জনবল সংকটে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন

সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন হয়নি ছয় বছরেও

  মতিন আব্দুল্লাহ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নানা জটিলতায় ছয় বছর ধরে আটকে আছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন। ফলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুই ভাগে বিভক্তির পর যেখানে জনবল বাড়ার কথা, সেখানে অবসর ও শূন্য পদসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ জনবল ঘাটতি রয়েছে। আর প্রস্তাবিত নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ আরও বেশি। জনবল সংকটের কারণে দুই সিটি কর্পোরেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিক সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবলের শূন্যতা পূরণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কয়েক দফা মাস্টাররোলভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কোনো রকমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এক দফা মাস্টাররোলভিত্তিক কিছু কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে তাদের দিয়েই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে। এ বিষয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনের বক্তব্য- জনবল ঘাটতির কারণে আমরা এটা করতে বাধ্য হচ্ছি। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বলছে, সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন করতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংশোধন করে পাঠাতে তারা দেরি করছে। এ কারণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন করতে দেরি হচ্ছে।

এছাড়া সাংগঠনিক কাঠামো, নিয়োগ বিধি এবং চাকরি বিধিমালা অনুমোদন না হওয়ায় বহুবিধ জটিলতারও সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- দুই সিটির জনবল কাঠামোয় জনসংযোগ বিভাগের প্রধান পদ হচ্ছে জনসংযোগ কর্মকর্তা। ডিএনসিসি নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণ করলেও ডিএসসিসি পুরাতন কাঠামো অনুসরণ করছে। ডিএসসিসিতে জনসংযোগ কর্মকর্তা ও প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা দু’জনই রয়েছে। এমন বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে দুই সংস্থার প্রশাসনিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া স্বাভাবিক নিয়মে পদোন্নতিও দেয়া হচ্ছে না। এতে ক্ষুব্ধ দুই সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সূত্র মতে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে দুই সংস্থার পক্ষে দুটি সাংগঠনিক কাঠামোর প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তাব পর্যালোচনা করে ঢাকা উত্তরের জন্য ১ হাজার ৮৫৮ এবং ঢাকা দক্ষিণের জন্য ২ হাজার ৪৮২ জন জনবল চূড়ান্ত করে। দুই সিটি কর্পোরেশন মিলে ৪ হাজার ২৮০ জন। যদিও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মোট জনবল ছিল ৫ হাজার ১১৭ জন। ফলে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয় নতুন সাংগঠনিক কাঠামো। জনবল কমানো, বিভাগীয় প্রধান, উপ-প্রধানসহ প্রত্যেক বিভাগের শীর্ষ পদের বেশিরভাগ পদ প্রেষণের জন্য বরাদ্দ রাখায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পরে দুই সংস্থার প্রত্যেক বিভাগের মতামতসহ ওই সাংগঠনিক কাঠামো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পুনরায় পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে উত্তরের জনবল ১ হাজার ৮৫৮ জনের স্থলে ২ হাজার ৫০০ এবং দক্ষিণের ২ হাজার ৪৮২ জনের স্থলে ৩ হাজার ৪০০ করার প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে প্রেষণের পদ কমানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপর থেকে এটা নিয়ে ফাইল চালাচালি হচ্ছে, কবে সমাধান হবে তা দুই সংস্থার কর্তা-ব্যক্তিদের কেউই জানেন না।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, বিভক্তির সময় ডিএসসিসি অংশে স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বেশি পড়ে। ফলে এ অংশে জনবল প্রয়োজন বেশি। পুরাতন কাঠামো হিসাবে ডিএসসিসির জনবল প্রয়োজন তিন হাজার। কিন্তু আছে প্রায় ২১শ’। অর্থাৎ আগের হিসাবেই প্রায় ৩০ শতাংশ ঘাটতি। নতুন হিসাবে এ ঘাটতি আরও বেশি। ফলে এর প্রভাব মারাত্মকভাবে পড়ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নাগরিক সেবায়।

অন্যদিকে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এএসএম মামুন যুগান্তরকে বলেন, পুরাতন কাঠামো অনুযায়ীই ডিএনসিসির জনবল থাকার কথা দুই হাজারের কিছু বেশি। অবসরসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন থেকে অনেক পদ শূন্য রয়েছে। হিসাব মতে, প্রায় ৩০ ভাগ জনবল ঘাটতি নিয়ে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবিত সাংগঠনিক কাঠামো হিসাবে জনবলের ঘাটতি আরও অনেক বেশি।

সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন করতে যে ঠেলাঠেলি চলছে তাতে মনে হচ্ছে আগামী ১০ বছরেও এটার অনুমোদন হবে না। এ বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডিএনসিসির এক প্রকৌশলী যুগান্তরকে বলেন, আমার মনে হয়, উনি ঠিকই বলেছেন। এসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সাংগঠনিক কাঠামো দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুমোদন করে দেয়ার পক্ষে। কিন্তু দুই সিটি কর্পোরেশনের যে ধরনের সহযোগিতা করা দরকার, সেটা তারা করছেন না। তারা স্থায়ী জনবল নিয়োগের চেয়ে অস্থায়ী জনবল নিয়োগের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। তবে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নানা ধরনের সংশোধনী দিয়েছে, সেসব সংশোধন করা হচ্ছে। এছাড়াও ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কিছু সংশোধন ও সংযোজন প্রস্তাব রয়েছে। সেসব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। আশা করছি যথাযথ নিয়ম মেনেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিএসসিসির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন পাবে। ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র ওসমান গনি যুগান্তরকে বলেন, ডিএনসিসির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদনের বিষয় কোন পর্যায়ে রয়েছে সেটি খোঁজখবর করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.