কীর্তনখোলার ভাঙন রোধ : ২১০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়ম

  সাইদুর রহমান পান্থ, বরিশাল ব্যুরো ২৯ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কীর্তনখোলা

বরিশালে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে ২১০ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ড্রেজিং, জিও ব্যাগ ফেলা এবং ব্লক তৈরিতে এ অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন নদী তীরের ভাঙন কবলিত বাসিন্দারা।

তারা বলছেন, এ প্রকল্প ভালোভাবে বাস্তবায়ন না হলে ভিটামাটি হারিয়ে পথে বসতে হবে তাদের। অনিয়মের বিষয়টি নজরে এলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে ২০৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এর মধ্যে নদীর গতিপথ ফেরাতে ৪১ লাখ ঘনমিটার বালু উত্তোলনের জন্য (নদী খনন) বরাদ্দ দেয়া হয় ৫৬ কোটি টাকা। বাকি ১৫৩ কোটি টাকা বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ও ব্লকের জন্য বরাদ্দ করা হয়। খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে সাব কন্ট্রাক্টে প্রকল্পের কাজ করছে কনফিডেন্স গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান জোডিয়াক ড্রেজিং লিমিটেড। ২০২০ সালের মে মাসের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রসুল সরদার বলেন, সঠিকভাবে নদী খনন করা হচ্ছে না। নদীর বালু কেটে নদীতেই ফেলা হচ্ছে। এতে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। নদী তীরে দুটি ডাইক তৈরি করার নির্দেশনা থাকলেও ডাইক করা হয়েছে একটি।

এছাড়া ব্লকের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, ব্লক তৈরিতে যে সাইজ এবং মানের পাথর ব্যবহার করার কথা রয়েছে তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। মরা ও বড় বড় পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। বালুর বস্তা ফেলতে হবে নদী তীরের অন্তত ৫০ ফিট নিচ থেকে। তা না হলে নিচের দিকে ভাঙতে থাকলে উপরের বস্তা আস্তে আস্তে নদীর তলদেশে চলে যাবে। এক্ষেত্রেও সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে জুডিয়াক ড্রেজিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা সিডিউল মোতাবেক কাজ করছি। নিয়মের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ডাইকের বিষয়ে তিনি বলেন, আরেকটি ডাইক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে চর অনেক নিচু হওয়ায় আগে বালু ফেলে উঁচু করতে হবে। নয়তো চারদিক বেষ্টনি দিয়ে ডাইক তৈরি করা সম্ভব হবে না। ব্লক ও বালুর বস্তার বিষয়ে তিনি জানান, সাব কন্ট্রাক্টে ওগুলোর কাজ অন্য প্রতিষ্ঠান নিয়েছে। ব্লকের বিষয়ে দায়িত্বরতরা জানান, ব্লক তৈরিতে সিডিউল অনুযায়ী পাথর অর্ডার করা হয়েছিল। কিন্তু পাথর বিক্রেতা ট্রাকের ওপরে সিডিউল অনুযায়ী পাথর দিলেও ভেতরে বড় বড় পাথর দিয়ে দেয়। সে পাথর ফেরত দিয়ে সিডিউল অর্ডার অনুযায়ী পাথর আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম যুগান্তরকে বলেন, ব্লক তৈরিতে অনিয়মের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমার কাছে একটি ছবিও রয়েছে। কাজ স্লো হোক, তবু অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। ফ্রেশ পাথর আনবে তারপর কাজ শুরু হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক এবং চিফ ইঞ্জিনিয়ারকে বলা হয়েছে। বালুর বস্তার বিষয়ে অভিযোগকারীদের সরাসরি তার কাছে অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এ ব্যাপারে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, কোনো অনিয়ম হলে বিল আটকে দিয়ে শাস্তি দেয়ার বিধান রয়েছে। মাত্র ১৫ ভাগ কাজ হয়েছে। এখানে প্রতিমন্ত্রী ও আমরা সরাসরি মনিটরিং করছি। কোনো অনিয়ম হতে দেয়া যাবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×