কিশোরগঞ্জে নিখোঁজ ছাত্রীর লাশ মিলল হাসপাতালে

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও হোসেনপুর প্রতিনিধি ২১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোচিং থেকে বের হয়ে নিখোঁজ নবম শ্রেণির ছাত্রী (১৪) আশার লাশ হাসপাতালে পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার লাশ পাওয়া যায়। দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত বলে আশাকে যুবক ডালিম (২৪) হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ডালিমকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলার সীমান্তবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের খুরশিদ মহল সেতু এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার ময়মনসিংহের পাগলা থানায় আশার মা আঙ্গুরা খাতুন দুর্ঘটনার মামলা করেছেন। এদিকে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশ পাঠিয়েছে পুলিশ।

পাকুন্দিয়া পৌর সদরের গুলিবাড়ী গ্রামের শাহাবুদ্দিনের মেয়ে আশা পাকুন্দিয়া উচ্চ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত। ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ডালিম একই গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার বিকালে কোচিং থেকে বের হয়ে তিন সহপাঠীসহ আশা নিখোঁজ হয়। দুই শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরলেও আশা বাড়িতে ফেরেনি। রাতে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে তার লাশ পাওয়া যায়। হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান, আশার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ইন্টারনাল হেমারেজে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। যুগান্তরকে তিনি জানান, হাসপাতালে আশাকে নিয়ে আসা যুবক ডালিম তাকে জানিয়েছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে দুর্ঘটনায় আশা গুরুতর আহত হয়। জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রারে আশাকে দুর্ঘটনার রোগী দেখানো হয়েছে। তবে আশার পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশকে ডালিম জানায়, সম্পর্কের সূত্র ধরে আশাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানোর সময় দুর্ঘটনা ঘটে। খুরশিদ মহল সেতুর অপরপাড়ে দত্তবাজার এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে আশা পড়ে যায় এবং মারাত্মক আহত হয়।

এরপর হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে সে নিয়ে আসে। আশার খালাতো বোন আকলিমা খাতুন ও ফুপাতো ভাই আলম বলেন, নির্যাতনের পর আশাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা জানতে পেরেছেন ডালিম ও অন্য এক যুবক মোটরসাইকেলের মাঝখানে আশাকে বসিয়ে কোথাও নিয়ে যাচ্ছিল। এটা খুরশিদ মহল সেতু এলাকার লোকজন দেখেছে। আকুলিমা ও আলমের প্রশ্ন, দুর্ঘটনা ঘটলে অন্যরা কেন আহত হয়নি? শুধু আশা কেন আহত হল! তারা বলেন, ডালিম একেক সময় একেক কথা বলছে।

ডালিম পুলিশকে বলেছে চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ পেছন থেকে পড়ে আশা গুরুতর আহত হয়েছে। আবার হাসপাতালে আশাকে নিয়ে ডালিম বলেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে দুর্ঘটনায় আশা আহত হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত আশার লাশ হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পড়েছিল। লাশ কোন থানায় নেয়া হবে তা নিয়ে ময়মনসিংহের পাগলা ও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার ওসি রাতে হোসেনপুর থানায় অবস্থান করেন। পরে আটক যুবক ডালিম এবং আশার লাশ পাগলা থানার ওসি শাহিনুজ্জামান খানকে হোসেনপুর থানা পুলিশ বুঝিয়ে দেয়।

সোমবার রাত ১২টার দিকে হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি সন্দেহজনক হওয়ায় ডালিমকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে পাগলা থানার ওসি শাহিনুজ্জামান খান জানান, আপাতত দুর্ঘটনার মামলা নেয়া হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অন্য কিছু এলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×