পল্লবীতে কলেজছাত্রী খুন

আঁখিকে ডেকে নিয়ে ঘাড় মটকে হত্যা

সুরতহাল প্রতিবেদন, ধর্ষণের আলামত ছিল * সাবেক প্রেমিককে খুঁজছে পুলিশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কলেজছাত্রী আঁখি আক্তারকে পল্লবীর মামার বাসা থেকে ফোনে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার স্বজন ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আঁখিকে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর ব্যাগে ভরে মৃতদেহটি বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের পাশে ফেলে যায় ঘাতকরা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আঁখির প্রেমিক সাব্বিরকে আটক করেছে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ। আঁখির সাবেক প্রেমিকসহ আরও দুই তরুণকে খুঁজছে পুলিশ। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে আঁখির মৃতদেহ সোমবার দাফনের জন্য তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার আণ্ডাচরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আঁখির মামা নুরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, তিন তরুণকে ঘিরেই আমাদের সন্দেহ। এদের মধ্যে একজনের নাম সাব্বির। তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আমরা জানতে পেরেছি, তার সঙ্গে আঁখির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আরও দুই তরুণের নাম পুলিশকে দিয়েছি। এ তিনজনের নামোল্লেখ করে আঁখির মামা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে রেলওয়ে থানায় এজাহার দিয়েছেন।

আঁখির মামাতো ভাই দুর্জয় ইসলাম রানা যুগান্তরকে বলেন, আমাদের সন্দেহ তিনজনের মধ্যে যে কেউ আঁখিকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। শুক্রবার রাত দেড়টা পর্যন্ত আঁখি সাব্বিরের সঙ্গে ইমোতে কথা বলেছে। শনিবার সকালে তার একটি ফোন আসে। আঁখি কলেজের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। অন্য সময় সে কলেজে যাওয়ার সময় বাসা থেকে ছোট বাচ্চাদের একজনকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত। ওইদিন সে একা বেরিয়ে যায়। ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াছিন ফারুক যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর সোমবার কলেজছাত্রী আঁখি আক্তারের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়িতে গেছেন। তার দাফন শেষে ঢাকায় এসে তারা মামলা করবেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাব্বির নামে সন্দেহভাজন এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া তার স্বজনদের সন্দেহভাজন আরও দুই তরুণকে আটকের চেষ্টা চলছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই আনিসুর রহমান যুগান্তরকে জানান, নিহত তরুণী আঁখির গলায় দাগ ছাড়াও তার ঘাড় মটকানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে ও ঘাড় মটকিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, নিহতের গোপনাঙ্গে ধর্ষণের আলামত ছিল। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে কলেজছাত্রী আঁখি আক্তার ধর্ষিত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। আঁখির গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার আণ্ডাচরে। তার বাবা আরিফ ও মা হাসনা হেনা প্রবাসী। গত ৫ বছর ধরে তারা মরিশাসে থাকেন। পল্লবীতে আঁখির আরেক মামা রোকন ও মামি জেসমিনের কাছে থাকতেন। রোকন খান যুগান্তরকে জানান, আঁখি শনিবার সকালে মিরপুর ১২ নম্বরের ই ব্লকের ৩৩ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলার বাসা থেকে কলেজের কথা বলে বেরিয়ে যায়। যদিও কলেজ বন্ধ ছিল। কবে খুলবে তার খোঁজ নিতে বাসা থেকে বেরিয়েছিল বলে জানিয়েছিল। এরপর থেকে নিখোঁজ হয় আঁখি। এ ব্যাপারে শনিবার রাত ১টার দিকে মিরপুর থানায় জিডি করেন রোকন খান। তিনি জানান, আঁখি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন আঁখির বন্ধু সাব্বিরের কাছ থেকে। সাব্বির ফোনে আঁখির বাবা-মাকে জানায়। রোববার ভোরে বিমানবন্দর রেল স্টেশনে লাশ পাওয়ার বিষয়টিও সাব্বিরের মাধ্যমেই জানতে পারেন। তিনি বলেন, সাব্বিরকে আগে চিনতাম না। পরে জানতে পেরেছি তার সঙ্গে আঁখির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সাব্বিরও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আঁখির লাশ দেখতে গিয়েছিল। তার আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter