জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর: বাজার তদারকিতে শুধুই হাঁকডাক

অসন্তুষ্ট ভোক্তা * মনিটরিংয়ের বিশেষ পরিকল্পনায় ভোক্তা উপকৃত হবে -মনজুর শাহরিয়ার

  ইয়াসিন রহমান ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোক্তা

ঢাকার বাজারে সব ধরনের পণ্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই পণ্যের দাম বাড়ছে। সুযোগ পেলেই বিক্রেতারা ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে।

কিন্তু জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের বাজার তদারকি টিম কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। শুধু হাঁকডাকের মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। নিত্যপণ্যের ক্রেতারা এমন অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার কারওয়ানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. সেলিম বলেন, কাঁচাবাজারের চেয়ে সুপারশপ ও হোটেল রেস্টুরেন্টে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের কর্মকর্তারা বেশি তদারকি করেন। কাঁচাবাজারে তাদের দেখা যায় না। এমন অভিযোগ শুধু সেলিমের নয়, এ অভিযোগ সাধারণ ভোক্তাদের।

শনিবার রাজধানীর নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বাজারে এখন শীতের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। দাম আকাশছোঁয়া। কৃষক যে দামে সবজি বিক্রি করছেন, ভোক্তা পর্যায়ে তা দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে পণ্য বিক্রি করছে। মধ্যস্বত্বভোগীরাও মুনাফা লুটছে। কিন্তু অধিদফতরের তদারকি সেদিকে নেই। গুরুত্ব দিয়ে তাদের তদারকি করা দরকার।

একই বাজারে মাছ কিনতে আসা হেলেনা বেগম বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। বাজারে সরবরাহও পর্যাপ্ত। কিন্তু এক কেজি ওজনের একটি ইলিশ দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে ১০০০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমেও কেন দাম কমছে না? কার কারণে দাম বাড়তি; কী কারণে বাড়তি তা দেখার জন্য অধিদফতরের কোনো মনিটরিং চোখে পড়েনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অধিদফতর সুনাম অর্জন করলেও বাজার মনিটরিংয়ে তাদের কার্যকর কোনো কার্যক্রম নেই। এদিকে অধিদফতরের বেশি নজর দেয়া উচিত। তাদের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নই।

রোববার রাজধানীর রামপুরা বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা লাকি আক্তার বলেন, বিভিন্ন সময় অধিদফতরের পক্ষ থেকে একাধিক বিষয়ে তদারকি করা হয়। হাঁকডাক দিয়ে তারা তদারকিতে নামেন। কিন্তু দু’য়েকদিন পর সেই তদারকি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, তদারকি অব্যাহত রাখতে না পারলে হাঁকডাক দেয়ার দরকার কী?

একই বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা শুভ ঘোষ বলেন, অধিদফতরের কয়েক কর্মকর্তা ফেসবুকে তাদের তদারকির ভিডিও লাইভ করেন। রাজধানীর কোনো একটা এলাকায় হঠাৎ গিয়ে তারা অভিযান চালান, দুয়েকটি দোকানে জরিমানাও করেন। ভোক্তা স্বার্থেই তারা অভিযান চালালে এত ঢাকঢোল পেটানোর কী আছে? তিনি বলেন, ঢাকঢোল না পিটিয়ে ভোক্তার স্বার্থে তাদের আরও বেশি সময় ধরে বাজার তদারকি করা উচিত। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াতে পারবে না। আর ভোক্তারাও কারসাজি থেকে মুক্তি পাবে।

জানতে চাইলে অধিদফতরের উপপরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, অধিদফতরের পক্ষ থেকে সপ্তাহে ছয়দিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অধিদফতরের জনবল কম থাকায় কর্মকর্তারা একেক দিন একেক এলাকায় তদারকি করেন। কাঁচাবাজারে তারা তদারকি করেন না এমন অভিযোগ সত্য নয়। কিছুদিন আগে পেঁয়াজের পাইকারি আড়তে নিজে তদারকি করেছি। পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙাতে বলেছি। সেখানে তালিকা না পেয়ে জরিমানাও করেছি। তিনি বলেন, ভোক্তার স্বার্থে তাদের তদারকি অব্যাহত থাকবে।

মনজুর শাহরিয়ার আরও বলেন, জনবল কম থাকায় কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে কর্মকর্তারা একেকদিন একেক বাজারে তদারকি করছেন। কাঁচাবাজার তদারকিতে বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন থেকে কাঁচাবাজার তদারকি করা হবে। মোকাম বা কৃষক পর্যায় থেকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দাম তদারকি করা হবে।

সেখানে কোনো অনিয়ম পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কারণ অধিদফতর ভোক্তার স্বার্থে কাজ করছে। আর আগামী দিনে কাজের পরিধি আরও বাড়বে। আশা করি ভোক্তা এ থেকে আরও বেশি উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×