ফেঞ্চুগঞ্জে পুলিশ ব্যারিকেডে জঙ্গি হানা: আতিয়া মহলে সেনা অভিযানের দৃষ্টি সরাতেই বোমা হামলা

পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে, পরে আসামিরা সবাই নিহত হন

  মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট ব্যুরো ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জঙ্গি হানা

২০১৭ সালের মার্চে সিলেটের জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ সেনা অভিযানকে বিভ্রান্ত করতেই অদূরে ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে পুলিশের ব্যারিকেডে জঙ্গি হামলা চালানো হয়।

মৌলভীবাজারের বড়হাটে অপর জঙ্গি আস্তানা থেকে আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য আশরাফুল আলম নাজিমসহ দুই জঙ্গি মোটরসাইকেলে এসে পর পর দুটি বোমা হামলা চালায়। এতে একজন সেনা কর্মকর্তা ও ২ জন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৭ জন নিহত এবং অপর ৫০ জন আহত হন। প্রায় আড়াই বছর পর সম্প্রতি আদালতে পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেয়া প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

আতিয়ার মহলে চালানো সেনা অভিযানের নাম ছিল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। এর ২০০ গজ দূরেই ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে ঐ হামলা হয়। মামলার অপর আসামি লোকমান ওরফে মোশারফ হোসেন ওরফে সোহেলকে জঙ্গিবাদে প্ররোচনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পরে বড়হাটে চালানো ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাসে’ আশরাফুল আলমসহ ওই দুই জঙ্গি এবং নাসিরপুর গ্রামে চালানো ‘অপারেশন হিটব্যাক’ এ লোকমান সপরিবারে নিহত হন। সম্প্রতি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ম আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে এসবই বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সিলেটের ইন্সপেক্টর দেওয়ান আবুল হোসেন। মামলাটি শুনানির জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ভোর রাতে সিলেটের শিববাড়ী এলাকার আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২৫ মার্চ সকাল থেকে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরু করে সেনাবাহিনী। সন্ধ্যায় পাশেই ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পুলিশ ব্যারিকেড দুই দফা বোমা হামলায় নিহত হন তৎকালীন জালালাবাদ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর চৌধুরী মো. আবু কয়সর, ছাত্রলীগ নেতা জান্নাতুল ফাহিম, অহিদুল ইসলাম অপু, ছাতক উপজেলার কাদিম শাহ, নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলাম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদ।

আহত হন আরও ৫০ জন। ২৬ মার্চ মোঘলাবাজার থানার উপ-পরিদর্শক শিপলু চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি পরে পিবিআইয়ে পাঠানো হয়। তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়ান আবুল হোসেন ২০১৯ সালের ৯ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন নিয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আতিয়া মহলে চালানো অভিযানের নজর অন্য দিকে সরাতেই জেএমবির আত্মঘাতী দলের সদস্য নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানার কুমার ঘড়িয়া গ্রামের সুলতান আহমেদের পুত্র আশারাফুল আলম নাজিম (২২) ও অজ্ঞাত এক জঙ্গি ওই হামলা চালায়। তারা সড়কে পুলিশি ব্যারিকেডে বাধাপ্রাপ্ত হন, পরে ভিড়ের মধ্যে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান এবং আরও একটি বোমা ব্যাগের মধ্যে ফেলে যান।

পরে তা নিষ্ক্রিয় করার সময় ফের বিস্ফোরণ ঘটলে ৭ জন নিহত এবং অপর ৫০ জন আহত হন। হামলার পর তারা মৌলভীবাজারের শেরপুরে ফিরে যান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন। পরে ২৯ মার্চ মৌলভীবাজারের বড়হাটে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। একই সময়ে মৌলভীবাজারের নাসিরপুর গ্রামে এই নব্য জেএমবির বিভাগীয় সমন্বয়ক দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ভাঙ্গাপাটা গ্রামের কাজী নুরুল হোসেনের ছেলে লোকমান হোসেন ওরফে সোহেলের অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত হন পুলিশ।

প্রতিবেদনে তাদেরকে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইনের ৩ ও ৪ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৫৩/৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯ মার্চের বড়হাটে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাসে’ নিহত হন আশরাফুল আলমসহ ওই দুই জন। এছাড়া একই দিনে নাসিরপুরে ‘অপারেশন হিটব্যাকে’ নিহত হন লোকমান হোসেন তার স্ত্রী শিরিনা আক্তার ও তাদের ৫ কন্যা আমেনা খাতুন, সুমাইয়া খাতুন, মরিয়ম বেগম, ফাতেমা বেগম ও খাতিজা বেগম।

প্রতিবেদনে অজ্ঞাত জঙ্গি সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী বলেছেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদনেই আসামিদের নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে, সেখানেই শুনানি হবে। এদিকে অজ্ঞাত আসামি পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিয়ে এখনও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বড়হাটের জঙ্গি আস্তানার নিহতের ঘটনার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর বিকাশ চন্দ্র।

ওই সময় জেলবন্দি মুসার স্ত্রী তৃষ্ণাকে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাসে’ নিহত একজনের ছবি দেখান সিটিটিসির সদস্যরা। তখন তৃষ্ণা নিশ্চিত করেন সেটি মুসার ছবি। কিন্তু সংগ্রহ করা তার মায়ের ডিএনএ পরীক্ষায় তা মেলেনি। এ ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহে কোনো সমস্যা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×