দশ রুটে সক্রিয় অজ্ঞান পার্টি ‘ভোলাইয়া গ্রুপ’

গ্রেফতারের পর তথ্য দিয়েছে ৪ সদস্য

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে অজ্ঞান পার্টি ‘ভোলাইয়া গ্রুপ’র খপ্পরে ১০ বছরে নিঃস্ব হয়েছেন শতাধিক লোক। তাদের দেয়া জুস, পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময় হাসপাতালে ভর্তি হন ১৯ জন। এ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। তাদের সবার গ্রামের বাড়ি ভোলা জেলায়। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দশ রুটে এবং সড়ক ও নৌপথে এ গ্রুপের সদস্যরা সক্রিয় থাকে। গ্রুপের চার সদস্য কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য দিয়েছে।

নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন টাইগারপাস এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে ভোলাইয়া গ্রুপের অজ্ঞান পার্টির সদস্য চুন্নু (৩৫) ও আকবরকে (৩৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যে পুরাতন রেল স্টেশন এলাকা থেকে জসিম (৩২) ও নূর ইসলাম (৩৫) নামে আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সবার বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলা এলাকায়।

গ্রেফতার জসিম যুগান্তরকে জানান, ১০-১১ বছর আগে ভোলা থেকে চট্টগ্রামে আসার পর পূর্ব পরিচিত রফিক বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা হয়। তার সঙ্গে চুন্নুসহ নগরীর চকবাজার এলাকার একটি মেসে থাকত। রফিক বিশ্বাস ওরফে বলির কাছ থেকেই মানুষকে চোখের পলকে অজ্ঞান করার কাজের হাতেখড়ি তার। রফিক বিশ্বাসের সঙ্গে কাজ শুরু করে জসিম। দলের বাকি সদস্যসহ সবাই চট্টগ্রাম, ঢাকা, নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলার দশ রুটে অজ্ঞান করে যাত্রী বা পথচারীদের সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়ার কাজ করে। এমনকি ভোলায় গ্রামের বাড়িতে আসা-যাওয়ার সময়ও জসিম নিজে যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব হাতিয়ে নিত। জসিম জানায়, এ কাজ করে তার প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হয়। কোনো কোনো মাসে আরও বেশিও হয়। ওই টাকা দিয়ে সংসার চালাত।

নগরীর কোতোয়ালি এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, ১৬ জুলাই তিনি চট্টগ্রাম থেকে বাসে ফেনী যাচ্ছিলেন। এ সময় তার পাশে বসা লোকটি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করে। একপর্যায়ে তার হাতে থাকা চানাচুর, বিস্কুট খেতে দেয়। সেগুলো খাওয়ার পর পানির তৃষ্ণা পেলে তার কাছে থাকা জুস খেতে দেয়। জুস খাওয়ার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর তার কাছে থাকা ৯ হাজার টাকা নিয়ে যায় লোকটি।

কোতোয়ালি থানার ওসি মহসীন যুগান্তরকে বলেন, গ্রেফতার চারজনই দুর্ধর্ষ আন্তঃজেলা অজ্ঞান পার্টির সক্রিয় সদস্য। চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ১০ বছর ধরে তারা এ কাজে সক্রিয় আছে। তারা শুধু চট্টগ্রামেই ১০০ জনের বেশি লোককে অজ্ঞান করে সর্বস্ব হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাদের খাওয়ানো জুস ও পানি খেয়ে কয়েক মাসে ১৯ জন লোক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছি। শেষ পর্যন্ত ভোলাইয়া গ্রুপের সব সদস্যকে গ্রেফতারে সফল হয়েছি। এ গ্রুপটি চট্টগ্রামসহ দশ রুটে সক্রিয় থাকে।

কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, গ্রেফতার চারজন একসঙ্গে বাসে উঠে। এরপর তারা নির্দিষ্ট যাত্রীকে টার্গেট করে পাশে বসে। আলাপচারিতার মাধ্যমে ওই লোকের সঙ্গে ভাব জমাতে থাকে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যের হাতে থাকা চিপস, বিস্কিট, কেক, চানাচুর, ঝালমুড়ি নিজে খায় এবং পাশের লোককে খেতে দেয়। ওই লোকের পানির তৃষ্ণা পেলে অজ্ঞান হওয়ার ওষুধ মিশ্রিত জুস খেতে দেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ওই যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লেই তার কাছে থাকা টাকা-পয়সাসহ মালামাল নিয়ে চম্পট দেয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×