কুমিল্লায় অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে উধাও পিন্টু সাহা
jugantor
কুমিল্লায় অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে উধাও পিন্টু সাহা
গোল্ড ডায়মন্ড প্রপার্টিজে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে চরম বিপাকে শত গ্রাহক

  আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় গ্রাহকের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন গোল্ড ডায়মন্ড প্রপার্টিজ কোম্পানির চেয়ারম্যান পিন্টু সাহা। আলোচিত এ প্রতারক নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার নামে কয়েকশ’ গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে ভারতে চলে গেছেন।

শুক্রবার রাত থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে নগরীতে ১০-১২টি নির্মাণাধীন প্রকল্প ফেলে সপরিবারে উধাও হন পিন্টু সাহা। এতে ওই কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট বুকিং এবং ক্রয় করে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

২০১২ সালের শুরুতে নগরীর রানীর বাজারে অফিস স্থাপন করে গোল্ড ডায়মন্ড প্রপার্টিজ নামে ডেভেলপার কোম্পানি খুলে নিজে চেয়ারম্যান বনে ভাইকে দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ। নগরীর বাগিচাগাঁওয়ে একটি ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে ডেভেলপার ব্যবসা শুরু করেন।

ব্যবসার শুরুতে তিনি গ্রাহকদের চুক্তি অনুসারে বেশকিছু ফ্ল্যাট হস্তান্তর এবং বিভিন্ন সময় গ্রাহক সমাবেশসহ নানা চমকপ্রদ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহদের আকৃষ্ট করেন। স্বল্প এবং আকর্ষণীয় কম মূল্যে নগরীর পরিচিত এবং প্রভাবশালী লোকজনদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচনায় চলে আসেন পিন্টু সাহা।

কিন্তু সম্প্রতি তার কথায়-কাজে মিল না থাকা এবং বেশির ভাগ সময় ভারতের কলকাতায় অবস্থান করা, স্ত্রী-সন্তানদের কলকাতায় সেটেল্ড করা এবং তার ভারতমুখী তৎপরতায় গ্রাহকদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বেশ কিছু গ্রাহককে চুক্তি অনুসারে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেয়ায় শুরু হয় হট্টগোল। এ প্রতারক একটি ফ্ল্যাট ৫-৭ জনের কাছে বিক্রির নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। শুক্রবার থেকে তাকে খুঁজে না পেয়ে তার অফিস এবং বাসায় গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, বাসার আসবাবপত্র, তার দুই ভাই, কর্মচারীসহ পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে অনেকে সারা জীবনের সঞ্চয়, কেউ আবার ব্যাংক ঋণ দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০-১২টি নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং বেশকিছুু প্রস্তাবিত প্রকল্পের নামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই প্রতারক।

সুলতান সফিউল্লাহ রিজভী জানান, ফ্ল্যাট দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে পিন্টু সাহা।

নির্মাণাধীন নাজমা পার্ক হেভেনের জমির মালিক ওমর জামান বলেন, চুক্তি ছিল ভবনের ৪০ ভাগ ফ্ল্যাট তাকে দিয়ে বাকি ৬০ ভাগ ফ্ল্যাট নিবে গোল্ড ডায়মন্ড। তাই দেড় কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি ভেঙে তিনি এখন ভাড়া বাসায় আছেন।

গ্রাহকদের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে তার কোনো চুক্তি হয়নি। এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। জাফর ইকবাল জানান, নাজমা পার্ক হেভেনে ফ্ল্যাট দেয়ার কথা বলে তার ভাগিনার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন পিন্টু সাহা।

পিন্টু সাহার মেজো ভাই পিয়াস সাহা বলেন, তার দুই ভাই পিন্টু এবং মন্টু শনিবার থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ বাসায় নেই। কোথায় গেছে তিনি জানেন না। তাদের ফোনও বন্ধ। মানুষ তাদের টাকার জন্য তার কাছে আসছেন। তিনি তাদের ব্যবসার বিষয়ে কিছু জানেন না। বাড়িটিও তারা ব্যাংকে বন্ধক রেখেছেন বলে তিনি জানান। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে এখনও কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি, ক্ষতিগ্রস্তরা চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

কুমিল্লায় অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে উধাও পিন্টু সাহা

