেতিক চিহ্নটি ইউনিয়নের অন্তত ১৭টি স্থানে দেখেছি। এ ধরনের চিহ্ন নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তিনি আরও জানান, কয়েকটি এনজিও’র কার্যালয়ের সামনেও একই চিহ্ন আঁকা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিমত- রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী এনজিও সংস্থার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে রোহিঙ্গা উগ্র-গোষ্ঠীর সদস্যরা দেয়ালে চিহ্নটি এঁকেছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যকে বাংলাদেশের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার যুক্তরাষ্ট্রের এক কংগ্রেসম্যানের প্রস্তাবের পর এ ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। রত্নাপালংয়ের ঝাউতলা গ্রামের ছাব্বির আহমদ ওরফে সোনা মিয়া (৫০) জানান, সব স্থানে কালো রং দিয়ে একই ধরনের চিহ্ন আঁকা হয়েছে। হঠাৎ করে দেয়ালে এ ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন দেখে তারা আতঙ্কিত। তারা এ চিহ্নের অর্থ খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকের ধারণা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বা জঙ্গিরা এ ধরনের চিহ্ন আঁকতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এক এনজিও কর্মী জানান, চিহ্নটি বার্মিজ বা মগা ভাষার সাংকেতিক চিহ্ন। তবে এর আভিধানিক অর্থ হল শক্তি প্রদর্শন করা বলে তিনি জেনেছেন। তিনি বলেন, এ তথ্য এক রোহিঙ্গা তাকে জানিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×