কোচিং বন্ধে প্রতি প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের প্রস্তাব

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোচিং বন্ধ

‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা ২০১২’ সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। গভর্নিং বডি বা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে আহ্বায়ক এবং অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করে এ কমিটি গঠন করা হবে।

রোববার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক সভায় এ প্রস্তাব আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম গোলাম ফারুক। তিনি যুগান্তরকে বলেন, নীতিমালা বাস্তবায়নের ব্যাপারে বিভাগীয়, জেলা এবং উপজেলা কমিটি গঠনে বিধান আছে নীতিমালায়। প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কী হয় সেটি পর্যবেক্ষণে এমন প্রস্তাব এসেছে। তবে ২০১২ সালের নীতিমালা সংশোধনের পর এই প্রস্তাব কার্যকর হবে।

একশ্রেণির লোভী শিক্ষকের কারণে দেশব্যাপী কোচিং মহামারী আকার ধারণ করেছিল। শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে প্রাইভেট ও কোচিং করতে বাধ্য করা হতো। লেখাপড়া অনেকটাই চলে যায় শিক্ষকের বাড়িতে। সেই পরিস্থিতিতে ২০১২ সালে নীতিমালা করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন থেমে থাকার পর শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য পুনরায় বেড়েছে। শুধু তাই নয়, নীতিমালার কারণে এখন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লাগামহীন কোচিং বাণিজ্যে নেমেছে। বিশেষ করে রমজান মাসে এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ঘিরে জমজমাট হয়ে ওঠে এ বাণিজ্য। কেউ কোচিং করতে না চাইলেও তাকে ধার্য ফি স্কুল-কলেজকে দিতে হয়।

অভিভাবক ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, এ নীতিমালা শুরুতে ইতিবাচক ফল এনেছিল। কিন্তু বাস্তবায়নের অভাবে আর নীতিমালার দুর্বল দিকের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভয়ঙ্কর কোচিং বাণিজ্য করছে। এগুলো বন্ধে সংশোধিত নীতিমালায় বিধান থাকা জরুরি। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে কাউকে কোচিং করতে বাধ্য করতে না পারে সেজন্য কোচিং বন্ধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে।

বৈঠকে অংশ নেয়া এক কর্মকর্তা জানান, ২০১২ সালের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালায় বলা হয়েছে, একজন শিক্ষককে তার প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০ জন শিক্ষার্থী পড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে শুধু অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধান অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

সভা সূত্র জানায়, ২০১২ সালের নীতিমালায় একজন শিক্ষকের ১০ জন শিক্ষার্থী পড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটা কী একদিনে ১০ জন না মাসে ১০ জন তা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কারণ বর্তমানে একজন শিক্ষক সপ্তাহে একজন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ তিন দিন পড়ান। সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন পড়ালে অনেক শিক্ষার্থী পড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তাই নীতিমালার সংশোধনে বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রস্তাব এসেছে।

বৈঠকে মাউশি মহাপরিচালক কোচিং বাণিজ্য বন্ধ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তাতে দাবি করা হয়েছে, নীতিমালা হওয়ার পর বাণিজ্য কমেছে। তবে বাস্তবে দেশের প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই কোচিং-প্রাইভেটের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট-কোচিংয়ে যেতে বাধ্য করেন। অনেক শিক্ষক রীতিমতো কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। অনেকেই আবার বাসা ভাড়া করে পড়ান। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাউশি মহাপরিচালক বলেন, আমরা সারা দেশ থেকে আসা প্রতিবেদন সমন্বয় করে কোচিং কমার চিত্র পেয়েছি। তাই উপস্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×