থানাকে জনবান্ধব করতে প্রয়োজনে ওসিগিরি করব: ডিএমপি কমিশনার

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, থানাকে গণমুখী ও জনবান্ধব করতে চাই। অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষ যাতে থানায় গিয়ে কথা বলতে পারেন, হয়রানি ছাড়া মামলা ও জিডি করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে চাই।

থানা থেকে বের হয়ে মানুষ যেন বলেন- পুলিশ আন্তরিকভাবে আইনি সেবা দিচ্ছে, আমি ন্যায়বিচার পাব। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাব। প্রয়োজনে নিজেই থানায় গিয়ে ওসিগিরি করব।

রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল বলেন, ডিএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা থানায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। থানায় যারা কাজ করছেন তাদের আচরণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সংশ্লিষ্ট ডিসিদের (উপকমিশনার) থানায় বসাব। সপ্তাহে অন্তত একদিন সিনিয়র অফিসাররা থানায় সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন। সাধারণ মানুষ যাতে পুলিশভীতি থেকে বের হতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুক্রবার ডিএমপি কমিশনার হিসেবে শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেয়ার পর এটাই তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে- ঢাকার বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) ঘুরেফিরে ঢাকাতে থাকছেন। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগও রয়েছে। ডিসি ও এডিসিদের বদলি করা হলেও ওসিদের বদলি করা হয় না।

এসব প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) আছেন। এখন ওসি হিসেবে তাদের কোথাও কোথাও নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না। কোন অফিসার দিয়ে কোন কাজ করা যায় আমরা তা জানি, বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের পোস্টিং দেয়া হচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব নেয়ার পর ডিএমপির সব ওসিকে তিনি ডেকেছিলেন। তাদের বলা হয়েছে- থানায় কোনো পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে কেউ অন্যায় আচরণের শিকার হলে তাকে (পুলিশ) রক্ষার কোনো চেষ্টা করা হবে না। নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানি ও চাঁদাবাজির শিকার না হয় সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকায় ওসির দায়িত্ব জেলা শহরের চেয়ে আলাদা।

জেলা শহরে রাত ১০টার পর তেমন কোনো কাজ থাকে না। এখানে রাত ২টা পর্যন্ত ওসিকে কাজ করতে হয়। রাজধানীর লালবাগের একজন মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের ঘটনায় একজন ডিসিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ ওসিকে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ দেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কেবল বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, কার দায় কতটুকু, তা বিবেচনা করা হয়েছে। আমি কাগজপত্র দেখব।

ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে ও বিকালে অফিস শুরু ও ছুটির সময় ট্রাফিকের ডিসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাঠে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু সার্জেন্ট ও টিআইদের ওপর দায়িত্ব না দিয়ে এসব কর্মকর্তা যেন মাঠে থাকেন তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এককভাবে পুলিশের দায়িত্ব নয়। তবে আমাদের চেষ্টা যেন দৃশ্যমান হয়, সেটা নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় দেখে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের কাজ নয়। আইনের মধ্যে থেকে পুলিশ কাজ করে। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় হেলমেটধারীদের হাতে সাংবাদিক নির্যাতন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অনেক পুরনো বিষয়। আগে তদন্ত প্রতিবেদন দেখি।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ১০ বছর ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ সময় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে পুলিশ অনেক দূরে এগিয়ে গেছে। আমরা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের সেবা দেয়ার কাছাকাছি একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি। সেবার কথা বললেই সামনে চলে আসে থানার কথা। তাই থানাগুলোর দিকে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে চাই। থানাকে গণমুখী ও জনবান্ধব করতে আগের ডিএমপি কমিশনার অনেক কাজ করেছেন। বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং আরও গতিশীল করা হবে।

জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনে ভূমিকা কেমন হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিবাদ মতবাদে বিশ্বাসীদের ফিরিয়ে আনা দুরূহ। পুলিশের পক্ষ থেকে মানুষকে বোঝাতে আমরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসায় গিয়ে কথা বলছি। আমাদের ধর্মীয় গুরুদের সঙ্গে কথা বলছি, তাদের দিয়ে এ ভ্রান্ত মতবাদ থেকে মানুষকে বেরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নতুন করে যাতে জঙ্গি তৈরি না হয় সেদিকে আমাদের নজরদারি রয়েছে। যারা ইতিমধ্যে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে গেছে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। যারা জেলখানা থেকে বের হবে, তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে সেই কাউন্সিলিং করার প্রক্রিয়া আমাদের চলমান আছে।

সম্প্রতি পুলিশকে টার্গেট করে কয়েকটি ঘটনা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এসব ঘটনা প্রতিরোধে সতর্কতামূলক কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকের সরবরাহ রুখতে আমরা চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, শুধু মাদকের সরবরাহ রুখে কোনো দেশে মাদক নির্মূল করা কঠিন। যারা মাদক খাচ্ছে তারা কারও না কারও সন্তান। সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, মাদকের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব। মাদক সেবনের রাস্তা বন্ধ করতে না পারলে শুধু পুলিশ দিয়ে এটা সম্ভব নয়। অভিভাবকদের অনুরোধ করব, সন্তান মাদকাসক্ত হলে আমাদের সহযোগিতা নিন। মাদকের ব্যাপারে আমরা সব সময় জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। পুলিশের কোনো সদস্য মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে মাদক ব্যবসায়ীর মতো তার বিচার হবে। তিনি বলেন, পরস্পরকে সবাই সহযোগিতা করে ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×