আইনবহির্ভূত হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করছে ডিএনসিসি

এ ধরনের ট্যাক্স আদায় করে না ডিএসসিসি

  মতিন আব্দুল্লাহ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএনসিসি

আইনে নেই, তবুও নগরবাসীর কাছ থেকে কয়েকটি খাতে জোরপূর্বক ট্যাক্স আদায় করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সিস্টেমের ফাঁদে ফেলে এসব ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। যদিও আইনবহির্ভূত এ কাজ থেকে বিরত রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এদিকে একই শহরে দু’ধরনের নিয়মের কারণে এসব খাতের ট্যাক্স আদায় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জনগণের রোষানলে পড়ছেন ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারপরও অফিস আদেশের বাধ্যবাধকতায় তাদের ট্যাক্স আদায় করতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর ডিএনসিসির এক অফিস আদেশে নতুন করে নামজারি এন্ট্রি ফি, নতুন হোল্ডিং নম্বর, নির্মাণাধীন বাড়িঘরের হোল্ডিং নম্বর ১০ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। এসব খাতে আগে কোনো ট্যাক্স আদায় করা হতো না। ডিএসসিসি এ খাতে কোনো ট্যাক্স আদায় করে না। ওই অফিস আদেশে পি-ফরম, নামজারির আবেদন ফরম, ট্রেড লাইন্সের আবেদন ফরমের মূল্য বৃদ্ধি ও ট্রেড লাইসেন্স বহি মূল্য ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়। কঠোর সমালোচনার মুখে পরে ফরমের মূল্য বৃদ্ধির আদেশ বাতিল করা হয়। কিন্তু ট্যাক্স নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।

ডিএনসিসির অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের হোল্ডিংয়ের নামজারি এন্ট্রি ফি, নতুন হোল্ডিং নম্বর প্রদান ফি, নির্মাণাধীন বাড়িঘরের হোল্ডিং নম্বর খোলা ফি নির্ধারণ করা হল।’ আর আদেশের শেষে বলা হয়েছে, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আদেশ জারি করা হল, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।’ কিন্তু এ আদেশ কোন আইন বা ক্ষমতা বলে জারি করা হল, তা উল্লেখ করা হয়নি। আর সংশ্লিষ্টরাও এ ব্যাপারে সঠিক জবাব দিতে পারছেন না।

ডিএনসিসির এক কর কর্মকর্তা বলেন, ‘কোন ক্ষমতাবলে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে, আদেশে সে সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে (ডিএসসিসি) এসব খাতে কর আদায় করা হয় না। এ কারণে আমাদের এসব কর আদায় করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। সচেতন গ্রাহকদের এ সংক্রান্ত কোনো প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ ডিএনসিসির আরেক কর কর্মকর্তা বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনগুলোর নিজস্ব আয় দিয়ে চলতে হয়। সে কারণে আয়ের বিভিন্ন খাত সৃষ্টি করা সিটি কর্পোরেশনের কাজের মধ্যে পড়ে। তবে সমস্যা হচ্ছে, একই শহরে দুই রকম নিয়ম হওয়ায় সে আইন বাস্তবায়ন করতে আমরা রীতিমতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা না করলে যে কোনো সময় জনগণের মারধর খাওয়া লাগতে পারে।’

ডিএনসিসির এক বিভাগীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতি বর্গফুটের জন্য সিটি কর্পোরেশন এলাকাভেদে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে। এ ট্যাক্স যথাযথভাবে আদায় করলে সিটি কর্পোরেশনগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ সেদিকে দৃষ্টি না দিয়ে আইনবহির্ভূত ট্যাক্স আদায়ের কোনো মানে খুঁজে পাই না।’ মিরপুর-২ নম্বরের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন সম্প্রতি ডিএনসিসি থেকে তার নির্মাণাধীন ভবনের হোল্ডিং নম্বর নিতে ১০ হাজার টাকা ট্যাক্স দিয়েছেন। মঙ্গলবার ইসমাইল আলী যুগান্তরকে বলেন, ‘আগে ডিএনসিসির এ নিয়ম ছিল না। নতুন করে ট্যাক্স আদায়ের এ ফাঁদ পাতা হয়েছে। কড়ায়-গণ্ডায় ট্যাক্স আদায় করলেও আমরা ন্যূনতম সেবা পাই না ডিএনসিসি থেকে। এছাড়া আমি খবর নিয়ে জেনেছি, ডিএসসিসি এলাকায় এ খাতের জন্য কোনো ট্যাক্স আদায় করা হয় না। একই শহরে দুই ধরনের নিয়ম কেন থাকবে?’ এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র শ্রী বড়–য়া যুগান্তরকে বলেন, ‘২০১৫ সালে তৎকালীন কর্তৃপক্ষ কী কারণে এটা করছেন, তা বলতে পারব না। একই শহরে দুই ধরনের নিয়ম হওয়ায় সচেতন নাগরিকদের নানামুখী প্রশ্নে জর্জরিত হতে হচ্ছি আমরা।’এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অনেক আগের আদেশ। কোন আইনের ভিত্তিতে এটা করা হয়েছে, খোঁজখবর নিয়ে দেখব।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter