স্মরণসভায় বক্তারা: গোলাম সারওয়ার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। ছবি: যুগান্তর

গোলাম সারওয়ার শুধু প্রথিতযশা সাংবাদিক ছিলেন না; তিনি সরল, সৎ, সদালাপী, সদা হাস্যোজ্জ্বল, নিরহংকারী মানুষ ছিলেন। কখনও নিজের মতামতকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতেন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছেন। নিজস্ব রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আদর্শ থাকলেও ভিন্নমতের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীন ও সত্যের পথে অবিচল ছিলেন। এ কারণেই তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

শুক্রবার বরেণ্য সাংবাদিক গোলাম সারওয়ারের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এ কথা বলেন। তেজগাঁওয়ের টাইমস মিডিয়া ভবনে সভার আয়োজন করে গোলাম সারওয়ার নাগরিক স্মরণ পরিষদ।

জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান, দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয়

প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনূর রশীদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ, কবি কামাল চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ঢাবির সাবেক উপাচার্য আআমস আরেফিন সিদ্দিক, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘গোলাম সারওয়ারের সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তিনি সব সময় সত্যের পক্ষে অবিচল ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। তিনি প্রশংসা ও সমালোচনা দুটোই করতেন।’

মওদুদ আহমদ বলেন, ’৬৭ সালে তার সঙ্গে পরিচয়। তরুণ সাংবাদিক হিসেবে দৃঢ়তা, সাহস ও সততা নিয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার রিপোর্ট করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি একজন উঁচু মনের মানুষ ছিলেন।

আসম আবদুর রব বলেন, ‘ষাটের দশক থেকে তার সঙ্গে সম্পর্ক। কখনও বিমর্ষ দেখিনি। তার নিজস্ব রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আদর্শ থাকলেও তিনি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে ছিলেন আপসহীন। সংবাদ পরিবেশনেও অত্যন্ত কৌশলী ছিলেন।’

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘একবার শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানে নিউটনের উদ্ধৃতি দিয়ে গোলাম সারওয়ার বলেছিলেন, কৌশল হল এমন একটা বিষয়, যা দিয়ে কাজ করলে কখনও তোমার শত্রু তৈরি হবে না। ব্যক্তিজীবনেও গোলাম সারওয়ার তা অনুসরণ করেছেন। এ কারণে তার চরিত্রে বহুমাত্রিকতার ছাপ পড়েছিল।’

মাহফুজ আনাম বলেন, ‘একজন সাংবাদিক হিসেবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হচ্ছে- স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রসারে, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সত্য কথা বলা। তার মতো সৎ থেকে সঠিক সংবাদ প্রচার করা।’

আবেদ খান বলেন, ‘কর্মের মাধ্যমেই তিনি সারওয়ার থেকে গোলাম সারওয়ার হয়েছিলেন, সাংবাদিকতার দিকপাল হয়েছিলেন। তিনি ছড়াকার ছিলেন। তার গুণাবলিই তাকে মহীরুহে পরিণত করেছে।’

দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ‘গোলাম সারওয়ার জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন তৈরি করেছিলেন। তিনি আমার শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘ ৬ বছর তার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২১ ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি। অতীতে যে সময় গণমাধ্যমে ক্ষয়িঞ্চুতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা থেকে উত্তরণে ভূমিকা রেখেছিলেন গোলাম সারওয়ার। আজ আবার ক্ষয়িঞ্চুতা তৈরি হয়েছে। নীতি-নৈতিকতার দিক দিয়ে যদি সে ক্ষয়িঞ্চুতা আটকে দিতে হয় তাহলে তার আদর্শের বিকল্প নেই।’

তথ্য সচিব আবদুল মালেক বলেন, ‘গোলাম সারওয়ার সহজ, সরল, সৎ, সদালাপী, সদা হাস্যোজ্জ্বল, নিরহংকারী ছিলেন। কখনও নিজের মতামতকে অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতেন না।’

অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তিনি (গোলাম সারওয়ার) মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়ায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। এ ধরনের মানুষ এখন বিলুপ্তের পথে। গুণাবলির কারণে তিনি এখন অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।