ভোটে নয়, সমঝোতায় হবে কৃষক দলের কমিটি

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  তারিকুল ইসলাম

ভোটে নয়, সমঝোতার ভিত্তিতে হচ্ছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। ২১ বছর পর এই অঙ্গ সংগঠনটির কাউন্সিল অক্টোবরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে।

তবে ভোটের মাধ্যমে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দুই শীর্ষ পদে নেতা নির্বাচনের পরিকল্পনা থাকলেও কৃষক দলের ক্ষেত্রে তা হবে না বলে হতাশ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হোক- দলীয় হাইকমান্ডের কাছে এমন দাবি তাদের।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের মতোই আগামীতে বিএনপিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়ের কমিটি ভোটের মাধ্যমে করা হবে। তবে কাউন্সিলে একটি প্যানেলের ব্যাপারে যদি সবাই একমত থাকে তাও ঘোষণা হতে পারে। সেটিও তো নির্বাচনের মতোই। দুই-একটির ক্ষেত্রে এটা হতে পারে, যদি সবাই একমত থাকে।

কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু যুগান্তরকে বলেন, কোন পদ্ধতিতে কাউন্সিল হবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। এটা নেতার সঙ্গে আলাপ করে যে পদ্ধতিতে স্বচ্ছ এবং সবাই গ্রহণ করে সে পদ্ধতিতেই হবে। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার (আজ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে সংগঠনের নির্বাহী কমিটির বৈঠক রয়েছে। সেখানে কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

সংগঠনটির একাধিক নেতা জানান, কৃষক দলের কাউন্সিলে ভোট হবে না- এটা অনেকটা নিশ্চিত। সমঝোতার মাধ্যমেই কমিটি হচ্ছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনাও হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও কয়েকজন নেতা ভোট না হওয়ার পক্ষে। তাদের যুক্তি, কৃষক দল ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সমঝোতার ভিত্তিতে হলেও সমস্যা হবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।

আজকের কৃষক দলের নির্বাহী কমিটির বৈঠকের মতামত তাকে জানানো হবে। পরে তিনি সিদ্ধান্ত দেবেন। নেতারা আরও বলেন, বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে- এটিই হচ্ছে দলের হাইকমান্ডের পরিকল্পনা। এরই অংশ হিসেবে সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

যেখানে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সবার মতামত দেয়ার সুযোগ থাকে। এটিই মূলত নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কৃষক দলের ক্ষেত্রে ভোট না দিয়ে সমঝোতার দিকে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। এক্ষেত্রে আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদেরও সবার মতামত নেয়া উচিত। সবচেয়ে বড় কথা কমিটি করার ক্ষেত্রে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাত্রদল দিয়ে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তা সব মহলে প্রশংসা পেয়েছে। এটা যেন তিনি অব্যাহত রাখেন। কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও শাহবাগ থানার সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম যুগান্তরকে বলেন, কাউন্সিল হলে আশা করি ভোটের মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্ধারণ হওয়া উচিত। তারপরও দল যেটা সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই চূড়ান্ত।

যেহেতু দলের একটা ক্রান্তিকাল চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও যারা নীতিনির্ধারক তারা যেটা সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা সেটাই মানব। ১৯৯১ সালে প্রথম কাউন্সিলে আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে সভাপতি ও শামসুজ্জামান দুদুকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি করা হয়। পরে ১৯৯৮ সালের ১৬ মে সংগঠনটির দ্বিতীয় জাতীয় কাউন্সিলে মাহবুবুল আলম তারাকে সভাপতি ও শামসুজ্জামান দুদুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন মাহবুবুল আলম তারা।

এরপর সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লা ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি মারা গেলে সংগঠনের দ্বিতীয় সহ-সভাপতি ও তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব হলে তিনি কৃষক দলের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ২১ বছর পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত করে শামসুজ্জামান দুদুকে আহ্বায়ক এবং কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে সচিব করে ১৫৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, সংগঠনটির সারা দেশে মোট ৭৮টি সাংগঠনিক জেলা শাখা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ জেলা শাখায় নতুন কমিটি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আহ্বায়ক কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির হাইকমান্ড যদি সিদ্ধান্ত দেন ভোটে কৃষক দলের নেতৃত্ব নির্ধারণ হবে, সবাই খুশি হতো। কারণ গুটি কয়েক নেতা সমঝোতায় কমিটি চাচ্ছেন, তারা নির্বাচন দিলে কখনও জয়ী হতে পারবেন না।