নারায়ণগঞ্জ হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাট: অদক্ষ শিশু-কিশোরের হাতে হাজারও ট্রলারযাত্রীর প্রাণ

১০টি ট্রলারের ৬টিতেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক * ভাড়া দেয়া হচ্ছে মাত্র ৪০০ টাকায়

  রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাণ

নারায়ণগঞ্জ ও বন্দর উপজেলার ব্যস্ততম নবীগঞ্জ খেয়াঘাট। ভোর থেকে গভীর রাত অবধি এই ঘাটে চলাচলকারী ডজনখানেক ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চালাচ্ছে অদক্ষ শিশু-কিশোররা।

ফলে এদের হাতে শীতলক্ষ্যাপারের হাজার হাজার যাত্রীর প্রাণ। মাত্র ৪০০ টাকার বিনিময়ে অর্ধবেলার জন্য ইঞ্জিনচালিত যাত্রীবাহী ট্রলার ভাড়া দেয়া হচ্ছে শিশু থেকে উঠতি বয়সী কিশোরদের কাছে। অদক্ষ এসব শিশু-কিশোরের হাতে ভাড়ার বিনিময়ে ট্রলার দেয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন খেয়া পার হচ্ছেন দুই পারের কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শুক্রবার বিকালে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ১০টি ইঞ্জিতচালিত ট্রলারের ৬টিতেই রয়েছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক। যাদের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছর। এ ছাড়াও একটি ট্রলারে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া উঠাতে যে সহযোগী নেয়া হয়েছে, তার বয়স ১০ বছরেরও কম।

সরেজমিন শহরের হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে গিয়ে জানা গেছে, উন্নত যাত্রীসেবার মান নিশ্চিতের লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ ঘাটটিকে টোল ফ্রি ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। এরপরই এই ঘাটে বাড়ানো হয় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলার সংখ্যা। তবে রাত ৮টার পর টোল ফ্রি সুবিধা আর থাকে না। ঘাটের ইজারাদার ও ট্রলার মালিকদের সিন্ডিকেটের উদাসীনতায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের এই মহতি উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে পরিণত হয়। মাসের বেশির ভাগ সময়ই এই ঘাটের জেটি থাকে পানির নিচে।

শিশু-কিশোররা যুগান্তরকে জানায়, ভোর থেকে ট্রলার থাকে নিজ নিজ মালিকদের দখলে। দুপুরের পর থেকে যাত্রীচাপ কিছুটা কমে এলে ট্রলার ভাড়ায় খাটায় মালিকপক্ষ। তখন ৪০০ টাকায় ট্রলার ভাড়া নিয়ে তা চালাতে পারে যে কেউই। ঘাটে ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকার মাঝি জানান, ট্রলার মালিক সমিতি সিন্ডিকেট বেশ শক্তিশালী।

এদের রয়েছে নিজস্ব বলয়। কোনো যাত্রী ভাড়া নিয়ে ট্রলার চালকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে গেলে কিংবা ঘাটে এদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে গেলেই ঐক্যবদ্ধভাবে যাত্রীদের হেনস্তা করে তারা। যাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘাটে ট্রলার চালায় এমন চালকদের অধিকাংশই শিশু-কিশোর ও মাদকাসক্ত।

রাত ৮টা থেকে গভীর রাত অবধি এই শিশুরা শত শত যাত্রী নিয়ে নদী পার হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় বড় নৌ-দুর্ঘটনায় অনেক প্রাণ ঝরে যেতে পারে। কিন্তু এই ঘাটের ইজারাদার বা ট্রলার মালিকদের আমরা খুঁজেই পাই না, যাকে এসব বলব। শুনেছি, স্থানীয় কাউন্সিলরকে এসব দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকেও খুঁজে পাওয়া যায় না। ঘাটের ইজারার সঙ্গে যুক্ত সাবেক এক ইজারাদার বলেন, আমাদের হাত থেকে ঘাট নিয়ে যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় এ অবস্থা। এখন আর কেউ দায়িত্ব নিয়ে ঘাটের যাত্রীদের ওঠানামায় ব্যবহৃত কাঠের তৈরি জেটিগুলো মেরামত করে না। ফলে প্রতিনিয়তই এসব ভাঙা জেটি দিয়ে চলাচলের সময় জখম হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর আফজাল হোসেনের সঙ্গে কয়েকদিন কয়েক দফা মোবাইল ফোনে এবং সশরীরে গিয়েও দেখা মেলেনি।

এদিকে শিশুশ্রমের বিষয়টি এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামালকে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, শিশু-কিশোরদের ট্রলার চালানোর বিষয়টি শ্রম অধিদফতরের আওতাধীন, এটা দেখা আমাদের এখতিয়ার না। তবে শিশুশ্রমের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যূথিকা সরকার গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। শিগগিরই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×