বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম ‘বিকল’ করে দিল বিএমএ

এ পদ্ধতিতে হাজিরার পরিপত্র বৈষম্যমূলক -বিএমএ * বাতিল দাবিতে প্রতীকী কর্মসূচি পালন

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএমএ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ- চমেক হাসপাতালে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বায়োমেট্রিক হাজিরার ‘সিস্টেম’ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন- বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নেতারা।

মঙ্গলবার রাতেই হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় রক্ষিত বায়োমেট্রিক সিস্টেমের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষসহ হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দিতে পারেননি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিএমএ জানিয়েছে, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরার যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, তা বৈষম্যমূলক। তারা এই পরিপত্র তথা পদ্ধতিতে হাজিরা মানবেন না। তারা পরিপত্র বাতিল চেয়ে প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ পদ্ধতিতে হাজিরা দেননি। বায়োমেট্রিক সিস্টেমের ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে চমেক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, বায়োমেট্রিক সিস্টেমে হাজিরা বিচ্ছিন্ন করে বিএমএ নেতারা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করেছেন।

চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনায় যেসব চিকিৎসক জেলা হাসপাতালে রোগী দেখতে চাইবেন না তাদের ওএসডি করে নতুন নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। নার্সরা যদি সেবা দিতে না চান, তাদেরও চাকরি ছেড়ে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। বেসরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের পড়াশোনা হচ্ছে, সে বিষয়ে তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন সরকারপ্রধান।

চমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বুধবার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, সকালে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার নেতারা বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেমের ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সুইচের ওপর কাপড় লাগিয়ে দেন। দুপুর পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দিতে পারেননি, আমিও না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানিয়েছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও স্বাস্থ্য মহাপরিচালককেও জানিয়েছি। দুপুরের পর আবার বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলার অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বায়োমেট্রিক সিস্টেমের সুইচের ওপর কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কাগজে লেখা রয়েছে- ‘পদোন্নতিতে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ক্যাডারে বায়োমেট্রিক হাজিরা চেয়ে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় বায়োমেট্রিক হাজিরা বয়কট, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার। বিএমএ, চট্টগ্রাম।’

সূত্র জানায়, এ প্রতীকী কর্মসূচির বিষয়ে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার পক্ষ থেকে সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, চমেকের অধ্যক্ষ এবং সিভিল সার্জনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। বুধবার কোনো চিকিৎসক বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা দেবেন না। চিকিৎসকরা আগের মতোই সনাতন পদ্ধতিতে হাজিরা দিয়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়ে দেয়া হয়। মঙ্গলবার রাতেই বিএমএ নেতারা হাসপাতালে রক্ষিত বায়োমেট্রিক সিস্টেমের ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মেশিনের ওপর কাগজ সেঁটে দেন।

বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান যুগান্তরকে বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিকে হাজিরার বিরুদ্ধে আমরা প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেছি। বৈষম্যমূলক এই পরিপত্রের বিরুদ্ধে আমরা। শুধু স্বাস্থ্য ক্যাডারে বায়োমেট্রিক হাজিরা দেখে চিকিৎসকদের পদোন্নতি বিবেচনা করা হবে। দেশের আর কোনো ক্যাডার সার্ভিসে এ নিয়ম নেই। অন্যান্য মেডিকেলে এখনও চালুই হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করার সুযোগ আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন কিনা তা আমার নলেজে নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×