রাজধানীতে ঠিকাদার হত্যা

১৪ বছর আগে চেয়ারম্যান হত্যার যোগসূত্রের খোঁজ

৩ মাস ধরে বস্তিতে ভাড়া ঘরে আলাদা থাকতেন নাসির

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বনানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়ায় ঠিকাদার নাসির কাজীকে গুলি করে হত্যার নেপথ্যের কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি তদন্ত সংস্থা। ক্লু-লেস এই হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগের অনেক ঘটনা পর্যালোচনা করছেন। ১৪ বছর আগে রাজধানীতে শরীয়তপুরের ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিএম খালেকের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। খালেক হত্যার ঘটনায় নাসির জড়িত ছিল। তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। এ কারণে ওই ঘটনার সঙ্গে নাসির হত্যার যোগসূত্র খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

এর আগে ২০১৫ সালে খালেক হত্যা মামলার একজন আসামি শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। এ বিষয়টিও গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। এর বাইরে রাজধানীর মহাখালী ও নিকেতন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে টাইলস লাগানোর ঠিকাদারি কাজ করতেন নাসির কাজী। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে কোনো বিরোধ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নাসিরের সঙ্গে তার স্ত্রী সেলিনা কাজীর সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। তাছাড়া তিনি আর্থিক সংকটেও ছিলেন। তার স্ত্রী-সন্তান রাজধানীর দক্ষিণখানে থাকলেও নাসির তিন মাস ধরে বনানী এলাকার একটি বস্তিতে ৭০০ টাকায় কক্ষ ভাড়া করে থাকতেন। তবে পুলিশের ধারণা, বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

এদিকে নাসিরের পরিবারের অভিযোগ, তিনি খালেক হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিলেন। এ কারণে বিএম খালেকের পরিবার নাসিরকে বিভিন্ন সময় হুমকিও দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার পরিবার জড়িত থাকতে পারে। তবে গোয়েন্দারা বলছেন, খালেক হত্যা মামলার ঘটনায় নাসির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। নাসির ওই হত্যা মামলার সঠিক বিচারের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারতেন। তাই নাসির খুন হওয়ায় খালেক হত্যা মামলার বাদীপক্ষেরই ক্ষতি হয়েছে। তবুও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মামলার বাদী ও নাসির কাজীর মেয়ে নারগিস আক্তার নিপু কাজী যুগান্তরকে বলেন, বাবা (নাসির কাজী) খালেক হত্যা মামলার ১০ নম্বর আসামি ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি কারাগারেও ছিলেন। ওই মামলার চার্জশিটে বাবাকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর থেকে খালেকের পরিবার বাবাকে নানাভাবে হুমকি দিত। এ ঘটনার পেছনে তারা থাকতে পারেন।

এখন পর্যন্ত নাসির কাজী হত্যায় কোনো ক্লু না পেলেও বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে গোয়েন্দারা বলছেন, অনেক সময় নিয়ে পরিকল্পনা করে নাসির কাজীকে হত্যা করা হয়েছে। খুনিরা ভাড়াটে হতে পারে। তবে খুনিদের সহযোগী হিসেবে মহাখালীর কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারণ স্থানীয় কেউ জড়িত না থাকলে পুরো এলাকার ২৬টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা অকেজো করে হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষদর্শী খুঁজে পায়নি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা। এ কারণে কয়জন হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল তা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

বনানী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ও নাসির হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইহান ওলিউল্লাহ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত হত্যার ঘটনার নিশ্চিত কোনো ক্লু পাইনি। তবে তদন্ত চলছে। কয়েকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। আশা করছি শিগগিরই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

শরীয়তপুরের ইদিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন শিকারী যুগান্তরকে বলেন, আমি নিজেও খালেক হত্যা মামলার আসামি। আমার জানা মতে, নাসির কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাকে কে বা কারা হত্যা করেছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

সিসি ক্যামেরা অকেজো ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্টদের : দুই বছর ধরে বনানীর মহাখালী দক্ষিণপাড়া এলাকা ২৬টি সিসি ক্যামেরা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। দক্ষিণপাড়ার সব অলিগলিও সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে। এর মধ্যে রোববার সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ গলিতে ঠিকাদার নাসির কাজীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের কেউ না কেউ জড়িত। দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদে বিভিন্ন সময় নাসির কাজী টাইলস লাগানোর কাজ করেছেন। সর্বশেষ ১৫ দিন ধরে তিনি মসজিদে টাইলস লাগানোর কাজ করেন। দক্ষিণপাড়ায় কাজ শুরু করার পর থেকেই নাসিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল খুনিরা। স্থানীয় পর্যায়ে কারও সহায়তা নিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো করে হত্যার মিশন বাস্তবায়নের বিষয়টি অভিনব। খুনিরা পেশাদার এবং কোনো ক্লু যেন না থাকে এগুলো নিশ্চিত হওয়ার পরই মিশনে নামে।

এদিকে সোমবার দুপুরের পর নাসির কাজীর লাশ শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের মাছুয়াখালী গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter