আইওএম’র অনুষ্ঠানে বক্তারা: মানবপাচারে রোহিঙ্গারা ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রোহিঙ্গা

মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে দেশের বাইরে যাওয়ায় বাংলাদেশের অনেক অভিবাসী মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশাপাশি শিশুরাও পাচারকারীদের লক্ষ্যে পরিণত হচ্ছে। টার্গেটে পরিণত হয়েছে রোহিঙ্গারাও। তারা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রোববার ‘কম্প্রিহেনসিভ রেসপন্স টু ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সহযোগিতা করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স অ্যান্ড ইনফোর্সমেন্ট অ্যাফেয়ার্স (আইএনএল)।

পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার মানব পাচার রোধে পালেরমো প্রটোকল রেটিফাই করেছে। মানব পাচার রোধে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত কৌশল পাল্টাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরনো কায়দায় মানব পাচার রোধ সম্ভব নয়। তারা এই ব্যবসায় তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ট্র্যাফিকিং ইন পারসন (টিআইপি) প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে টানা তিন বছর টায়ার র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় টায়ারের ‘ওয়াচ লিস্টে’ রাখা হয়েছে। জুনে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় টায়ারে অবস্থান করছিল। অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ মানব পাচার নির্মূলে বাংলাদেশ যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, সর্বশেষ টিআইপি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় টায়ারে অবস্থান করছে। এটি উদ্বেগের বিষয়। কারণ পাচারের শিকার অনেক মানুষ এখন ভুক্তভোগী। বিভিন্ন সময় দেখা যায়, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের টার্গেট করে। আবার অনেক পাচারকারী দেশের অভ্যন্তরে দুর্বলদের শোষণ করে। পাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপ্পো বলেন, যারা প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত এবং ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে, তারাই বেশি পাচারের শিকার হচ্ছে। মানব পাচার রোধে সৃজনশীল এবং সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। যারা পাচারের শিকার হচ্ছে এবং যারা বেঁচে ফিরছে তাদের অবশ্যই সাহায্য করা উচিত।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশ মিশনের প্রধান গিওগিরি গিগাওরি বলেন, কর্মসংস্থানের অভাব, নিরাপদ অভিবাসনে সচেতনতার অভাব এবং অভিবাসনে অনেক বেশি খরচের কারণে মানুষ অনিরাপদভাবে দেশের বাইরে যাচ্ছেন।

আমরা তাদের অধিকার এবং ভালো থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। একই সঙ্গে মানব পাচার রোধে আমরা সব সময় সরকারের পাশে আছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে সরকার অনেকগুলো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। তবে সব পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে মানব পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ। মানব পাচারের ক্ষেত্রে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ কমিউনিটি। অনুষ্ঠানের ধারণাপত্রে বলা হয়, পাচারকারীরা ভারত, পাকিস্তান এবং এশিয়ার মধ্য পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলো ব্যবহার করে মানব পাচার করছে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন মার্কিন বিচার বিভাগের আবাসিক আইনজীবী এরিক ওপেঙ্গা, আইএনসিআইডিআইএন’র নির্বাহী পরিচালক একেএম মাসুদ আলী এবং আইওএম’র সিনিয়র মাইগ্রেন্ট প্রোটেকশন স্পেশালিস্ট জনাথন মাটেন্স। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, দাতা সংস্থা এবং উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×