রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সংবাদ সম্মেলন

গণপরিবহনে শৃঙ্খলায় বাধা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বছরে হাজার কোটি টাকার বেশি চাঁদাবাজি * আট মাসে ২৯১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত ৩২৯৩ জন * সড়ক পরিবহন আইন দ্রুত কার্যকর ও সংশোধনের দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গণপরিবহনে শৃঙ্খলায় বাধা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট

সড়ক পরিবহন ঘিরে গড়ে ওঠা চাঁদাবাজ চক্র এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে দাবি করেছে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংগঠনটি বলেছে, দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা চক্র গণপরিবহন খাতে বছরে হাজার কোটি টাকার বেশি চাঁদাবাজি করে। গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছিলেন, তাও আলোর মুখ দেখেনি এ চক্রের কারণে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শনিবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়নে বিলম্ব : জনমনে হতাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান ড. অধ্যাপক এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, বাংলাদেশের সমজাতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন প্রমুখ।

সাইদুর বলেন, দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠা চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটই মূলত গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গত বছর প্রধানমন্ত্রী ৫ দফা সুপারিশ করেছিলেন, সেগুলোর বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখেনি এ সিন্ডিকেটের কারণে। তিনি বলেন, গণপরিবহন খাতে বছরে হাজার কোটি টাকার বেশি চাঁদাবাজি হয়। এ চাঁদাবাজি প্রধানত ৩ পদ্ধতিতে হয়। প্রথমত, দৈনিক মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকা চাঁদা ও দ্বিতীয়ত, বাস-মিনিবাস নির্দিষ্টপথে নামাতে মালিক-সমিতি সংগঠনের চাঁদা (বাসপ্রতি ২-২৫ লাখ টাকা) এবং তৃতীয়ত, রাজধানী ও আশপাশে কোম্পানির অধীনে বাস চালাতে ওয়েবিল বা গেটপাস চাঁদা (প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি টাকা)। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে প্রণীত সড়ক পরিবহন আইনে জামিন অযোগ্য ধারা, সাজা ও জরিমানা বৃদ্ধির বিধান থাকায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকেরা তা বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের আপত্তির কারণে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। মালিক-শ্রমিকরা কি সরকারের চেয়ে শক্তিশালী? রাষ্ট্রের চেয়ে বড়? তাহলে সরকার তাদের কেন আশকারা দিচ্ছে?

দুর্ঘটনা কমাতে গণপরিবহন পরিচালনায় পদ্ধতি বদলানোর দাবি জানিয়ে সাইদুর রহমান বলেন, সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্য, ত্রুটিপূর্ণ মোটরযান চালানো ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা ইত্যাদি কারণে মামলা ও জরিমানা হয়।

এ জরিমানার টাকা কোথায় যায়? কোন খাতে ব্যয় হয়? এ অর্থের হিসাব ও জবাবদিহিতা না থাকলে পুলিশ সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে জরিমানা করার কাজেই উৎসাহিত হবে।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যেসব গাড়ির ফিটনেস ও রুট পারমিট নেই এবং চাঁদা দিয়ে প্রশাসন ম্যানেজ করে চলাচল করে সেগুলোই বেশি বেপরোয়া আচরণ করে এবং দুর্ঘটনা ঘটায়। তিনি জানান, গত ৮ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৯১৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ২৯৩ জন।

বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, আইন ও ফাইন দিয়ে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। এজন্য চালকদের অধিকার ও দাবিগুলোর প্রতিও নজর দিতে হবে। তাদের জন্য কোনো কর্মঘণ্টা নেই, বিশ্রামের ব্যবস্থা নেই। তাদের অনেক না পাওয়ার হতাশা আছে, গ্লানি আছে। আমরা সড়ক পরিবহন আইন করতে গিয়ে যেন তাদের প্রতিপক্ষ মনে না করি। তিনি বলেন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস ফির টাকা দিয়ে একটি ফান্ড গঠন করা যেতে পারে। কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে ওই ফান্ড থেকে তার পাশে দাঁড়ানো যাবে।

দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, নতুন সড়ক পরিবহন আইনে বেশকিছু অসঙ্গতি আছে। এ আইনে ফান্ড ব্যবস্থাপনায় আদালতের জুরিসডিকশনকে অস্বীকার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হওয়া ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের জন্য যেন আদালতে যেতে না পারেন, তা এ আইনে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ আইনে ক্ষতিপূরণের জন্য একটি আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ যেন দুর্ঘটনায় পতিত ব্যক্তির অধিকার নয়, সরকারের দয়া-দাক্ষিণ্যের বিষয়।

মিজানুর রহমান খান বলেন, ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট অ্যাক্ট ১৮৫৫ নামে একটি আইন কার্যকর আছে। ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে কারও যানমালের ক্ষতি করা হলে এ আইনে মামলা করতে পারে। এতে আদালত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে দিতে পারেন। ভারত ও ব্রিটেনে এ আইনটি কার্যকর রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আইনে যেসব দুর্বলতা আছে সেগুলো দ্রুত সংশোধনেরও দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×