নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ: উপজেলা পর্যায়ে কমিটি নিয়ে বিরোধ চরমে

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ ২২ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিরোধ

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের উত্তর-দক্ষিণ বিরোধ প্রায় চার দশক পর ফের যেন চাঙ্গা হয়েছে। এই আগুনে ঘি ঢেলেছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা দিলেও এ নিয়ে চরম বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে সিনিয়র নেতাদের মাঝে।

অপরদিকে সদ্যসমাপ্ত রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চলছে চরম ক্ষোভ। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের গঠনতন্ত্রের ৩৮ ধারা অনুসরণ না করে ওই ২টি উপজেলায় সম্মেলন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় সম্মেলন না করেই প্রায় দেড় যুগ আগের উপজেলা ও থানা কমিটির সম্মেলন করে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির পথ রোধ করা হয়েছে।

কয়েক সিনিয়র নেতা বলেছেন, মন্ত্রী-এমপিরা নিজ এলাকার সভাপতি হয়ে প্রমাণ দিচ্ছেন তারা এখনও নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারেননি।

জানা গেছে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ৩ সদস্যের নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ১৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়।

কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেয়া এই কমিটিতে খালি থেকে যায় ৫টি পদ। এর মধ্যে সহসভাপতি, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকসহ দুটি সম্পাদকীয় পদ ও দুটি সদস্য পদ খালি রয়েছে। তাছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণার আগেই একজনের মৃত্যু হয়। সেইসঙ্গে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক কাওসার আহমেদ পলাশ ও কোষাধ্যক্ষ পদে মনিরুজ্জামান মনির পদত্যাগ করায় সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে বর্তমানে ৮টি পদ খালি আছে।

এই ৮টি পদ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এখন পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি। সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় খালি পদগুলো পূরণ করা নিয়ে বাদানুবাদে লিপ্ত হন নেতারা। সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় ৫টি উপজেলায় সম্মেলনের তাগিদ দেন নেতারা। সভার ৩ দিনের মাথায় অনেকটা তড়িঘড়ি করে ১৬ জুলাই রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। যেখানে রূপগঞ্জ আসনের এমপি ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী সভাপতি হন। একইভাবে ২২ জুলাই আড়াইহাজার উপজেলায় সম্মেলনে স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবু সভাপতি হন। এ নিয়ে দুই এলাকাতেই তৃণমূল কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। তারা বলছেন, মন্ত্রী-এমপিরাই যদি দলের পদে চলে আসেন তবে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে কী করে?

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল যুগান্তরকে জানান, বর্ধিত সভায় আমি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সবার কাছে অনুরোধ করেছিলাম, যেন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন শাখাগুলোর সম্মেলন শেষ করে উপজেলা ও থানা শাখার সম্মেলন করা হয়। এতে সংগঠন তৃণমূল থেকে শক্তিশালী হবে। কিন্তু রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলায় সেটি করা হয়নি।

পাশাপাশি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাফুজুর রহমান কালাম দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে নির্বাচন করায় তার বহিষ্কার দাবি ওঠে এবং সম্মেলনের দাবি করেন নেতারা। সভার দাবি অনুযায়ী আমরা জেলা ও সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি আহ্বায়ক কমিটি করে দেই এবং এর অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদককে অবগত করি। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে চরম বিভক্তি সৃষ্টি করছেন মেয়রপন্থীরা।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই যুগান্তরকে জানান, দলের গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, থানা বা উপজেলা সম্মেলনের আগে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন তথা তৃণমূল থেকে কমিটি করে আসতে হবে। কিন্তু এগুলো নিয়ে কোনো অভিযোগ কেউ করছে না। অথচ সোনারগাঁ উপজেলার যে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে সেটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তারপরও কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেটা দলীয় ফোরামে বলা উচিত। এগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে দলের চরম ক্ষতি করা হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×