সিএইচসিপিরা অ্যান্টিবায়োটিক দেয় রোগীকে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রেসক্রাইব করে। এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। তাদেরকে রাখা হয়েছে শুধু প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য। অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করতে পারবে শুধু নিবন্ধিত চিকিৎসকরা। আমাদের এ বিষয়ে জোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজধানীতে বৃহস্পতিবার এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে অধিকতর কার্যকরী ও মানসম্পন্ন করা’ শীর্ষক ওই সেমিনারের আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে ছিলেন সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এমএ ফায়েজ, ইউএনএফপিএ’র সিনিয়র উপদেষ্টা ডা. এসএজে মো. মুসা, অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ ইকোনমিকস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এমএ হামিদ, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ইকবাল আনোয়ার, অধ্যাপক ডা. মো. লিয়াকত আলী, ডা. মো. আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।

সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৫টি জাতীয় গাইডলাইনের মোড়ক উন্মোচন করেন। এগুলো হল- ন্যাশনাল স্ট্র?্যাটেজিক প্ল্যানিং অব পেশেন্ট সেফটি, ন্যাশনাল গাইডলাইন অব ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল, অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল স্টেয়ার্ডশিপ কিউআই ফ্রেমওয়ার্ক, ন্যাশনাল আর এমএনসিএএইচ কিউআই ফ্রেমওয়ার্ক এবং ন্যাশনাল আইসিইউ কিউআই ফ্রেমওয়ার্ক।

জাহিদ মালেক বলেন, শিশু-কিশোরদেরকেও চিকিৎসা শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। যার মাধ্যমে দেশের জনগণ নিজেরাই নিজেদের সেবা করতে পারবে। এই সেবাকেও ঢেলে সাজাতে হবে। কেননা দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে এই সেবা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। এটাকে বন্ধ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, নন-কমিউনিকেবল রোগগুলো আমাদের বাড়ছে। এজন্য আমাদের জীবনযাত্রার মান পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। কেননা আমরা এ ধরনের রোগ প্রতিরোধে এখনও প্রস্তুত না। তাই এটা কেউ প্রাইমারি হেলথ কেয়ারের অন্তর্গত করতে হবে।

চিকিৎসকদের মেডিকেল প্র্যাকটিস সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের রেফারেল সিস্টেম এখনও দুর্বল। চিকিৎসকদের এক্ষেত্রে আরও মনোযোগী হতে হবে। চিকিৎসকদেরকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সময় কমাতে হবে। সরকারি হাসপাতালে তাদেরকে বেশি সময় দিতে হবে। দুই ধরনের প্র্যাকটিস বিশ্বের অন্যান্য দেশে নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের বেতন বাড়ানোর কথা আমরা ভাবছি।

দেশের ৫০ শতাংশ চিকিৎসা প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে কিন্তু সেখানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই উল্লেখ করে জাহিদ মালেক বলেন, অনেক সমস্যার কথা আমরা শুনি। কিন্তু সমাধান করতে পারি না, কেননা আমাদের সেই চর্চা নেই। আমাদের ক্ষমতা রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত যে কোনো হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়ার। কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না আমাদের চিকিৎসকদের সংযুক্তি বা যারা এ দায়িত্বে রয়েছেন তাদের সদিচ্ছা না থাকার কারণে।

দেশে চিকিৎসকদের অনুপাত ঠিক নেই উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ইমার্জেন্সি চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি। পদ সৃষ্টি করা ছাড়াও চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। নইলে এ সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজে রয়েছে যাদের কোনো হাসপাতাল নেই। রোগী না দেখেই তারা চিকিৎসক হয়ে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য খাতে বাজেট সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বাজেটে মেনটেনেন্সের জন্য মাত্র ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এ বরাদ্দ প্রয়োজন ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা। মন্ত্রী বলেন, দেশের এনজিগুলো স্বাস্থ্য খাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। তারা নিজেরাও কাজ করছে না, আমাদেরও কাজ করতে দিচ্ছে না। এতে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হচ্ছে না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাইরে কর্মকর্তাদের সংস্পর্শ বেশি। এটা অবশ্যই কমাতে হবে। আমাদের গড় আয়ু বাড়ছে তার মানে তার সঙ্গে আমাদের রোগের হারও বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে বিশেষভাবে নজর দেয়ার পাশাপাশি আমাদের গবেষণা আরও বাড়াতে হবে। আমাদের গবেষণা খুব কম, এ সংক্রান্ত বাজেটও কম। পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা চেইন অব কমান্ড ভালো করতে হবে। আমাদেরকে নেতৃত্বের দিকে ভালো নজর দিতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে আমাদের দায়িত্বগুলো সম্পন্ন করতে হবে।