সরল বিশ্বাসে দুর্নীতির কথা বলিনি

-দুদক চেয়ারম্যান

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতির কথা বলেননি বলে দাবি করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ডিসি সম্মেলন শেষে আমি যে কথা বলেছি, আপনাদের কাছে তার ভিডিও ক্লিপ আছে। আপনারা দেখবেন, আমি কোথাও দুর্নীতি শব্দটি উচ্চারণ করিনি। এ বিষয়ে যারা লিখেছেন দায় তাদের, আমার নয়। তাই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতেও আমি প্রস্তুত নই। ভুল করলে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সৎ সাহস আছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শনিবার ‘দুর্নীতি দমন আইন ও বিচার বিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমরা চাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশিত হোক। সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যেন কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি কোনো ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্বীকার করব না, আমরা যাদের ধরি তাদের ৬০-৭০ ভাগই চুনোপুঁটি। এর কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। গ্রামের সাধারণ মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কার কাছে? আমি নাম নাইবা বললাম। বিভিন্ন অফিস-আদালতেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, এজন্যই চুনোপুঁটি ধরার সংখ্যা বেশি বলে তিনি জানান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ছোট গাছ যেভাবে সহজে উপড়ে ফেলা যায়, বড় বা বটগাছ সেভাবে উপড়ে ফেলা যায় না। তাই বলে যে আমরা বড় গাছ ধরছি না তা কিন্তু নয়। চুনোপুঁটিদের ব্যাপারে বক্তব্য হচ্ছে, আমরা ছোট মাছের পাশাপাশি বড় মাছও ধরছি। বর্তমানে সরকারি দলের প্রায় ১০-১৫ জন এমপি, মন্ত্রী আমাদের অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি দলের ১৫ জন, আরেকটি দলের ১২ জন, উভয় দলের ব্যবসায়ীদের ২৫ জন এবং ঊর্ধ্বতন আমলাদের মধ্যে সচিব থেকে শুরু করে যুগ্ম সচিব পর্যন্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। এমন কিছু করতে চাই না, যেখানে হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে। হাত ফিরে আসার নিশ্চয়তা নিয়েই ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হবে।

মানিলন্ডারিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ২০০ মানিলন্ডারিং মামলার মধ্যে ২২টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব মামলার শতভাগ সাজা হয়েছে। ২০০ মামলার তুলনায় এটা কিছুই নয়, তার পরও সমাজে তো একটা বার্তা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি বিষয়টি কঠিন। নিজের মধ্যে মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে না পারলে, মাইন্ড সেট করতে না পারলে, দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। এজন্য ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পড়ুয়াদের নিয়েই আমরা কাজ করছি। সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়। আমাদের বাচ্চাদের মূল্যবোধসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে। তিনি বলেন, স্বীকার করতে দ্বিধা নেই আমাদের সক্ষমতার অভাব আছে। দুদকের স্থানীয়ভাবে তদন্ত কর্মকর্তা ৩০০ বেশি নয়। এর মধ্যে একজন ডিএডি যদি সচিবের তদন্ত করে তাহলে কিভাবে হয়? তিনি আরও বলেন, এমন কোনো নথি নেই যেখানে জালিয়াতি পাওয়া যায় না।

দুদক কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ আমাদের টাইমলাইন মানতে রাজি নয়। এখন যদি আমি অ্যাকশন নেই তাহলে ৪৭৪ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে হয়। এজন্য আমি বিধি সংশোধন করে ১৫ দিনের জায়গায় ৪৫ দিন করেছি। এমনকি ৩০ দিনের জায়গায় ১৮০ দিন করেছি। তার পরও তদন্ত শেষ হয় না। নানা ধরনের ওজর-আপত্তি দেখানো হয়। এটা পাওয়া যায়নি, ওটা পাওয়া যাচ্ছে না; অনেক সমস্যা।

তিনি বলেন, আমাদের আস্থার সংকট রয়েছে কোনো সন্দেহ নেই। এক দিনে আস্থা ফিরে আসবে ন। আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দুর্নীতি দমন কমিশন আকাশ থেকে উড়ে আসেনি। এখানে যারা কাজ করে তারা বিদেশ থেকে আসেননি। এ দেশের মানুষ তারা। আমরা এই সমাজেরই অংশ। সমাজের অন্যান্য জায়গায় যা হয় এখানেও তা হয়।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, দুদক সম্পর্কে জনগণের মধ্যে ধারণা আছে, সংস্থাটি বিরোধীদের দুর্নীতি খুঁজে বেড়ায়। সরকারের কোনো লোককে নোটিশ দেয়ার পরও ছয় মাসেও সে নোটিশের জবাব দেয় না। তাই এই বিষয়গুলো দুদককে ক্লিয়ার করতে হবে। তবে নতুন কমিশন গঠনের পর পরিবর্তন এসেছে। তারা চুনোপুঁটি ধরছে কিন্তু শুধু চুনোপুঁটি ধরলেই হবে না বড়দেরও ধরতে হবে। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংক নিয়ে কিছুই করতে পারছে না দুদক। তারেক রহমানের অর্থ ফেরত এনেছে, কিন্তু আরও অনেকেই টাকা পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। আইন সবার জন্য সমান কিন্তু তা হচ্ছে না।

আবদুল মতিন খসরু বলেন, দুর্নীতিবাজদের সাজা নিশ্চিত করতে হবে। দুদককে ঢেলে সাজাতে হবে। তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন করে বিদেশে যারা বাড়ি গাড়ি করেছে তাদের ধরে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, দেশে সামাজিক মূল্যবোধ নেই, ধর্ষণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটি অশনি সংকেত। দুদককে বলেছি, দুর্নীতি বন্ধে স্কুল থেকে শুরু করতে হবে, পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সমাজে নৈতিকতা ফেরাতে হবে। তা না হলে আইন করে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×