গোল্ড ডায়মন্ড প্রপার্টিজে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে চরম বিপাকে শত গ্রাহক
 আবুল খায়ের, কুমিল্লা ব্যুরো 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুমিল্লায় গ্রাহকের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন গোল্ড ডায়মন্ড প্রপার্টিজ কোম্পানির চেয়ারম্যান পিন্টু সাহা। আলোচিত এ প্রতারক নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার নামে কয়েকশ’ গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ধশত কোটি টাকা নিয়ে ভারতে চলে গেছেন।

শুক্রবার রাত থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে নগরীতে ১০-১২টি নির্মাণাধীন প্রকল্প ফেলে সপরিবারে উধাও হন পিন্টু সাহা। এতে ওই কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট বুকিং এবং ক্রয় করে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

২০১২ সালের শুরুতে নগরীর রানীর বাজারে অফিস স্থাপন করে গোল্ড ডায়মন্ড প্রপার্টিজ নামে ডেভেলপার কোম্পানি খুলে নিজে চেয়ারম্যান বনে ভাইকে দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ। নগরীর বাগিচাগাঁওয়ে একটি ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে ডেভেলপার ব্যবসা শুরু করেন।

ব্যবসার শুরুতে তিনি গ্রাহকদের চুক্তি অনুসারে বেশকিছু ফ্ল্যাট হস্তান্তর এবং বিভিন্ন সময় গ্রাহক সমাবেশসহ নানা চমকপ্রদ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহদের আকৃষ্ট করেন। স্বল্প এবং আকর্ষণীয় কম মূল্যে নগরীর পরিচিত এবং প্রভাবশালী লোকজনদের ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচনায় চলে আসেন পিন্টু সাহা।

কিন্তু সম্প্রতি তার কথায়-কাজে মিল না থাকা এবং বেশির ভাগ সময় ভারতের কলকাতায় অবস্থান করা, স্ত্রী-সন্তানদের কলকাতায় সেটেল্ড করা এবং তার ভারতমুখী তৎপরতায় গ্রাহকদের মাঝে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বেশ কিছু গ্রাহককে চুক্তি অনুসারে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেয়ায় শুরু হয় হট্টগোল। এ প্রতারক একটি ফ্ল্যাট ৫-৭ জনের কাছে বিক্রির নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। শুক্রবার থেকে তাকে খুঁজে না পেয়ে তার অফিস এবং বাসায় গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, বাসার আসবাবপত্র, তার দুই ভাই, কর্মচারীসহ পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে অনেকে সারা জীবনের সঞ্চয়, কেউ আবার ব্যাংক ঋণ দিয়ে ফ্ল্যাট কিনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১০-১২টি নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং বেশকিছুু প্রস্তাবিত প্রকল্পের নামে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই প্রতারক।

সুলতান সফিউল্লাহ রিজভী জানান, ফ্ল্যাট দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে পিন্টু সাহা।

নির্মাণাধীন নাজমা পার্ক হেভেনের জমির মালিক ওমর জামান বলেন, চুক্তি ছিল ভবনের ৪০ ভাগ ফ্ল্যাট তাকে দিয়ে বাকি ৬০ ভাগ ফ্ল্যাট নিবে গোল্ড ডায়মন্ড। তাই দেড় কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি ভেঙে তিনি এখন ভাড়া বাসায় আছেন।

গ্রাহকদের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকদের সঙ্গে তার কোনো চুক্তি হয়নি। এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। জাফর ইকবাল জানান, নাজমা পার্ক হেভেনে ফ্ল্যাট দেয়ার কথা বলে তার ভাগিনার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন পিন্টু সাহা।

পিন্টু সাহার মেজো ভাই পিয়াস সাহা বলেন, তার দুই ভাই পিন্টু এবং মন্টু শনিবার থেকে স্ত্রী-সন্তানসহ বাসায় নেই। কোথায় গেছে তিনি জানেন না। তাদের ফোনও বন্ধ। মানুষ তাদের টাকার জন্য তার কাছে আসছেন। তিনি তাদের ব্যবসার বিষয়ে কিছু জানেন না। বাড়িটিও তারা ব্যাংকে বন্ধক রেখেছেন বলে তিনি জানান। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে এখনও কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি, ক্ষতিগ্রস্তরা চাইলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।