প্রেমিক বাঁধনের আত্মসমর্পণ: আসমাকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা!

  যুগান্তর রিপোর্ট ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আত্মসমর্পণ

কমলাপুরে ট্রেনের বগিতে আসমা আক্তার (১৭) নামে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন মারুফ হোসেন বাঁধন (১৭) আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে সে পঞ্চগড় থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। আসমার সঙ্গে তার দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

বাঁধনের দাবি, সে আসমাকে হত্যা করেনি। দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে আসমাকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। পঞ্চগড় থানা পুলিশের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাঁধনকে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার জিআরপি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাঁধনের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, পঞ্চগড় থেকে রোববার আসমাকে নিয়ে পালিয়ে একটি লোকাল ট্রেনে চড়ে ঢাকায় যায় বাঁধন। কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি ছিনতাই চক্রের কবলে পড়ে তারা। দুর্বৃত্তরা বাঁধনকে আটকে রেখে আসমাকে ট্রেনের একটি বগিতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরে বাঁধন পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টি পরিবারের কাছে খুলে বলার পর বাঁধনকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত হয়।

মামলার বাদী ও নিহত আসমার চাচা রাজু আহম্মেদ জানিয়েছেন, বাঁধন ও তার পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে, ছিনতাইকারীরা তাকে (বাঁধন) জিম্মি করে আসমাকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। কিন্তু ঘটনার পর বাঁধন কেন আত্মগোপনে চলে গেল, কাউকে ঘটনা সম্পর্কে কেন জানালো না- সে প্রশ্নই সবার সামনে। বিষয়টা রহস্যজনক মনে হয়। তিনি বলেন, বাঁধন যদি আসমাকে হত্যা না-ও করে থাকে তবুও আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কারণ তার কারণেই আসমাকে এমন নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী যুগান্তরকে বলেন, জিআরপি পুলিশের কাছে বাঁধনকে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে যা বলেছে, তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা সার্কেলের এএসপি ওমর ফারুক বলেন, বাঁধনকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

প্রসঙ্গত সোমবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে ‘ওয়াশ ফিডে’ বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি বগির টয়লেট থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আসমার লাশ উদ্ধার করে কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশ। তার ব্যাগে থাকা মোবাইল নম্বর থেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওয়াশফিডে ট্রেনের বগিগুলো ধোয়ামোছার কাজ করা হয়। রোববার ওয়াশফিডে বলাকা কমিউটার ট্রেনটি ধোয়ামোছার পর পেছনের বগিটি (যেটিতে আসমার লাশ ছিল) খুলে রেখে যায় সংশ্লিষ্টরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে। বগিতে লাশ রয়েছে দেখেও তাৎক্ষণিক কেন পুলিশকে খবর দেয়া হয়নি, এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নিহত আসমা আক্তার পঞ্চগড় জেলা সদরের কনপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আবদুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে। সে স্থানীয় খানবাহাদুর মখলেছুর রহমান মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে। এরপর পরিবারের আর্থিক অনটনে তাকে আর ভর্তি করা হয়নি। পাশের গ্রামের ভুট্টোর ছেলে মারুফ হোসেন বাঁধনের সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দু’জনই একই মাদ্রাসায় একই ক্লাসে পড়াশোনা করত। তাদের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না পরিবার। রোববার সকালে মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে গেলে আসমা তার বাবার ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও নিজের জন্মনিবন্ধন সনদ নিয়ে নিখোঁজ হয়।

একই সময়ে তার প্রেমিক বাঁধনও নিখোঁজ হয়। দু’জন পালিয়ে একটি লোকাল ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর ট্রেনের বগির টয়লেটে মেলে আসমার লাশ। ময়নাতদন্তে চিকিৎসক ধর্ষণের পর হত্যার আলামত পান। শরীরে নির্যাতনের বিভিন্ন ক্ষতচিহ্নও পাওয়া যায়। চিকিৎসকদের সন্দেহ গণধর্ষণের পর আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে মৃতদেহ থেকে হাই-ভ্যাজাইনাল সোয়াব, টিস্যু, রক্ত ও ভিসেরা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিচার দাবিতে মানববন্ধন : আসমা হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ পঞ্চগড়বাসীর ব্যানারে মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সরকার বলেন, এর আগে দিনাজপুরের মেয়ে ইয়াসমিন হত্যার বিচারের দাবিতে গোটা উত্তরবঙ্গ ফুঁসে উঠেছিল। আসমা হত্যা ও ধর্ষণের বিচার না হলে আবারও ফুঁসে উঠবে উত্তরবঙ্গ। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ অবিলম্বে এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় দিন দিন ধর্ষণের মাত্রা বেড়েই চলছে। যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তারাও আইনের ফাঁকফোকরে বের হয়ে যায়। তাই সরকারের উচিত বিশেষ আইন করে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ধর্ষণকারীদের বিচার করা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×