দৃশ্যমান উন্নয়ন এক বছরের মধ্যেই

  জাভেদ মোস্তফা, সাভার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাভার পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হয়েছে ২০ বছর আগে। বরাবরই বিরোধী রাজনৈতিক দলের দখলে এই পৌরসভা থাকায় এর উন্নয়ন নিয়ে পৌরবাসীর রয়েছে নানান অভিযোগ। বর্তমান মেয়র হাজী আবদুল গনি সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। দুই যুগ পর প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। মহাসড়কে ময়লার স্তূপ, জলাবদ্ধতা ভাঙাচোরা আঞ্চলিক সড়ক, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত বাড়িঘর ও বহুতল ভবন, ধসে পড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও প্রথম শ্রেণীর অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে পৌরবাসী। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই সাভার পৌরসভার। নেই খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্র, শিশুপার্ক ও নিজস্ব শপিং সেন্টার ও পৌর মার্কেট। তবে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নেই এই পৌরসভায়।

সাভার থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাভার আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। সাভার পৌরসভার মেয়রের দুই বছর হতে চললেও এই পৌরসভার দৃশ্যমান উন্নয়ন নেই। ৮ লাখ পৌরবাসী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে এই প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। সম্প্রতি কিছুটা উন্নয়ন হলেও তা পৌরবাসীর জন্য এখনও সামান্য বলেই মন্তব্য পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে হাজী আবদুল গনি যুগান্তরের কাঠগড়ায় বলেন, বরাবরই পৌরসভাটি বিরোধী দলের দখলে থাকায় কখনও তেমন উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে এর উন্নয়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই রাস্তাঘাট, মসজিদ মাদ্রাসা উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন করেছি। এছাড়াও চলতি বছর আরো ৩৫ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এসব কাজ শেষ হলেই পৌরসভার দৃশ্যমান উন্নয়ন পৌরবাসীর চোখে পড়বে। ময়লা আবর্জনার স্থায়ী জায়গা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করলেও স্থান না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে তিনি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছেন।

তার দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা নিয়ে আগামী বছর আর কোনো অভিযোগ থাকবে না। মহাসড়কে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ নিয়ে মেয়র বলেন, ১৫টি গাড়ির জায়গায় নতুন-পুরনো মিলে তার রয়েছে মাত্র তিনটি গাড়ি। তাই ময়লা নিয়ে পৌরসভাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তায় ও মহাসড়কে ময়লা ফেলা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শপিং সেন্টারকে নোটিশ করেছেন।

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার সম্বন্ধে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে সাভার থানা রোডে কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কমিউনিটি সেন্টার ভবন করা হলেও তা নিয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গে মামলা রয়েছে। যদিও সাভার পৌরসভা আদালতের একটি রায় পেয়েছে। এ নিয়ে আপিল করেছে জেলা পরিষদ। বর্তমানে ওই কমিউনিটি ভবনটি পুলিশের আবাসন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলে নতুন করে ভবনটির মেরামতের কাজ শুরু হবে। যত্রতত্র গরু ও মহিষ জবাই করা হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, সাভারের নামাবাজারে একটি পুরোনো জবাই খানা আছে। শিগগিরই এর সংস্কার করা হবে। তিনি নিজেও দুর্নীতিমুক্ত এবং পৌরসভার কর্মকর্তারাও দুর্নীতিমুক্ত আছেন। মেয়র হিসেবে আরও তিন বছর তার মেয়াদ থাকলেও পরবর্তীতে আবার নির্বাচিত হলে তিনি সাভার পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভায় উন্নীত করার কাজ চলমান রাখবেন। সেই পৌরসভাটি হবে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.