র‌্যাবের অভিযান

মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় সুনসান নীরবতা

  স্পোর্টস রিপোর্টার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্লাবগুলোর সামনের বড় বাতিগুলো অনেকটাই নিষ্প্রভ। কর্মকর্তারা কেউ কেউ গাঢাকা দিয়েছেন, যারা আছেন তারাও ক্লাবমুখো নন। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সদ্যদের দেখে ভয়ে ক্লাবপাড়ার পথে যাচ্ছেন না পথচারীরাও। ক্যাসিনো বন্ধ ও র‌্যাবের হাতে যুবলীগ নেতাসহ বহু ব্যক্তি আটকের পর এমন দৃশ্য দেখা গেছে রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরেরপুল ও আরামবাগের ক্লাবপাড়ায়। অথচ দু’দিন আগেও লোকারণ্য থাকত এসব এলাকা।

একসময় ঢাকা স্টেডিয়াম চত্বরে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম) ছিল বিভিন্ন ক্লাব। ১৯৮৯ সালে স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বিভিন্ন ক্লাবকে স্থানান্তর করা হয় মতিঝিল, আরামবাগ ও ফকিরেরপুল এলাকায়। এক ডজনের বেশি ক্লাব হওয়ায় মানুষের মুখে মুখে এলাকার নাম হয়ে যায় ক্লাবপাড়া। কিন্তু বরাদ্দ পেয়ে ছাউনি গেড়ে বসার পর থেকেই জুয়ার আড্ডায় পরিণত হয় ক্লাবগুলো। যেসব ক্লাব এক সময় ফুটবলে মোহামেডান-আবাহনীকে চোখ রাঙাত, তারা যেন খেলাই ভুলে গেছে। এখন লড়াই তো দূরের কথা, মান রক্ষাও সম্ভব হয় না। ক্লাব কর্তৃপক্ষ নামকাওয়াস্তে খেলায় অংশ নিয়ে মূলত জুয়ার আসর চালানোয় ব্যস্ত থাকেন। বেশির ভাগ ক্লাবেই দুপুরের পর থেকে জুয়ার আসর বসে, চলে সারা রাত। প্রত্যেক ক্লাবেই আছে তাসের ঘর, ওয়ান-টেন এবং হাউজি খেলার ব্যবস্থা। একসময় হাজারে খেলা হতো। পরে এলাকার মানুষের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে ১০০ টাকায় খেলা শুরু হয়।

জানা গেছে, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, ওয়ান-টেন, ওয়ান-এইট, তিন তাস, নয় তাস রেমি, ফ্ল্যাশসহ ইনডোর গেমস নামে চলে এসব জুয়া। এর মধ্যে রেমি ও হাজারি খেলায় আয়োজকরা নেন বিজয়ীদের কাছ থেকে ২০ ভাগ, ফ্ল্যাশ ও কাটাকাটিতে ১০ ভাগ। মোটা অঙ্কের লেনদেন হয় হাউজিং বাম্পার ও ওয়ান-টেনে। এখান থেকে ক্যাসিনো আয়োজকদের বোর্ডের জমা পড়ে টাকার ৩০ ভাগ। এভাবে প্রতি আসর থেকে বিপুল টাকা আয় করে থাকেন আয়োজকরা। অপর দিকে অনেক জুয়াড়িই ঘরে ফেরেন নিঃস্ব হয়ে।

এর আগেও দু-একটি ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু বুধবার র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযানের পর জনমানবহীন হয়ে পড়েছে ক্লাবগুলো। জুয়ার আসর লণ্ডভণ্ড হলেও শিগগিরই ক্লাবগুলোতে ক্রীড়া মনোভাব ফিরবে না বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও কোচ গোলাম সারোয়ার টিপু। তিনি বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি খেলার পরিবেশ ফিরবে না ক্লাবপাড়ায়। সেই পরিবেশ আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। যারা খেলাধুলাকে উপভোগ করত, তারা সরে গেছে। এসব জায়গা গুণ্ডা-পাণ্ডাদের হাতেই থাকবে। অর্থ উপার্জন করতে হবে, তাই এগুলো করেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যারা খেলাধুলা করেছে, খেলা অন্তঃপ্রাণ- তারা কি আসবে?’

এদিকে গুটিকয়েক ক্লাবের জন্য অন্য ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় দলের আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু। তার ভাষায়, ‘মতিঝিল পাড়ার ক্লাবগুলোতে খেলার পরিবেশ কখনোই ছিল না। তবে কয়েকটি ক্লাবের জন্য সব ক্লাবকে দোষারোপ করা যায় না। ঢাকা আবাহনী, বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল ক্লাবে তো কোনো জুয়া চলে না। ব্রাদার্সেরও সেরকম ব্যবস্থা নেই। যেসব ক্লাবের নাম এসেছে, সেখানে ক্লাবের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে বেশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘শুদ্ধি অভিযান একটি সাহসী পদক্ষেপ। এমন পদক্ষেপ ও ক্রীড়া পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানাই। যোগ্য সংগঠক যারা হারিয়ে যাচ্ছে তাদের এসব জায়গায় আনতে পারলে পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাবে ক্লাবগুলো। এখন নতুনভাবে এই যাত্রা শুরু হবে বলে আশা করি।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×